বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > গল্প চুরি করেছেন শ্রীজাত! 'অদ্ভুত অভিযোগ' এর জবাব দিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক স্বয়ং
শ্রীজাতর বিরুদ্ধে 'গল্প চুরি'-র অভিযোগ এনেছেন লেখক কনিষ্ক ভট্টাচার্য (বাঁ দিকে)।
শ্রীজাতর বিরুদ্ধে 'গল্প চুরি'-র অভিযোগ এনেছেন লেখক কনিষ্ক ভট্টাচার্য (বাঁ দিকে)।

গল্প চুরি করেছেন শ্রীজাত! 'অদ্ভুত অভিযোগ' এর জবাব দিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক স্বয়ং

  • এবার গল্প চুরির অভিযোগ উঠল প্রখ্যাত সাহিত্যিক শ্রীজাত-র বিরুদ্ধে! কোনও অনুপ্রেরণা নয়, যাকে বলে সরাসরি চুরি।

এবার গল্প চুরির অভিযোগ উঠল শ্রীজাত-র বিরুদ্ধে! কোনও অনুপ্রেরণা নয়, যাকে বলে সরাসরি চুরি। অভিযোগকারীর নাম? কনিষ্ক ভট্টাচার্য। পেশায় তিনিও লেখক।

তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরের আনন্দবাজার পূজাবার্ষিকীতে বিখ্যাত সাহিত্যিকের লেখা একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। নাম, 'খরগোশ আর মারুবেহাগ'। সেই উপন্যাসই নাকি শ্রীজাত নিয়েছেন তাঁর লেখা 'শংকর কবিচন্দ্র বা রামকৃষ্ণ রায় যে আখ্যান লেখেননি' শীর্ষক ছোটগল্প থেকে। জোর গলায় কনিষ্কবাবু দাবি জানিয়েছেন গল্পের প্লট থেকে চরিত্রের ধরণ, সবকিছুতেই তাঁর লেখা সেই গল্পের সঙ্গে শ্রীজাতর লেখা গল্পের অদ্ভুত মিল। এমনকি তাঁদের দুই লেখকের এই দুই গল্পের চরিত্রদের নামেও নাকি মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। নিজের অভিযোগ তিনি ফেসবুকেও তুলে ধরেছেন।

ফেসবুকে কনিষ্ক ভট্টাচার্য লিখছেন যে ২০১৮ সালে বাতিঘর পত্রিকায় তাঁর ওই ছোট গল্প 'শংকর কবিচন্দ্র বা রামকৃষ্ণ রায় যে আখ্যান লেখেননি' প্রকাশিত হয়েছিল। তার সঙ্গে শ্রীজাতরর 'খরগোশ আর মারুবেহাগ' এর অদ্ভুত কাকতালীয় মিল। বিষয় ছিল বিশ্বায়নের ফলে হারিয়ে যেতে থাকা শিল্প। শ্রীজাতরও গল্পের বিষয়বস্তু এক। তারপর দুই ক্ষেত্রেই হারিয়ে যাওয়া শিল্পের প্রধান চরিত্র এক জাদুকর ও তাঁর বন্ধু এক সংগীতশিল্পী। শ্রীজাতর গল্পে বন্ধুটি অবশ্য সানাইবাদক। পাশাপাশি তিনি লেখেন তাঁর এই গল্পের জাদুকরের নাম হর। যা শিবের নাম আমার গল্পের জাদুকরের নাম হর। যা শিবের নাম। শ্রীজাত জাদুকরের নাম দিয়েছেন মোহিনী, নারায়ণের প্রতারক রূপ। 

লেখায় তিনি আরও দাবি জানিয়েছেন যে তাঁর গল্পে জাদুকরি নিজের পরিচয় দেন 'হ্যারি দ্য ম্যাজিশিয়ান' আর শ্রীজাতর গল্পে ' ব্রিগেঞ্জা দ্য ব্রিলিয়ান্ট'। কণিষ্কর গল্পের চরিত্র গুরুপত্নীর প্রেমে পড়েছিল। সেখানে শ্রীজাতর সৃষ্ট চরিত্র প্রেমে পড়ে গুরুকন্যার। এখানেই শেষ নয়, কনিষ্ক আরও লিখেছেন তাঁর গল্পেজাদুকরের সঙ্গিনীর নাম ছিল মহামায়া সেখানে শ্রীজাতর গল্পের জাদুকরের সঙ্গিনীর নাম মায়া। এখানেই শেষ নয়। ভুলে যাননি এও দাবি করতে যে তাঁর গল্পে মাচা শিল্পী অনঙ্গ দাস অন্তরে নারী হলেও, শরীরে পুরুষ। যৌন পরিচয়ে সমপ্রেমী। শ্রীজাত চরিত্রের সমপ্রেমী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গিয়েছেন মঞ্জীর চরিত্রে।

এই প্রসঙ্গে আনন্দবাজারে চিঠিও লিখেছেন কণিষ্কবাবু। পাল্টা 'অদ্ভুত অভিযোগ' শীর্ষক কলামে গোটা বিষয়টি স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন শ্রীজাত। স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি এই অভিযোগের বিরোধিতা করছেন এবং সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছে এই অভিযোগও। শ্রীজাতর সঙ্গে হিন্দুস্তান টাইমসের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, তিনিও পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করেছেন। তাঁর কলামের শেষ অংশ আগামীকাল প্রকাশিত হবে। জবাব সেখানেও থাকবে। তা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে আপাতত মুখ খুলতে চাইছেন না তিনি।

বন্ধ করুন