গেন্দা ফুল বিতর্ক নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন বাদশা (ছবি সৌজন্যে-ইউটিউব)
গেন্দা ফুল বিতর্ক নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন বাদশা (ছবি সৌজন্যে-ইউটিউব)

'গেন্দা ফুল' বিতর্ক নিয়ে সাফাই বাদশার-'রেকর্ড বলছে এটা ফোক গান', শিল্পী হিসাবে রতন কাহারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস

'রেকর্ড বলছে এটা ফোক গান। কোথাউ এই গানের গীতিকার হিসাবে রতন কাহারের নাম রেজিস্টার করা নেই'- প্রথমবার 'গেন্দা ফুল' বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন বাদশা।

গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে পঞ্জাবি ব়্যাপার বাদশার নতুন সিঙ্গলস গেন্দা ফুল। ইউটিউবে হু হু করে প্রতিদিনই বাড়ছে এই গানের ভিউ সংখ্যা। গোটা বিশ্বের প্রায় ৭ কোটি মানুষ ইতিমধ্যেই দেখে ফেলেছে 'গেন্দা ফুল'। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এই গানকে ঘিরে বিতর্কের মুখেও পড়তে হয়েছে বাদশাকে। গান চুরির অভিযোগ উঠেছে এই পঞ্জাবি ব়্যাপারের বিরুদ্ধে। তবে এতদিন এই নিয়ে মুখ খোলেননি বাদশা। অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখলেন বাদশা।

বাদশা জানান, 'গানটি মুক্তির এক-দু'দিন দিন পর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি গানের মধ্যে যে দু টো বাংলা ফোকের লাইন ব্যবহার করেছি সেটা একজন খুব বিখ্যাত এবং প্রবীণ বাঙালি শিল্পী-রতন কাহারের লেখা। এরপর আমি গোটা বিষয়টা পরীক্ষা করি। কারণ আমি জানতাম এটা ফোক গান। আমি ইউটিউবে গিয়ে দেখি-এই গানটা আগেও রিক্রিয়েট হয়েছে, ২০১৮ সালে এবং তার আগেও অনেকবার এই গানটার রিক্রিয়েশন হয়েছে। সেখানে কোথাউ লিরিকসের ক্রেডিটে রতন কাহারজির নাম ছিল না। এরপর আমি ভাবলাম ঠিক আছে কোনও সমস্যা নেই আরও খোঁজ নেওয়া যাক। আমি এরপর পারফর্মিং আর্টিস্ট সোস্যাইটির সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমি আমার লেবেলকে(সোনি মিউজিক ইন্ডিয়া) বলি আমাদের সেখানে দেখা উচিত। সেখানে ওনার নাম থাকতে পারে। যেহেতু লকডাউন চলছে, সবকিছু বন্ধ, তাই আমাদের অনেক সময় লেগে যায় রেকর্ড খুঁজে সবকিছু পরীক্ষা করতে। সেখানে কোথাউ আমরা রতন কাহারজির নাম খুঁজে পাইনি। আমরা বোঝার চেষ্টা করি সত্যি কি উনি এই গানটা লিখেছেন? ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে অনেকে ট্যাগ করতে থাকে। আমি একটা ডকুমেন্ট্রিও দেখি যেখানে রতন কাহারজি বলছেন, এই গানটা উনি লিখেছেন। কিন্তু রেকর্ড বলছে এটা ফোক গান। ফোকের অর্থ এটা বাংলার মানুষের গান'।


গানটি রতন কাহারের সেই তত্ত্ব না মানলেও প্রবীণশিল্পীর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাদশা। তিনি ইনস্টা লাইভে আরও বলেন,'যাঁরা এই ডকুমেন্ট্রিটা বানিয়েছেন, যাঁরা রতন কাহারজির শুভাকাঙ্ক্ষী আমি তাদের বলতে চাই-আমি পঞ্জাবি,আমি সংস্কৃতি ভালোবাসি। সেটা বাঙালি হোক বা গুজরাতি কিংবা পঞ্জাবি। এটা খুব সুন্দর গান-আমি চেয়েছিলাম এটা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে।... আপনাদের মাধ্যমে যাঁরা এই ডকুমেন্ট্রিটা বানিয়েছেন, যাঁরা আমাকে টুইট করছেন, যাঁরা রতন কাহারের শুভাকাঙ্ক্ষী আমি তাদের বলতে চাই আপনারা রতন কাহারকে জানান আমি তাঁকে সাহায্য করতে চাই। একজন শিল্পী হিসাবে মানবিকভাবে আমি তাঁর পাশে দাঁড়াতে চাই। আমার পক্ষে যা কিছু করা সম্ভব আমি করব। কিন্তু রেকর্ড বলছে এটা বংলা ফোক গান। কোথাউ লেখা নেই এটা রতন কাহারজি লিখেছেন। সেটা বলা সত্ত্বেও আমিও একজন শিল্পী হিসাবে জানি কেমন লাগে, আমি সত্যি ওনাকে সাহায্য করতে চাই। আমার এতটা সময় লাগল কারণ আমি পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখছিলাম। লকডাউন না হলে আমি নিজেই হয়ত পৌঁছে যেতাম'।

প্রসঙ্গত বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামের লোকশিল্পী রতন কাহার 'বড়লোকের বিটি লো' গানটি লিখেছিলেন ১৯৭২ সালে, প্রথমবার এই গানটি রেকর্ড করা হয় ১৯৭৬ সালে। স্বপ্না চক্রবর্তী এই গানটি রেকর্ড করলেও এই গানের জন্য তখনও কোনওরকম স্বীকৃতি বা সাম্মানিক দেওয়া হয়নি রতন কাহারকে। শিল্পীর কথায়, 'ক্ষমতা না থাকায় আইনি লড়াই চালাতে পারিনি'। যদিও সেটাই শেষ নয় ২০১৮ সালে বনি সেনগুপ্ত অভিনীত, ভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রযোজিত 'রাজা রানি রাজি' ছবিতেও বড়লোকের বিটিলো গানটির বেশ কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়। সেখানেও এটা উল্লেখিত হয়েছিল বাংলা ফোক বলে। ক্রেডিটে রতন কাহারের নাম সেখানে বাদ পড়ে। এছাড়াও বহু ইউটিউব চ্যানেলে যখনই এই গান আপলোড হয়েছে এবং গীতিকারের ক্রেডিটে বরাবরই উল্লেখ করা হয়েছে বাংলা ফোক।

বন্ধ করুন