বাড়ি > বায়োস্কোপ > Exclusive: ‘জাতীয় স্তরে কী প্রমাণ করব? আমি অভিনয় করতে পারি’,আক্ষেপ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)

Exclusive: ‘জাতীয় স্তরে কী প্রমাণ করব? আমি অভিনয় করতে পারি’,আক্ষেপ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের

  • 'বলিউডে ট্যালেন্টের অভাব নেই, প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। আর টলিউডে আমি প্রতিষ্ঠিত,এখানে অনেক বেশি যুদ্ধ করতে হবে। কিন্তু আমি প্রস্তুত'- স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। 

মনের কথা মন খুলে বলতে ভয় পান না স্বস্তিকা। ‘কুছ তো লোগ কহেঙ্গে, লোগোগা কাম হ্যায় কহনা’, এই মন্ত্রা নিয়েই বাঁচেন স্বস্তিকা। অকপট,সাহসী-জীবনটা নিজের শর্তেই বাঁচতে ভালোবাসেন স্বস্তিকা। আমজান প্রাইমের ওয়েব সিরিজ পাতাল লোকের সৌজন্যে গোটা দেশে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি। সদ্যই মুক্তি পেয়েছে তাঁর মরাঠি ওয়েব সিরিজ আরন। কুড়ি বছরে টলিগঞ্জ তাঁকে যে পরিচিত দেয়নি, সেই সাফল্য তাঁকে এনে দিয়েছে একটা মাত্র ওয়েব সিরিজ। জীবনের এই নতুন পর্ব নিয়েই আমাদের প্রতিনিধি স্তুতি ঘোষের সঙ্গে মুম্বইতে বসেই আড্ডা দিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। 

বিতর্কিত বিষয়ে মতামত রাখতে আপনার কোনওদিনই কুন্ঠা নেই। এটা সাহসটা নিয়ে কী বলবেন? 

স্বস্তিকা: আমরা এমন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি যে আমরা কোন বিষয় নিয়ে নিজের মতামত রাখলেও মানুষ সমালোচনা করবে, নিজের স্বার্থ নেই অন্যের পক্ষ নিয়েও মানুষজন তোমার মধ্যে কোন খামতি খুঁজে বার করবে,তোমাকে নিচু দেখানোর চেষ্টা করবে। তবে আমি মনে করি নারী হিসাবে অন্য নারীর পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করাটা আমার কর্তব্য বলেই আমি মনে করি, অন্তত যেভাবে আমার পক্ষে করা সম্ভব। আমার জীবনটা আরামে কাটছে বলে ‘বাকি দুনিয়া চুলোয় যাক’ এটা আমার দ্বারা হবে না। মানুষ গালাগাল দিতে দিতে একটা সময় থেকে যাবে, আর না থামলেও সমস্যা নেই।

বাঙালিরা বাদে গোটা দেশ ভাবছে পাতাল লোক তোমার ডেব্যিউ,সেটা কী একটু অদ্ভূত লাগছে?

স্বস্তিকা:  আমি বুঝতেই পারছি না আমি খুশি হব নাকি রাগ করব,ফোন করে প্রসিতকেও(পাতাল লোকের পরিচালক) একই কথা বলেছি। কিন্তু বলিউড এটাই করে। আঞ্চলিক ছবিতে কাজ করার এই একটা প্রতিবন্ধকতা। তুমি বৃহত্ শ্রেণির দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারবে না। সেটা শুধু বাংলা নয়,অহমিয়া,মরাঠি সব আঞ্চলিক ভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।  কিন্তু আবার আমরাই ফিনিশ বা অন্য বিদেশি ভাষার ছবি সাবটাইটেল দিয়ে দেখি। এই যেমন মানি হাইস্টের মতো সিরিজ সাবটাইটেল পড়ে দেখে ওদের দেশের থেকে আমাদের দেশে বেশি হিট করে দিচ্ছি! কিন্তু আমাদের দেশের অন্য পাঁচটা ভাষায় তৈরি ছবি বা সিরিজ আমরা দেখব না!

এটাই অবাক করে, কুড়ি বছর ধরে আমি এত অভিনয় করলাম,পাতাল লোকের চেয়ে জীবনে অনেক কঠিন চরিত্রে অভিনয় করেছি কিন্তু সেগুলোর জন্য আমি জাতীয় স্তরে কোনদিন পরিচিত পায়নি। আমি তো পাঁচ থেকে সাতটা ছবির তালিকা দিতে পারি যেখানে আমার চরিত্র গুলো অনেক বেশি কমপ্লেক্স এবং কম্লিকেটেড ছিল। পাতাল লোক আমাকে যে পরিচিতি দিয়েছে আমি তাঁর জন্য নিঃসন্দেহে গর্বিত তবে খারাপ লাগা আছে কারণ আসলে তো আমি এক আঞ্চলিক ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রী। আমাদের মনে রাখতে হয় তুমি আবার প্রথম থেকে শুরু করছ,তুমি মনে রাখতে না চাইলেও লোকে তোমায় প্রতি পদক্ষেপে  মনে করিয়ে দেবে।

দক্ষিণি ছবি বা মরাঠি ছবির চেয়ে বাংলা ছবি কী দেশের মানচিত্রে পিছিয়ে আছে?

