বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > বাইকুল্লা জেলেই থাকবেন রিয়া নাকি জামিন মিলবে ? আগামিকাল জানাবে বম্বে হাইকোর্ট
রিয়া চক্রবর্তী (ফাইল ছবি) (PTI)
রিয়া চক্রবর্তী (ফাইল ছবি) (PTI)

বাইকুল্লা জেলেই থাকবেন রিয়া নাকি জামিন মিলবে ? আগামিকাল জানাবে বম্বে হাইকোর্ট

  • আগামিকাল রিয়া, শৌভিকদের জামিনের আর্জির রায় ঘোষণা করবে বম্বে হাইকোর্ট। 

গত ২৭ দিন ধরে রিয়া চক্রবর্তীর ঠিকানা বাইকুল্লা জেল। আজ সেশন কোর্টে ফের রিয়া, শৌভিক সহ সুশান্ত মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত মাদককাণ্ডে গ্রেফতার ১৮ জনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে বেড়েছে। এনডিপিএসের বিশেষ আদালত জানিয়েছে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে রিয়াকে। তবে রিয়া,শৌভিক সহ মাদককাণ্ডে গ্রেফতার পাঁচজনের জামিনের আর্জির রায় আগামিকাল ঘোষণা করবে বম্বে হাইকোর্ট। তাই জামিনে কি মুক্তি পাবেন রিয়া নাকি আপতত বাইকুল্লা জেলই থাকবে তাঁর ঠিকানা, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে বুধবার।  

এই মুহূর্তে তালোজা জেলে বন্দি রয়েছেন সুশান্ত মামলার অপর দুই অভিযুক্ত শৌভিক চক্রবর্তী এবং সুশান্তের হাউজ ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা। এই জেলেই বন্দি মাদককাণ্ডে গ্রেফতার সুশান্তের পরিচারক দীপেশ সাওয়ান্তও। মিরান্ডা ও দীপেশের জামিনের রায়ও আগামিকাল ঘোষণা করবে বম্বে হাইকোর্ট। 

গত ২৯ সেপ্টেম্বর বম্বে হাইকোর্টে প্রায় সাত ঘন্টা ধরে জাস্টিট এস পি কোটওয়াল বেঞ্চে চলে রিয়া-শৌভিকদের জামিনের শুনানি। যদিও জামিনের রায় সংরক্ষিত রেখেছে হাইকোর্ট। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর তরফে লাগাতার অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা করা হয়। হাইকোর্টে এনসিবি স্পষ্ট জানায়, রিয়া ও শৌভিক মাদক চক্রের অ্যাক্টিভ সদস্য, যাঁদের হাই সোসাইটির ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগ রয়েছে এবং মাদক পাচারকারীদের সঙ্গেও-তাই এঁদের জামিন দেওয়াটা তদন্তের গতিকে বাধাপ্রাপ্ত করবে’।

গত বুধবার, বম্বে হাইকোর্টে রিয়া-শৌভিকের জামিনের শুনানি শেষে বিচারপতি নিজের রায় সংরক্ষিত রেখে জানান ‘আমি দ্রুত এই শুনানির রায় দানের চেষ্টা করব। তবে আপনারা যেমনটা জানেন এই মামলা অনেক গভীর এবং অনেক বিষয় আলোচনা করার দরকার রয়েছে। আপনরা সকলে ভালো সওয়াল-জবাব করেছেন'।

সুশান্তের মৃত্যু মামলার সঙ্গে জড়িত আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্তে নেমে রিয়ার মাদকযোগের বিষয়টি উঠে আসে ইডির হাতে। এরপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আবেদনে সাড়া দিয়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলার তদন্তে নামে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। তৃতীয় দিন জেরার সময়, গত ৮ সেপ্টেম্বর এনসিবির হাতে গ্রেফতার হন রিয়া চক্রবর্তী। আগেই গ্রেফার হয়েছিলেন রিয়ার ভাই শৌভিক চক্রবর্তীকে। সুশান্তের জন্য মাদক সংগ্রহ করতেন রিয়া ও শৌভিক,তাঁদের দায়িত্বেই ছিল আর্থিক লেনদেনও। তাই এনডিপিএস আইনের ২৭ (এ) ধারায় এই ভাই-বোনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এনসিবি। এটি জামিন অযোগ্য ধারা এবং এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে কমপক্ষে ১০ বছরের হাজতবাস করতে হবে রিয়া-শৌভিককে। এই ধারার জেরেই সেশন কোর্টে আগেই খারিজ হয়েছে রিয়া, শৌভিকের জামিনের আর্জি। এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিযুক্ত ভাই-বোনের আইনজীবী সতীশ মানেসিন্ধে, দাখিল করেন জামিনের আর্জি। সতীশ মানেসিন্ধে বারবার সওয়াল করেছেন রিয়া,শৌভিকের বিরুদ্ধে এনসিবির তরফে ২৭(এ) ধারা আরোপ করা নিয়ে, যদিও নিজেদের যুক্তি খাড়া করে জবাব দিয়েছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোও। 

এখন বম্বে হাইকোর্টের রায়ের দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। হাইকোর্টে জামিনের আর্জি খারিজ হলে, সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন জানানোর রাস্তা খোলা রয়েছে রিয়া চক্রবর্তী ও বাকি অভিযুক্তদের কাছে।

বন্ধ করুন