বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘অপরাজিত’ ২৫ দিন: বাংলা সিনেমার এক নতুন মাইলস্টোন গাঁথা হয়ে রইল
কেন ‘অপরাজিত’ বাংলা ছবির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক?

‘অপরাজিত’ ২৫ দিন: বাংলা সিনেমার এক নতুন মাইলস্টোন গাঁথা হয়ে রইল

  • শিল্পকর্ম থাকলে তার সমালোচনা থাকবেই, এর মধ্যে কোন ভুল নিশ্চিত ভাবেই নেই। সেই একই ভাবে ‘অপরাজিত’র ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠেছে— সিনেমার গতি শ্লথ কি না বা তথ্যের বিকৃতি হয়েছে কি না বা কিছু ক্ষেত্রে কাস্টিং অন্যরকম হতে পারত কি না।

রণবীর ভট্টাচার্য

অনীক দত্ত পরিচালিত 'অপরাজিত' দেখতে দেখতে ২৫ দিন সগৌরবে পাড় করে ফেলল। দর্শক আপ্লুত, বিশেষ করে পর্দায় সত্যজিত রায়কে নিয়ে এরকম ট্রিবিউট দেখার সুযোগ বারবার হয় না। সিনেমাটির রিলিজের আগে অনেকেই তোফা জানিয়েছিলেন যে সত্যজিত রায়ের চরিত্রে জিতু কামালকে রক্তমাংসের নায়ক মনে হয়েছে। তবে সিনেমাটি দেখা পর সবার বক্তব্যই মোটামুটি এক ব্যাপারে একমত যে জিতু সফলভাবে পর্দার সত্যজিত ওরফে অনীক দত্তের অপরাজিত রায়কে প্রাণ দিতে পেরেছেন। তাই এখানেই সিনেমার সাফল্য।

টলিউড হোক, বা বলিউড বা কলিউড কিম্বা হলিউড - বক্স অফিসের ফর্মুলা খুব আলাদা নয়। সিনেমা দেখিয়ে টাকা তুলতে গেলে পর্দায় বড় নাম থাকতে হবে, এই অমোঘ সত্যি মানেন অনেকেই। কিন্তু এর বাইরেও যেন কখনো কখনো অন্যথা হয়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ অপরাজিত। সেই হিসেবে কোন বড় নাম না থেকেও মানুষ গ্রহণ করেছেন এই সিনেমা। কপিরাইট কিম্বা আইনি জটিলতা এড়িয়ে যেতেই এই সিনেমায় সত্য জিত হয়েছেন অপরাজিত, হরিহর হয়েছেন হরিমাধব, সর্বহারা হয়েছেন সর্বমঙ্গলা..। তবে শেক্সপিয়ার তো কবেই বলে গিয়েছেন যে নামে কি আর যে আসে! তাই আরো বেশ কিছু সপ্তাহ সিনেমা হলের ব্যাটিং ক্রিজে অপরাজিত থাকার আশা দেখা যাচ্ছে।

শিল্পকর্ম থাকলে তার সমালোচনা থাকবেই, এর মধ্যে কোন ভুল নিশ্চিত ভাবেই নেই। সেই একই ভাবে ‘অপরাজিত’র ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠেছে— সিনেমার গতি শ্লথ কি না বা তথ্যের বিকৃতি হয়েছে কিনা বা কিছু ক্ষেত্রে কাস্টিং অন্যরকম হতে পারত কিনা। তবে নিঃসন্দেহে বিজয়া রায় চরিত্রের উপর পরিচালকের আলোকপাত বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া শুটিং চলাকালীন বিভিন্ন খুঁটিনাটি চিত্রনাট্যের মধ্যে নিয়ে আসা বিশেষ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়। সিনেমা জুড়ে সাদা কালো ছবি আর পুরনো দশককে ফিরিয়ে আনার আন্তরিক প্রচেষ্টা সিনেমাটোগ্রাফারের অসাধারণ কৃতিত্ব।

এই সিনেমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ অবশ্যই চন্দ্রাশিস রায়ের গলা। অপরাজিত রায়ের চরিত্রকে সত্যজিত রায় করার জন্য ওই ব্যারিটোনের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। পুরো সিনেমা যেন সত্যজিৎময়, অথচ কোথাও বাড়তি দেখনদারি বা জোর করে নস্টালজিয়া আনার প্রচেষ্টা নেই।

অনেকেই বলেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা সত্যজিত রায় নিয়ে বাঙালির মাত্রাতিরিক্ত আবেগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুণগত শিল্পকর্মে পরিচয় পায়নি। তবে অপরাজিত সেই আঙ্গিকে অনেকটাই সফল বলা যেতে পারে। বাঙালি দর্শক সাদা কালো সিনেমা লাইন দিয়ে টিকিট কেটে দেখছে, এটা বোধহয় সবচেয়ে বড় পাওনা।

বন্ধ করুন