বাড়ি > বায়োস্কোপ > কঙ্গনাকে ‘হারামখোর’ বলে আক্রমণ শিবসেনা নেতার, নায়িকার পাশে দাঁড়ালেন দিয়া মির্জা
অবিলম্বে ক্ষমা চান সঞ্জয় রাউত, বললেন দিয়া মির্জা।
অবিলম্বে ক্ষমা চান সঞ্জয় রাউত, বললেন দিয়া মির্জা।

কঙ্গনাকে ‘হারামখোর’ বলে আক্রমণ শিবসেনা নেতার, নায়িকার পাশে দাঁড়ালেন দিয়া মির্জা

  • 'সঞ্জয় রাউতের মুখে কঙ্গনার জন্য হারামখোর শব্দের ব্যবহার করবার তীব্র নিন্দা করছি। স্যার, এই ভাষার প্রয়োগের জন্য আপনার ক্ষমা চাওয়া উচিত’।

থামছে না শিবসেনা বনাম কঙ্গনা রানাওয়াত দ্বন্দ্ব। মুম্বই পুলিশের উপর আস্থা নেই কঙ্গনার, সুশান্ত মামলার প্রেক্ষাপটে এমনই মন্তব্য করেছিলেন বলিউডের কুইন। এরপর থেকে মহারাষ্ট্র সরকার তথা শিবসেনার সঙ্গে বাকযুদ্ধ জারি রয়েছে অভিনেত্রীর। এর মাঝে শনিবার কঙ্গনা রানাওয়াতের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিতে গিয়ে শিবসেনা সাংসদ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করলেন। এই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কঙ্গনাকে ‘হারামখোর’ বলে কটাক্ষ করলেন। এরপর থেকেই নতুন বিতর্ক শুরু সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

কঙ্গনা রানাওয়াতের পাশে দাঁড়িয়ে সঞ্জয় রাউতে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। এই ধরণের ভাষার প্রয়োগ করবার জন্য অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত শিবসেনা নেতার, মত প্রাক্তন মিস এশিয়া প্যাসিফিকের।

টুইটারে দিয়া মির্জা নিজের হতাশার কথা জানান। সেই ভাইরাল ভিডিয়ো শেয়ার করে নিয়ে লেখেন, ‘ সঞ্জয় রাউতের তরফে হারামখোর শব্দের ব্যবহার করবার জন্য তীব্র নিন্দা করছি। স্যার আপনার সব অধিকার রয়েছে কঙ্গনার প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার, কিন্তু এই ভাষার প্রয়োগের জন্য আপনার ক্ষমা চাওয়া উচিত’।

'কেন ওই হামারখোর মেয়ের হয়ে দলিল দিচ্ছেন? ওই মেয়ে শিবাজি মহারাজের অপমান করেছে', এক সাংবাদিককে এ কথাই বলতে শোনা গেছে সঞ্জয় রাউতকে। 

সঞ্জয় রাউত সম্প্রতি দলের মুখপত্র সামনায় সম্প্রতি দাবি করেন,'যদি কঙ্গনা রানাওয়াতের মনে মুম্বই পুলিশকে নিয়ে কোনও সম্মান না থাকে, অভিনেত্রী মুম্বই পুলিশকে অপেশাদার ভাবেন তাহলে আমরা বলব ওঁনার মুম্বই ফেরার দরকার নেই'। এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখও। শুধু তাই নয় প্রকাশ্যে কঙ্গনার উপর শিবসেনার মহিলা বাহিনীর আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন দলের এমএলএ প্রতাপ সরনায়ক। তিনি ধমকি দেওয়ার সুরে বলেন, কঙ্গনার উপর আমাদের মহিলা মোর্চার যোদ্ধার আক্রমণ করলে আমাদের দল দায় শিকার করা থেকেও পিছপা হবে না। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মহিলাদের আক্রমণ এবং হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে দিয়া মির্জা আরও বলেন, শেষ কয়েক মাস ধরে দেখছি ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণের একটা বাড়বাড়ন্ত চোখ পড়েছে। আর মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত সমাজ এবং সমান অধিকারের যে লড়াই আমরা লড়ছি যা প্রতি মুূহূর্তে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এই আক্রমণের জেরে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল অনেক মেয়েও এই কালচারের অংশ হচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। আসুন আমরা সকলে একে অপরের পাশে দাঁড়াই'।

মুম্বইকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করবার প্রসঙ্গে কঙ্গনা টুইটারে নিজের পক্ষ রেখে বলেন, ‘একজন বড় তারকার মৃত্যুর পর আমি ড্রাগ এবং মুভি মাফিয়ার ব়্যাকেট নিয়ে কথা বলেছি। আমি মুম্বই পুলিশকে বিশ্বাস করি না কারণ তাঁরা সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবারের অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়নি। ও সকলকে বলেছে ওকে মেরে ফেলা হবে, এবং ওকে মেরে ফেলা হয়েছে। যদি আমি নিজেকে অসুরক্ষিত মনে করি, তার মানে কি আমি ওই ইন্ডাস্ট্রি এবং মুম্বইকে ঘৃণা করি?’

বন্ধ করুন