রতন কাহারের লেখা ও সুর করা বড়লোকের বিটি লো গানের রিক্রিয়েশন বাদশার গেন্দা ফুল (ছবি সৌজন্যে ইউটিউব ও ইনফিনিটি ওয়েব স্টুডিও)
রতন কাহারের লেখা ও সুর করা বড়লোকের বিটি লো গানের রিক্রিয়েশন বাদশার গেন্দা ফুল (ছবি সৌজন্যে ইউটিউব ও ইনফিনিটি ওয়েব স্টুডিও)

বড়লোক হলেন বাদশা, নেপথ্যেই থেকে গেলেন বিটি লো-র আসল স্রষ্টা

বৃহস্পতিবার মু্ক্তি পেয়েছে বাদশার নতুন সিঙ্গস গেন্দা ফুল। সেই গান বাংলা লোকগান বড়লোকের বিটি লো-র রিমেক। অথচ গানের ক্রেডিটে কোথাউ উল্লেখ করা হয়নি এই গানে সুরকার ও গীতিকারের নাম। রতন কাহারের নাম।

রোদ্দুর রায়ের হাতে বাঙালি সংস্কৃতির অপমৃত্যু ঘটছে। রবীন্দ্রনাথের গানকে বিকৃত করে যুবসমাজকে ভুল জিনিস পরিবেশন করার জন্য এই রোদ্দুর রায়কে নিয়ে কম কাঁটাছেঁড়া চলেনি সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। কিন্তু বাদশার 'গেন্দা ফুল' নিয়ে বাঙালি কী বলবে? দুদিন আগেই সোনি মিউজিক ইন্ডিয়ার লেবেলে মুক্তি পেয়েছে পঞ্জাবি ব়্যাপার বাদশার এই গান।

প্রচলিত বাংলা লোকগান 'বড়লোকের বিটি লো..'-র রিক্রিয়েশন বাদশা ও পায়েল দেবের এই গান। যে গানে জ্যাকলিনের শরীরের হিন্দোলে এক কথায় ঝড় উঠে গেছে নেট দুনিয়ায়। রিক্রেয়েশনের পর এই গানে যে পঞ্জাবি ব়্যাপের অংশ যোগ করা বিতর্কিত লিরিকস নিয়ে না হয় কাটাছেঁড়া পরে হল, তবে একথা অনেকেই হয়ত খেয়াল করেননি 'বড়লোকের বিটি লো..'র আসল স্রষ্টাকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদাটুকু দেওয়া হয়নি এই গানে। ইউটিউবে সং ক্রেডিটের জায়গায় অরিজিন্যাল লিরিকসের পাশে লেখা রয়েছে বাংলা ফোক কিন্তু সেই লোকগানের কথা ও সুর যাঁর, সেই ব্যক্তি কে?

১৯৭২ সালে শিল্পী রতন কাহারের সৃষ্টি এই গান। স্বপ্না চৌধুরী ১৯৭৬ সালে অশোকা কম্পানির লেবেলে এই গান রেকর্ড করেছিলেন। তারপর থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই গান। কিন্তু রতন কাহার রয়ে যান লাইমলাইটের আড়ালেই। বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামের এই বাসিন্দা আজীবন অভাব-অনটনকে সঙ্গী করেই জীবনযাপন করেছেন।

লোকসঙ্গীতের চর্চা করেন এমন মানুষ ছাড়া ক'জন বাঙালি জানেন রতন কাহারের নাম? হয়ত হাতে গোনা। সেই হাতেগোনা মানুষেরই হয়তো আপত্তি রয়েছে গেন্দা ফুল গানটি নিয়ে। ফেসবুক জুড়ে তাই অনেকেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বাদশা এবং মিউজিক কম্পানির দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে।

নিজের প্রাপ্য সম্মানটা কোনওদিনই পেলেন না রতন কাহার। দুঃখ হয় না? সম্প্রতি একটি মিউজিক স্টুডিওকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে শিল্পী জানিয়েছেন, 'দুঃখ হয় না কষ্ট হয়।.. ছেলেদের জন্য খারাপ লাগে। ছেলেরা বিরক্ত হয়ে গেছে। তুমি কারুর কাছে কিছু চাইলে না, সংবর্ধনায় ওরা খুশি হয় না। দু হাজার টাকা দিলে খুশি হয়'।যোগ্য সম্মান না পাওয়ার এই আক্ষেপটা বরাবর সঙ্গে থেকেছে রতন কাহারের। তাই বাদশার গেন্দা ফুলে তাঁর নাম না থাকাটা বোধহয় খুব বেশি অবাক করবে না রতন কাহারকে। স্বপ্না চক্রবর্তীর গানের রেকর্ডও তো তাঁর নাম ছিল না। শিল্পী নিজেই জানিয়েছেন, ‘এর জন্য আমি কোনও স্বীকৃতি পায়নি। একটা পয়সা পায়নি। স্বপ্না চক্রবর্তীর রেকর্ড করা গানেও আমার নাম ছিল না’।

তাঁর বাঁধা গান গেয়ে অনেকেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন কিন্তু রতন কাহার থেকে গিয়েছেন বিস্মৃত। তবুও এখনও গান বেঁধে চলেছেন তিনি। অশীতিপর এই বৃদ্ধ শিল্পীর গলায় আপেক্ষ একটাই সুর 'রতন কাহারে কেউই চিনিল না'।


বন্ধ করুন