বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফারার': সমালোচকদের সঙ্গে মিলছে না দর্শকদের মতামত, কটাক্ষ দিবাকরের
সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফারার
সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফারার

‘সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফারার': সমালোচকদের সঙ্গে মিলছে না দর্শকদের মতামত, কটাক্ষ দিবাকরের

সমালোচকদের সঙ্গে মিলছে না মানুষের মতামত- ‘সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফারার'-এর রিভিউ নিয়ে ফিল্ম ক্রিটিকদের একহাত নিলেন দিবাকর।

করোনা আবহের মধ্যেই গত ১৯শে মার্চ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফারার’। ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’-এর ব্যর্থতা ভুলে রুপোলি পর্দায় ফের একবার ‘ইশকজাদে’ জুটির রসায়ণ দেখতে দর্শক মুখিয়ে থাকলেও বাধ সাধছিল করোনা, উপরোন্তু এই ছবি ফিল্ম সমালোচকদের প্রশংসা কুড়োতে ব্যর্থ হয়।সবমিলিয়ে হলে দর্শক টানতে এক্কেবারে ব্যর্থ হয়েছিল অর্জুন-পরিণীতি জুটির এই ছবি। কিন্তু দু-মাস পর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আমাজন প্রাইম ভিডিয়োয় এই ছবির মুক্তি পুরো হিসাবে উলটে দিয়েছে। দর্শকদের তুমুল প্রশংসা কুড়োচ্ছে এই ডার্ক কমেডি। ছবির এই দ্বৈত প্রতিক্রিয়া নিয়ে এবার সরব হলেন পরিচালক দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়। 

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পরিচালক জানিয়েছেন, ফিল্ম সমালোচকদের নিজস্ব মতামত দর্শকদের সামনে তুলে ধরবার ব্যাপারে আরেকটু বেশি সংবেদনশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ‘খোসলা কা ঘোসলা’ পরিচালক বলেন, তাঁর কাছে নেতিবাচক সমালোচনাও শিরোধার্য, তবে সর্বস্তরের সমালোচকরা যেন ছবি সঠিকভাবে দেখে সেটির তুল্য মূল্য বিচার করেন।

সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফরার-এর শ্যুটিংয়ের ফাঁকে অর্জুন-পরিণীতির সঙ্গে দিবাকর
সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফরার-এর শ্যুটিংয়ের ফাঁকে অর্জুন-পরিণীতির সঙ্গে দিবাকর

দিবাকরের কথায়, মানুষ ছবিটাকে শেষ পর্যন্ত দেখে পছন্দ করছে এতেই তিনি খুশি, সেটির বৈধতা বিচারে খুব বেশি আগ্রহী নন। ‘আমি জানি না যদি করোনাহীন পরিবেশে এই ছবি হলে মুক্তি পেত তবে সন্দীপ ঔর পিঙ্কি ফরার বক্স অফিসে কেমন ফল করত! কিন্তু সেটা তো আমাদের হাতে নেই, যা ঘটবার সেটা ঘটে গিয়েছে', কিছুটা আক্ষেপের সুরে জানান দিবাকর। 

তিনি আরও বলেন, ‘ছবির থিয়েট্রিক্যালের রিলিজের মামলায় যেটা হয়, সম্ভবত গেটকিপাররা (ফিল্ম সামালোচক) এবং ওপিনিয়ন মেকাররা খুব বেশি গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরে না। যদি কোনও ১০০ জন ছবি দেখে এবং সেটি নিয়ে ১০ টি রিভিউ প্রকাশিত হয়- তাহলে এই বিষয়টার মাপদণ্ড এক থাকে না, সেটা এক্কেবারে মেরুকরণের জায়গায় পৌঁছে যায়। তাঁর ছবিটা হয় পছন্দ করে, নতুবা এক্কেবারেই পছন্দ করে না…. তবে যে ১০০ জন মানুষ ছবিটা দেখেছেন তাঁদের মধ্যে হয়ত ৭০-৮৫ জন মানুষ হলের বাইরে এসে বলছেন তাঁদের ছবিটা ভালো লেগেছে। এটা থেকেই স্পষ্ট যে সমালোচকরা এক কথা বলছেন, আর সাধারণ দর্শকরা আরেকরকম কথা বলছেন। এর জেরেই ছবিটা পিছিয়ে পড়ছে। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, দর্শকেরা আজকাল কি দেখতে চায় সেটা আর সমালোচকদের হাতে আটকে নেই'।

দিবাকর স্বীকার করেছেন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ক্ষেত্রে, 'গেটকিপারদের (ফিল্ম সমালোচলক) কণ্ঠস্বর' কোনও ছবির ক্ষেত্রে 'জনমত গঠন' গুরুত্বপূর্ণ, যদি সেই ছবির সঙ্গে কোনও বড় তারকার নাম না জড়িয়ে থাকে বা দেখার মতো কোনো বিষয় না থাকে'। তিনি আরও বলেন, ‘একজন সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া  আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন, কারণ তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন দর্শকদের কাছে সেই ছবি যথার্থভাবে ব্যাখ্যা করার।দর্শররা সেই ছবির মধ্যে কী খুঁজে পেতে পারেন তার আভাস তুলে ধরাটা জরুরি'। তিনি আরও জানান স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে ‘সম্ভবত কোনও ছবির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধটা বেশি মাত্রায় বজায় থাকে’। 

পরিচালকের কথায়, ‘আমার মনে হয় না কোনো পরিচালকের সমালোকদের মতামত নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার আছে, কারণ ছবির মামলায় একজন পরিচালক খুব বেশি পরিমাণে আত্মকেন্দ্রিক।তবে আমি বিশ্বাস করি, পরিচালকের কাজ নিয়ে সমালোচনা না হওয়ার থেকে ভুল সমালোচনা অনেক বেশি কাঙ্খিত'।

বন্ধ করুন