বাড়ি > বায়োস্কোপ > ধর্মা,যশ রাজের সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী ছিল সুশান্ত, দুবার আমাকে ফিরিয়েছে : বিস্ফোরক অনুরাগ কশ্যপ
বিস্ফোরক অনুরাগ কশ্যপ 
বিস্ফোরক অনুরাগ কশ্যপ 

ধর্মা,যশ রাজের সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী ছিল সুশান্ত, দুবার আমাকে ফিরিয়েছে : বিস্ফোরক অনুরাগ কশ্যপ

  • পরিচালক অনুরাগ কশ্যপের দাবি হাসি তো ফাসি এবং মুক্কাবাজ ছবিটি সুশান্তকে অফার করেছিলেন তিনি। কিন্তু যশ রাজ ফিস্মস ও ধর্মা প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করার জন্যই অনুরাগ কশ্যপকে ‘না’ বলে দেন সুশান্ত। 

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই বলিউডে নেপোটিজম বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বহিরাগতরা নিজেদের যোগ্য মর্যাদা পান না বলিউডে-এমন অভিযোগ উঠেছেন নানান মহল থেকে। এবার এই বিতর্কের আগুনেই বোধহয় ঘি ঢাললেন পরিচালক অনুরাগ কশ্যপ! বলিউডের 'আউটসাইডার' অনুরাগের দাবি সুশান্ত সিং রাজপুত নাকি বলিউডের বড় ব্যানারের সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন। নির্দিষ্ট কিছু হেভিওয়েটদের কাছ থেকে ‘মান্যতা’ পাওয়ার দিকেই ছিল তাঁর প্রচেষ্টা। অনুরাগ কশ্যপ নাকি দুটো ছবি অফার করেছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুতকে। তবে অফার ফিরিয়েছিলেন অভিনেতা। 

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর খ্যাত এই পরিচালক বলেন, ‘সুশান্ত অত্যন্ত সফল অভিনেতা ছিল। তুমি নিজের কেরিয়ার নিজের পছন্দ অনুসারে তৈরি কর, তোমার ট্যালেন্টের বিচারে নয়। তুমি কী বাছবে,কার সঙ্গে কাজ করবে সেটা তোমার কেরিয়ার তৈরি করে। সুশান্ত সুপার সাকক্সেফুল ছিল এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিত’।

গ্যাংস অফ ওয়াসিপুরের কাস্টিং শেষ করেই সুশান্তের সঙ্গে প্রথম আলাপ হয়েছিল অনুরাগ কশ্যপের। পরিচালকের কথায় সেই সময় কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরা তাঁর অফিস থেকেই কাজ করত। উল্লেখ্য সুশান্তের প্রথম ছবি কাই পো ছে'র কাস্টিং ডিরেক্টর ছিলেন মুকেশ,যিনি সুশান্তের শেষ ছবির পরিচালক। প্রথম দেখায় কী কথা হয়েছিল সুশান্ত আর অনুরাগের?  অনুরাগ কশ্যপ জানিয়েছেন, আমি বলেছিলাম তুই বিহারের ছেলে? আগে দেখা হলে তোকে পাক্কা ছবিতে নিতাম'। এরপর অনুরাগ কশ্যপই নাকি সুশান্তের নাম রেফার করেছিলেন পরিচালক অভিষেক কাপুরকে। যিনি সেই সময় কাই পো ছে'র জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন।

অনুরাগ কশ্যপের দাবি তিনি নিজের প্রোডাকশন হাউজে তৈরি হাসি তো ফাসি ছবির জন্য সুশান্তকে অফার দিয়েছিলেন। ছবির নায়িকা হিসাবে পরিণীতির নাম ঠিক হয়ে গিয়েছিল। তবে সেই সময় অনুরাগ কশ্যপের অফার নয় যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে তিন ছবির চুক্তি স্বাক্ষর করেন সুশান্ত।

‘যশ রাজ থেকে ওকে ফোন করা হয়েছিল এবং বলা হয় আমরা তোমাকে তিন ছবির একটা চুক্তি অফার করছি।তুমি শুদ্ধ দেশি রোম্যান্সে কাজ কর। সুশান্ত যে আমার অফিসে মুকেশের সঙ্গে সারাক্ষণ বসে থাকত সে হাসি তো ফাসি ছেড়ে দিয়েছিল যশ রাজের সঙ্গে কাজ করবে বলে। যেই ছবিটা একজন আউটসাইডারের ছবি ছিল।কারণ ও যশ রাজের মতো বড়ো ব্যানারের কাছে মান্যতা চেয়েছিল। সেটা কে কোনও অভিনেতার স্বপ্ন হতেই পারে, আমার কোনও ক্ষোভ ছিল না,আজও নেই’, বললেন অনুরাগ কশ্যপ।

এরপর ২০১৬ সালে আরও একটি ছবির অফার সুশান্তকে দিয়েছিলেন অনুরাগ। ‘কয়েক বছর পর, ২০১৬ সালে এমএস ধোনি:দ্য আনটোল্ড স্টোরি মুক্তির আগে মুকেশ সুশান্তকে গিয়ে বলেছিল অনুরাগ কশ্যপ একটা ছবির চিত্রনাট্য লিখেছে এবং একজন অভিনেতার খোঁজ করছে যে উত্তর প্রদেশ বা সংলগ্ন এলাকার কেউ হবে। এরপর ধোনি রিলিজ করল,সফল হল এবং আমাকে কোনওদিন পাল্টা ফোন করল না সুশান্ত। কিন্তু আমি রাগ করিনি। আমি নিজের মতো করে মুক্কাবাজ ছবি বানিয়েছি’, বললেন অনুরাগ কশ্যপ।

অনুরাগের কথায় যে কোনও বহিরাগত যখন সুপারস্টার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বলিউডে আসে, তাঁরা চায় যশরাজ ফিল্মস, করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশন, কিংবা সঞ্জয় লীলা বনশালির সঙ্গে কাজ করতে। ‘সেই মান্যতার খোঁজ তুমি করছো তার জন্য তোমাকে কেউ দোষী বলতে পারবে না। সেটা তোমার সিদ্ধান্ত, একান্ত নিজের। কিন্তু সেটাকে কীভাবে সামলাবে সেটা তোমাকেই বুঝতে হবে। ছেলেটার মধ্যে অনেক প্রতিভা ছিল কিন্তু ও আমার ছবির বদলে ড্রাইভ বেছে নিয়েছিল কারণ ও ধর্মা প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিল’।

বন্ধ করুন