বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > রঙ বদলের টলিউডে 'ফ্যাসিবাদী' চোখ রাঙানির বিরুদ্ধে নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের ঐক্যের গান
ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক, গানে গানে বার্তা টলিউডের একাংশের
ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক, গানে গানে বার্তা টলিউডের একাংশের

রঙ বদলের টলিউডে 'ফ্যাসিবাদী' চোখ রাঙানির বিরুদ্ধে নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের ঐক্যের গান

  • ভোটের আবহে একুশের গণ সংগীত নিয়ে হাজির নবীন-প্রবীন বুদ্ধিজীবীরা। 

‘শিব ঠাকুরের আপন দেশে, আইন-কানুন সর্বনেশে’- সুকুমার রায়ের একুশের আইনের এই লাইন দিয়েই শুরু টলিউডের বুদ্ধিজীবীদের ‘নিজেদের মতে , নিজেদের গান’। বিধানসভা ভোটের আবহে সরগরম রাজ্য রাজনীতি, আর এই উত্তপ্ত পরিবেশেই ঐক্যের গান নিয়ে হাজির বাংলার নবীন-প্রবীন বুদ্ধিজীবীদের তিন প্রজন্ম। গানের প্রতিটি অক্ষরে ঝরে পড়েছে প্রতিবাদ। প্রতিবাদ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে, প্রতিবাদ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে, তবে এক সুরে সুর মিলিয়ে তাঁরা বলেছেন- ‘আমি অন্য কোথাউ যাবো না, আমি এই দেশেই থাকব’। 

বর্তমানে কার্যত দু-ভাগে বা বলা যায় দুই রঙে বিভক্ত টলিউডে। কেউ সবুজ তো কেউ গেরুয়া, তবে আরও একটা শিবির রয়েছে। যাঁরা প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে দূরে ‘রংহীন’ গোষ্ঠী। তাঁদের অনেকেই যদিও বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী।

মিনিট ছয়েকের এই ভিডিয়োয় একফ্রেমে লেন্সবন্দি তিন প্রজন্মের শিল্পীরা। এই গানটি অনিবার্ণ ভট্টাচার্যের লেখা। ২০১৯ সালে রামলীলা ময়দান থেকে শুরু হওয়া এক মিছিলে হাঁটার এই গান লিখেছিলেন অনির্বাণ। সঙ্গে ছিলেন ঋদ্ধি সেন ও ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়। সেই সময় থেকেই ভিডিয়ো তৈরির পরিকল্পনা ছিল, অবশেষে একুশের ভোটের আগেই হাজির এই গণ সংগীত। সুর দিয়েছেন শুভদীপ গুহ। এই ভিডিয়োয় দেখা মিলেছে কৌশিক সেন, রেশমী সেন, ঋদ্ধি সেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অনুপম রায়, রূপঙ্কর বাগচী, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, চন্দন সেন, রাহুল চট্টোপাধ্যায়, দেবলীনা দত্ত, সুমন মুখোপাধ্যায়দের মতো একাধিক তারকা। সিটিজেন ইউনাইটেডে-এর ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে এই গান। যার ভিউ সংখ্যা প্রায় এক লাখ ছুঁইছুঁই। 

ভারতবর্ষের বহুত্ববাদ রক্ষার লড়াইয়ে এই গান। এই গানের অন্যতম কাণ্ডারী ঋদ্ধি সেন হিন্দুস্থান টাইমস বাংলাকে জানালেন, ‘আজকে রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক বক্তব্য রাখতে গেলে বা প্রশ্ন করতে গেলে কী রাজনৈতিক দলের অংশ হওয়াটা খুব জরুরি? নাকি নিজেদের কথা বলাটা জরুরি। জানুয়ারি মাস থেকে যা দেখলাম বিভিন্ন মানুষজন এক দল থেকে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। শুধু যে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে হচ্ছে না আশা করছি সেটা সাধারণ মানুষ এতদিনে বুঝতে পেরে গিয়েছে। ২০২১ এসেই, ভোটের আগে তাঁদের রাজনৈতিক দল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবনা মানে বিশেষ কোনও দলের কথা বলতে হবে তেমন নয়, আমরা নিজেদের মতো করে নিজেদের কথাটা বলবার চেষ্টা করেছি’। 

এই শিহরণ জাগানো মিউজিক ভিডিয়ো পরিচালনার দায়িত্ব যৌথভাবে সামলেছেন ঋদ্ধি ও ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়। ঋতব্রতর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হিন্দুস্থান টাইমসকে জানালেন, ‘ গানটা অসম্ভব ভালো লিখেছে অনির্বাণদা, গানটা এক বছর আগে যখন রেকর্ড করি তখন সুরটাও খুব ভালো লেগেছিল। যাঁরা যাঁরা এই ভিডিয়োতে রয়েছেন, তাঁরা কেউই ভোটের আগে পতাকা ধরে প্রার্থী হতে যাননি, কিন্তু একটা স্ট্যান্ড নিয়েছেন।…. গানটা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। প্রচুর মানুষ দেখছে, এটা ভালো লাগছে। তবে নেগেটিভ ফিডব্যাক তো আটকাবে না। বিজেপির আইটি সেলে এমন অসম্ভব ভালো কিছু মানুষ করে যাঁরা খুব ভালোভাবে ঘৃণা ছড়াতে পারে। নিজেদের কাছে তাঁরা খুব ভালো। সেটা এখনও শুরু হয়নি এটা দেখলাম..আস্তে আস্তে আসবে হয়ত। মানুষের কাজের প্রতি অঙ্গীকারটা ভালো লেগেছে, সেটা খুব ভালো লাগছে’। 

অন্যদিকে অভিনেত্রী-সংগীতশিল্পী সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায় নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের এই মেলবন্ধন নিয়ে জানান, ‘বেসিক্যালি বয়সটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সম মানসিকতার মানুষরা একজোট হয়েছেন একটা বক্তব্য বলবার জন্য, সেটা বেশি জরুরি। আমরা সত্যি খুব ভাগ্যবান সে সকলে রাজি হয়েছেন, এটা উপলদ্ধি করেছেন এই মুহূর্তে মানুষের কাছে এই বার্তাটা পৌঁছে দেওয়াটা জরুরি’।

ভারত বহুত্ববাদের দেশ, সর্বধর্ম সমন্বয়ের দেশ। ‘নানা জাতি,নানা ভাষা, নানা পরিধান’-এর দেশ। গানের প্রতিটি লাইনে, ভিডিয়োর প্রতিটি ফ্রেমে বার্তা ‘ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক’। মোদী-তন্ত্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে বাংলার শিল্পীরা বললেন- ‘তুমি পুরাণকে বলো ইতিহাস, ইতিহাসকে বলো পুরানো… তোমার ভক্তিতে দাগ রক্তের তুমি কাউকেই ভালবাসো না… তুমি বেসাতি করতে এসেছ, দেশপ্রেমের কিছুই জানো না’।

বন্ধ করুন