বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘গাইড’ থেকে ‘পড়োশন’, রফি, মান্না, কিশোরের ‘ঠান্ডা লড়াই’-এ কে জিতেছিলেন?
বলিউডের তিন কিংবদন্তি দায়ক। মান্না, কিশোর এবং মহম্মদ রফি। (ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস)
বলিউডের তিন কিংবদন্তি দায়ক। মান্না, কিশোর এবং মহম্মদ রফি। (ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস)

‘গাইড’ থেকে ‘পড়োশন’, রফি, মান্না, কিশোরের ‘ঠান্ডা লড়াই’-এ কে জিতেছিলেন?

  • তিনজনেই কিংবদন্তি। কিশোর,রফি,মান্না। তবে অনেকেই জানেন না কিশোর এর সঙ্গে তাঁর 'রফি সাহাব' এবং 'মান্নাদা'-র ঠান্ডা লড়াইয়ের দিনগুলোর কথা।

পুরো নামটাও উচ্চারণ করার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু 'কিশোর' বললেই যথেষ্ট। মৃত্যুর এত বছর পরেও যাঁর গানে আজও বুঁদ বিশ্বের সর্বপ্রান্তের সঙ্গীতপিপাসু মানুষ, সেই বলিউডের সর্বকালের সেরা গায়ক কিশোরকুমারের আজ ৯২তম জন্মবার্ষিকী। 'গাইড' ছবির অভাবনীয় সাফল্যের পর বলিউডের এক নম্বরের গায়কের মুকুটটি যে সেই মাথায় তুললেন তা আমৃত্যু তাঁর মাথা থেকে কেউ নামিয়ে নিতে পারেননি। 'গাইড' ছবিতে দেব আনন্দের লিপে 'গাতা রহে মেরা দিল' যদি কিশোরের কামব্যাক গান হিসেবে নির্বাচিত হয় তাহলে 'আরাধনা' ছবির পরেই মহম্মদ রফির থেকে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা রীতিমতো কলার তুলে 'হাইজ্যাক' করে নিয়েছিলেন কিশোরকুমার। ফলে কিশোরের সঙ্গে রফির যে একটা ঠান্ডা যুদ্ধ ছিল তাতে মান্যতা দিয়েছে তামাম বলিউডের একটা বড় অংশ।

আর হবে নাই বা কেন সত্তর দশকে স্রেফ কিশোরের জন্য প্রায় কর্মহীন হয়ে গেছিলেন রফি। যে মানুষটি একসময় নাওয়া খাওয়ার সময় পেতেন না, দিনে দশ-বারোটি গান রেকর্ড করতেন সেই একই মানুষ গোটা সত্তর দশকে মাসে দশটি গান রেকর্ড করতে পেরেছিলেন এ কথা জোর গলায় দাবি করার মত মানুষ প্রায় নেই বললেই চলে। শোনা যায়, একবার রফি মনের দুঃখে তাঁর প্রতিবেশী আরও এক কিংবদন্তি গায়ক মান্না দে-কে ক্ষোভের সুরে বলে উঠেছিলেন, 'ক্যায়া মান্নাদা, ইয়ে কোই গানা হুয়া? খালি চিল্লাতা হ্যায় -গাতা রহে মেরা দিল!' ওদিকে মান্না দে-ও 'রফি সাহাব' বলতে অজ্ঞান। তাই জবাবে নাকি বলেছিলেন, 'ক্যায়া করেগা সাহাব। মান লো! ইসি কা নাম জিন্দেগি!' অন্যদিকে, কিশোরকুমার কিন্তু প্রকাশ্যে কখনও 'রফি সাহাব'-এর সমন্ধে কোনওদিন তির্যক মন্তব্য কিংবা কটাক্ষ করেননি।

মহম্মদ রফি মারা যাওয়ার পর বলিউডে 'গানের লড়াই' জমে উঠেছিল কিশোর এবং তাঁর প্রিয় 'মান্নাদা'-র মধ্যে। অবশ্য সে লড়াইয়ের দিকটা দু'জনেই সযত্নে আড়াল করে রেখেছিলেন।, যেখানে অন্যের প্রবেশ নিষেধ। বলা যেতে পারে খুব 'এক্সক্লুসিভ' ছিল। তা রাহুল দেব বর্মনের সুরে রেকর্ড হবে মান্না এবং কিশোরের সেই আইকনিক ডুয়েট গান ' এক চতুর নার করকে শৃঙ্গার।' পর্দায় মেহমুদ এবং সুনীল দত্ত-এই দু'জনের লিপে শোনা যাবে মান্না দে এবং কিশোরের গলা। ছবিতে দেখা যাবে যে কিশোরকুমারের কাছে হেরে যাবেন মান্না। বিষয়টি নিয়ে এই দুই কিংবদন্তির সঙ্গে আলাদা মিটিংও করেছিলেন আর.ডি। শুনে বেঁকে বসেছিলেন মান্না। বেজায় আপত্তি জানিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত স্ত্রী সুলোচনার অনুরোধে শান্ত হয়েছিলেন। রাজি হয়েছিলেন গানটি গাইতে। বাকিটুকু ইতিহাস।

কল্প বিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও এই গানটি রেকর্ডের আগে পাক্কা ৯ ঘন্টার রিহার্সাল চলেছিল।যথাসময়ে রেকর্ডিংও শুরু হল। তবে একেবারে শেষমুহূর্তে আচমকা 'ওথেডে সিধে হো যা রে' বোলের সময় এমন 'ঝটকা' দিলেন কিশোর যে থমকে গেছিলেন মান্না। তবু রেকর্ডিং চালিয়ে গেছিলেন পঞ্চম। কিশোরের ঠোঁটে নাকি তখন লেগেছিল মিটিমিটি দুস্টুমি হাসি।

বন্ধ করুন