স্বস্তিকা: আমার মনে হয় গোটা পূর্ব ভারত উপেক্ষিত,সব দিক থেকে। সেটা আমফান হোক বা সিনেমা কিংবা অভিনেতা,প্রযোজনা সংস্থা। বলিউড যেভাবে দলজিত্ দোসাঞ্জ কিংবা দক্ষিন ভারতের কোনও অভিনেতাকে মেনস্ট্রিম কমার্শিয়্যাল ছবিতে স্বাগত জানাবে সেভাবে কোনও বাংলা,অহমিয়া,কিংবা ওড়িয়া ছবির অভিনেতা জায়গা পাবে না। অন্তত গত ২০-৩০ বছরে সেটা ঘটেনি। ভাষার প্রতিবন্ধকতাটাই এখানে বোধহয় সবচেয়ে বড়। পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের স্টারডম বলিউডের চেয়ে বড়। সেই ট্রেডটা বোঝা খুব শক্ত,সেই অঙ্কটা বুঝতে পারাটা সহজ নয়। আমার নতুন করে কিছু প্রুফ করবার নেই। এখন আমি ন্যাশ্যনাল লেভেলে এসে কী প্রমাণ করব? যে আমি অভিনয় করতে পারি।

পাতাল লোকে সহ অভিনেতা নীরজ কবির সঙ্গে একটি দৃশ্যে স্বস্তিকা (ছবি সৌজন্যে-আমাজন প্রাইম) 
পাতাল লোকে সহ অভিনেতা নীরজ কবির সঙ্গে একটি দৃশ্যে স্বস্তিকা (ছবি সৌজন্যে-আমাজন প্রাইম) 

এখন কি মুম্বইতে বেশি কাজ করতে আগ্রহী? 

স্বস্তিকা: কলকাতাতেও আমি কম কাজই করি। গত বছর আমি একটা বাংলা ছবি করেছি।আমি খুব সিলেক্টিভ। আমার মনে হয় না যে রোজ শ্যুটিং করতে হবে, বা মানুষকে বলতে হবে আমার পাইপ লাইনে কী কী প্রজেক্ট আছে। লোকে প্রশ্ন করে আপনার পাইপ লাইনে কী প্রজেক্ট রয়েছে? আমি তো সাফ জানিয়েদি, আমার পাইপ ও নেই,লাইনও নেই,তার ভিতরেও কিছু নেই। যেই স্ক্রিপ্ট আমাকে আকর্ষন করে, যেই চরিত্র আমার মনে হয় আমি করিনি সেই ছবি আমি করতে চাই। যেখানে আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারব।

পিছুটান নেই,তাই মায়ানগরীতে নতুন যুদ্ধ লড়তে প্রস্তুত স্বস্তিকা-

স্বস্তিকা: এর আগে কোনদিন মু্ম্বইতে এসে আমি দীর্ঘসময় থাকতে পারিনি,কারণ আমার অনেক দায়িত্ব ছিল। বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল, আমার বাবাকে আমি একা রেখে বেশিদিন থাকতে পারতাম না। তাই কাজ হাতে নিয়েই আসতাম, এবং হয়ত দুদিন বাড়তি থেকে দু-তিনটে মিটিং করলাম,চলে গেলাম। কিন্তু এখন আমার জীবনটা পাল্টে গিয়েছে। বাড়ি যাওয়ার তাড়া নেই। (চলতি বছর মার্চে প্রয়াত হন স্বস্তিকা বাবা অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়), তাই এখন মুম্বইতে বেশি সময় দিতে পারব। তবে এখানে ট্যালেন্টের অভাব নেই, প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। আর টলিউডে আমি প্রতিষ্ঠিত,এখানে অনেক বেশি যুদ্ধ করতে হবে। কিন্তু আমি প্রস্তুত। এখনই কোনও প্ল্যান করিনি। পাতাল লোকে রিলিজের আগেই এখানে বেশ কিছু কাজ হাতে ছিল,ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য। বর্তমান পরিস্থিতি সেগুলো কবে শুরু হচ্ছে জানি না। দেখা যাক..

সাবিত্রীর ছানাদের সঙ্গে ডলি মেহরা, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় 
সাবিত্রীর ছানাদের সঙ্গে ডলি মেহরা, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় 

পাতাল লোকের সিজন টু কি আসছে?

আমি নিজেই মাস্টারজিকে জিজ্ঞাসা করে যাচ্ছি পাতাল লোকের নতুন সিজন হবে কি হবে না! (হাসিতে ফেটে পড়লেন) তবে ভিতর থেকে আমি যা খবর পাচ্ছি তা হল লেখালিখি শুরু হয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি কিছু হচ্ছে না। পাতাল লোকে সিজন ১ লিখতেই প্রায় দু বছর লেগেছিল। এখনও এত প্রত্যাশা,সেটা পূরণ করতে তো আরও সময় লাগবে-তাই মনে হয় না খুব তাড়াতাড়ি কিছু হবে। অপেক্ষা করতে হবে। 

বন্ধ করুন