বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > স্ত্রীর বিরুদ্ধে 'সন্তান খুন'-এর অভিযোগ নোবেলের, পালটা তোপ গায়ক পত্নীর
স্ত্রী মেহরুনা সালসাবিলের সঙ্গে নোবেল (ছবি-ফেসবুক)
স্ত্রী মেহরুনা সালসাবিলের সঙ্গে নোবেল (ছবি-ফেসবুক)

স্ত্রীর বিরুদ্ধে 'সন্তান খুন'-এর অভিযোগ নোবেলের, পালটা তোপ গায়ক পত্নীর

  • ‘আমি নাকি তাঁর বাচ্চার বাবা হবার যোগ্য না…জানি না এতক্ষনে আমার সম্ভব্য বাচ্চাটি জীবিত আছে নাকি ‘পিলস’ খেয়ে শিশুটির মা শিশুটিকে খুন করেছে’, ফেসবুকের দেওয়ালে লিখেছেন নোবেল।

বাবা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনবার জেরেও যে এমন বিতর্ক হতে পারে তা বোধহয় স্বপ্নেও কেউ কল্পনা করতে পারবেন না! কিন্তু আলোচ্য ব্যক্তির নাম যদি নোবেল হয় তাহলে বোধহয় সবই সম্ভব। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই নোবেল ফেসবুকে জানিয়েছিলেন ‘হয়তো আমরা মা-বাবা হতে চলেছি। আমি এবং আমার সহধর্মিনীর জন্য দোয়া করবেন’। কিন্তু নোবেলর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন গায়কের স্ত্রী মেহরুনা সালসাবিল মাহমুদ। ফেসবুক লাইভে এসে এই বিতর্কিত গায়কের স্ত্রী জানান, ‘আমি অন্তঃসত্ত্বা নই, নোবেল কেন এই মিথ্যাচার করছে আমি জানি না!’

নোবেলর বিরুদ্ধে স্ত্রীর বিস্ফোরক ফেসবুক লাইভ চমকে দেয় অনেককেই। গত ৩০শে জুন ফেসবুকে মা হওয়ার খবরকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন সালসাবিল মাহমুদ।এর ঠিক দু-দিনের মাথায় ফের ফেসবুকেই স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘সন্তান হত্যা’র মতো গুরুতর অভিযোগ আনলেন নোবেল। গায়ক জানান, মিথ্যাচার নয় বরং স্ত্রীর কাছ থেকে সন্তানসম্ভবা হওয়ার লক্ষ্ণণের কথা জেনেই আবেগতাড়িত হয়ে ওই পোস্ট লিখেছিলেন তিনি। কিন্তু এই সুখবর দেওয়ার পর স্ত্রীর কাছ থেকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। মেহরুনা নাকি তাঁকে গর্ভপাত করিয়ে ফেলবার হুমকি দেয়। 

এদিন নোবেল দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে লেখেন- 'মাতৃত্ব কেবল মাত্র একজন নারীর জন্যই পবিত্র কিংবা সম্মানের বিষয় নয়। একজন পুরুষের জন্যেও অত্যন্ত আনন্দের এবং খুব গর্বের একটি বিষয়। এগুলো নিয়ে কেউ মিথ্যাচার করেনা। একটি শিশুকে ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করেন মা। কিন্তু শিশুর পিতা কিন্তু সেই মা-কে ১০ মাস বুকে আগলে রাখে।

আমার স্ত্রী, সালসাবিল তাঁর অন্তঃসত্ত্বা হবার লক্ষণগুলো আমার সাথে শেয়ার করেন এবং তার ফলশ্রুতিতে আমি এক্সাইটেড হয়ে স্টেটাসটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করি। সম্ভব্য পিতা হিসেবে বিষয়টা কি স্বাভাবিক নয়? আপনি বাবা হবার ইঙ্গিত পেলে নিজে কি করতেন বলুন? আমি মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাবা হবার খুশি ধরে রাখতে পারিনি'।

স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া গর্ভপাতের হুমকি নিয়ে নোবেল লেখেন,  ‘…..স্টেটাসটি দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আমার স্ত্রী, সালসাবিল আমাকে ফোন করে বাচ্চা ‘এবর্শন’ (গর্ভপাত) করে ফেলবে, এই হুমকি দেয়। কারণ আমি নাকি তাঁর বাচ্চার বাবা হবার যোগ্য না। আমার অনেক হেটার্স! অনেক কন্ট্রোভার্সি। ব্যাংক ব্যালেন্স এই মুহূর্তে একটু কম। যেহেতু আমাদের শিল্পীদের গত বছর মার্চ থেকে ‘লাইভ কন্সার্ট’ বন্ধ। তাছাড়া দুজন প্রাপ্তবয়ষ্ক ছেলে-মেয়ে স্বসম্মতিতে বিয়ে করেছি, তাই আমার স্ত্রীর পিতৃপক্ষ কোনভাবেই আমাদের বিয়ে টিকতে দেবে না। এমনকি আমার ঘরের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

যদিও আমি আমার স্ত্রীকে মেডিকেল টেস্ট করবার আগেই আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে স্টেটাসটি দেই। মেডিকেল করলে হয়তো পজিটিভই আসতো। তবে যানি না এতক্ষনে আমার সম্ভব্য বাচ্চাটি জীবিত আছে নাকি ‘পিলস’ খেয়ে শিশুটির মা শিশুটিকে খুন করেছে। তবে কয়েকটি মাস পর যে শিশু বা ফেরেস্তাটি পৃথিবীর আলো দেখতো, আমার প্রাণ চলে গেলেও আমি তার প্রাণহানি হতে দিতাম না'। 

এখানেই থেমে থাকেননি নোবেল তিনি জানান, স্ত্রীর কোনও খোঁজখবরই তাঁর কাছে নেই। দেড় বছরের বিবাহিত জীবনে খুব কম সময়ই একসঙ্গে কাটিয়েছেন তাঁরা। সংসার এখনও করে উঠতে পারেননি তিনি, কারণ স্ত্রী সারাক্ষণ নিজের পরিবারকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। 

নোবেলর এই বিস্ফোরক পোস্টের পর শুক্রবার বিকালে স্ত্রী, সালসাবিল মাহমুদ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, ‘যে কথা গুলা হওয়া উচিৎ ছিল আমাদের মধ্যে অথবা মোবাইল ফোনে সেগুলো বলা হচ্ছে স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাসে। নোবেল যদি স্ট্যাটাসে দিবার মতো অবস্থায় অ্যাভেলেবল থাকে আমাকে কেন কন্টাক্ট করবে না? নাকি সে চায় কথা শুধু নিউস হবে? একের পর এক সত্য মিথ্যা মিশ্রিত স্ট্যাটাসে দিবে, আর নিজের স্ট্যাটাসে নিজেই প্রমাণ করে যে স্ত্রীর প্রতি সে কতটা উদাসিন’।

বন্ধ করুন