পুলওয়ামা হামলার পর ভারতে নিষিদ্ধ পাক শিল্পীরা (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
পুলওয়ামা হামলার পর ভারতে নিষিদ্ধ পাক শিল্পীরা (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)

এক বছর ধরে বলিউডে নিষিদ্ধ,জন্মদিনে ফিরে দেখা পাক শিল্পী আতিফ আসলামের সেরা ১০ গান

  • পাকিস্তানি সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম আজ পা দিলেন ৩৭-এ। জন্মদিনে ফিরে দেখা বলিউডে আতিফের গাওয়া সেরা ১০টি গান-

২০১৯-এর ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকে যায়, এর প্রভাব থেকে দূরে থাকেনি বলিউডও। কথায় বলে শিল্পীর নাকি কোনও জাত,ধর্ম হয় না, কোনও সীমান্তের গণ্ডিতে থাকে বেঁধে রাখা যায় না। তবুও পুলওয়ামা হামলার পর ভারত-পাক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়ে যায়। বলিউডে নিষিদ্ধ হন পাক শিল্পীরা। তাই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের ছবিতে শোনা যায় নি আতিফ আসলামের গলা। আজ, আতিফের ৩৭তম জন্মদিন।

নুসরত ফতে আলি খানের পরবর্তী জমানায় ভারতের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে যে কজন পাক শিল্পী নিজের ছাপ রেখেছেন তাঁর মধ্যে অন্যতম আতিফ আসলাম। ১৯৮৩-এর ১২ মার্চ পাকিস্তানের ওয়াজিরাবাদে জন্ম আতিফের।


ওহ লমহে (জহর,২০০৫)

২০০৫ সালে জহর ছবির ওহ লমহে গানের সঙ্গে বলিউডে ডেব্যিউ করেন আতিফ আসলাম। পরিচালক মহেশ ভটের আমন্ত্রণে ভারতে এসেছিলেন এই পাক গায়ক। আতিফের জলপরী অ্যালবমের এই গান পছন্দ হওয়াতেই বলিউডে তাঁকে প্লে-ব্যাকের সুযোগ দেন মহেশ ভাট। ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে রেকর্ড ব্রেকিং ব্যবসা করেছিল এই গান।


তেরে বিন (বস এক পল, ২০০৬)

বস এক পল ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তবে এই ছবির তেরে বিন গানটি জায়গা করে নিয়েছিল দর্শকদের মনে। মিথুন-আতিফের যুগলবন্দি দারুণ পছন্দ করেছিলেন দর্শকরা। সেই বছর বলিউডের সবচেয়ে পপ্যুলার গানের প্রতিটি তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল এই গান। গানের ভিডিয়োতেও দেখা মিলেছিল আতিফের।

পহলি নজর (রেস, ২০০৮)

প্রথমবার প্রীতমের সঙ্গীত পরিচালনায় গান গাইলেন আতিফ। ছবি মুক্তির অনেক আগে থেকেই মিউজিক চার্টে ধুম মাচিয়েছে এই পহলি নজর। কোরিয়ান গানের কপি বলে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে প্রীতমকে। তবে তাতে এই গানের পপ্যুলারিটিতে কোনও খামতি আসেনি।


তেরা হোনে লাগা হুঁ (অজব প্রেম কী গজব কাহানি, ২০০৯)রণবীর-ক্যাটরিনা জুটির অজব প্রেম কী গজব কাহানি ছবির অন্যতম ইউএসপি তার মিউজিক। ছবির দুটো সবচেয়ে জনপ্রিয় গান তেরা হোনে লাগা হুঁ এবম তু জানে না গান দুটি আতিফ আসলামের গাওয়া। এক দশক পরেও এই গানগুলো সমান জনপ্রিয়।

জিনে লাগা হু (রমাইয়া বস্তাবইয়া, ২০১৩)


ছবির প্রত্যেক গানেই পুরুষ কন্ঠটি ছিল আতিফ আসলামের। তবে সচিন-যিগরে কম্পোজিশনে যিনে লাগা হু গান টি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়।

জিনা জিনা (বদলাপুর, ২০১৫)

প্রথমবার বরুণ ধওয়ানের লিপে আতিফ আসলামের গান, পাশাপাশি এই গানটি কলকাতায় রেকর্ড করে করেছিলেন আতিফ। গানের মিউজিক ভিডিয়োতেও দেখা গিয়েছে আতিফকে।


তু চাহিয়ে (বজরঙ্গি ভাইজান,২০১৫)

এই ছবিতেই প্রথমবার সলমন খানের হয়ে প্লে-ব্যাক করেন আতিফ। গানটির সুর দিয়েছিলেন প্রীতম।


তেরে সঙ্গ ইয়ারা (রুস্তম, ২০১৬)

প্রথমবার অর্কর সুরে আতিফের গান। পাশাপাশি প্রথমবার খিলাড়ি কুমারের হয়ে প্লে-ব্যাক করেন আতিফ আসলাম। তেরে সঙ্গ ইয়ারা ২০১৬-র অন্যতম সুপারহিট গান।



দিল দিঁয়া গল্লা (টাইগার জিন্দা হ্যায়, ২০১৭)

ইউটিউবে এই গানের ভিউ সংখ্যা ৬০০ মিলিয়ন অতিক্রান্ত অর্থাত্ ৬০ কোটি। বজরঙ্গি ভাইজানের পর থেকে পুলওয়ামা ঘটনার আগে পর্যন্ত অভিনেতা-প্রযোজক সলমন খানের প্রত্যেক ছবিতে গান গেয়েছেন আতিফ।


বলিউডে প্লে-ব্ল্যাক তো রয়েইছ, পাশাপাশি ভারতে আতিফ আসলামের গাওয়া বেশ কিছু সিঙ্গলসও রয়েছে যেগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়। তার মধ্যে অন্যতম টি-সিরিজের পহলি দফা। যেখানে ইলিনা ডিক্রুজের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন আতিফ আসলাম।


২০১৯-সালে হাম চার ছবির আউলিয়া আতিফের গাওয়া শেষ গান। বেশ কয়েকটি গান মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও বলিউডে পাকিস্তানি শিল্পীদের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেই গানগুলো আতিফের গলায় অফিসিয়্যালি মুক্তি পায় নি। যদিও এই সব নিয়ে মাথা ঘামাতে না-রাজ আতিফ। জন্মদিনে লাইভ সেশনে ফ্যানেদের জানালেন, 'তোমাদের ভালোবাসাটাই সবচেয়ে জরুরি। মিউজিকের মাধ্যমে আমি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমার ফ্যানেরা পাকিস্তানি না ভারতীয় সেই আমি ভাবি না'।



বন্ধ করুন