খবরটা আগেই এসেছিল। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান। ৫৮ বছর বয়সে থামল তাঁর জীবনের পথচলা। কাজ করেছেন শতাধিক ছবিতে। কাজের জন্য পেয়েছেন বহু পুরস্কারও। শনিবারই তাঁর জানাজা হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রয়াত অঞ্জনা রহমান
জানা গিয়েছে শনিবার, ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে ১ টা ১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন অঞ্জনা রহমান। বহুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই প্রয়াত হয়েছেন বাংলাদেশের এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী।
শনিবারই জানাজা হবে তাঁর, খবর এমনি। এফডিসিতে জানাজা হবে বলেই জানানো হয়েছে। অঞ্জনা রহমানের মৃত্যুর খবর বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন ওপার বাংলার শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।
অঞ্জনা রহমান বাংলাদেশের এক সময়ের দাপুটে অভিনেত্রী ছিলেন। কাজ করেছেন প্রায় ৩০০ টির বেশি ছবিতে। পরিণীতা ছবিটির জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বর্তমানে তাঁর ২ মেয়ে এবং ১ ছেলে আছেন।
অঞ্জন রহমান একজন নৃত্যশিল্পীও ছিলেন। সেখান থেকেই অভিনেত্রী হন তিনি। ১৯৭৬ সালে তাঁকে প্রথমবারের জন্য বড় পর্দায় দেখা যায়। সেতু ছবি ছিল তাঁর প্রথম কাজ। বাংলাদেশি ছবি তো বটেই, কাজ করেছেন বহু বিদেশি ছবিতেও। এরপর তিনি দস্যু বনহুর, অশিক্ষিত, চোখের মণি, অভিযান, রাজার রাজা, নাগিনা, জিঞ্জির, ইত্যাদির মতো ছবিতে কাজ করেছেন।
কী হয়েছিল অঞ্জনা রহমানের?
অঞ্জনা রহমান প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন বলেই জানা গিয়েছে। প্রথমে জ্বর হয় তাঁর। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসত তাঁর। ওষুধেও কাজ হচ্ছিল না। পরে জানা যায় রক্তে সংক্রমণ হয়েছে তাঁর। প্রথমে তাঁকে ভর্তি করানো হয় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই কিছুদিন ভর্তি ছিলেন তিনি। সিসিইউতে ছিলেন। কিন্তু সেখানেও চিকিৎসায় বিশেষ সাড়া দিচ্ছিলেন না। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত বুধবার, ১ জানুয়ারি তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি। কখনও সাড়া দিতেন চিকিৎসায়। কখনও আবার অবনতি হচ্ছিল তাঁর স্বাস্থ্য। এদিন সমস্ত চেষ্টাকে বিফল করে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন তিনি।