বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > কলমের পাশাপাশি চলত রঙ-তুলি; বুদ্ধদেবের আঁকাকে ‘স্পর্শকাতর’ বললেন যোগেন চৌধুরী
বুদ্ধদেব গুহর আঁকাকে 'স্পর্শকাতর চিত্রকলা' বলে আখ্যা শিল্পী যোগেন চৌধুরীর। (ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস)
বুদ্ধদেব গুহর আঁকাকে 'স্পর্শকাতর চিত্রকলা' বলে আখ্যা শিল্পী যোগেন চৌধুরীর। (ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস)

কলমের পাশাপাশি চলত রঙ-তুলি; বুদ্ধদেবের আঁকাকে ‘স্পর্শকাতর’ বললেন যোগেন চৌধুরী

  • প্রয়াত হয়েছেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।বুদ্ধদেববাবুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলার সাহিত্যমহল থেকে শুরু করে শিল্প জগৎ।এবার মুখ খুললেন প্রয়াত এই কিংবদন্তি সাহিত্যিকের বন্ধু তথা বিখ্যাত শিল্পী যোগেন চৌধুরী।

রবিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বেলভিউ হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বয়সজনিত নানান সমস্যার মধ্যে দেখা দিয়েছিল শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ও মূত্রনালীতে সংক্ৰমণ। কিছুদিন আগে ফের ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। রবিবার রাতে থামল লড়াই। না ফেরার দেশে পা বাড়ালেন 'ঋজুদা'-র স্রষ্টা।

বুদ্ধদেববাবুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলার সাহিত্যমহল থেকে শুরু করে শিল্প জগৎ।অনেকেই হয়ত জানেন না যে বেশ ভালো স্কেচ করতেন বুদ্ধদেব গুহ। ক্যানভাসের ওপর রং তুলির পোঁচ দেখলেও বোঝা যেত তার মধ্যে যথেষ্ট শিল্পগুণ রয়েছে। একাধিকবার তাঁর আঁকার প্রদর্শনীও হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন প্রয়াত এই কিংবদন্তি সাহিত্যিকের বন্ধু তথা বিখ্যাত শিল্পী যোগেন চৌধুরী।

যোগেনবাবু জানিয়েছেন তাঁর এবং বুদ্ধদেববাবুর পরিচয় হয়েছিল বহু বছর আগেই। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সখ্যতা। এরপর শান্তিনিকেতনে পাশাপাশি বাড়িও ছিল তাঁদের। তাই সেই সূত্রে আলাপ আরও জমেছিল। নিবিড় হয়েছিল। যোগেন চৌধুরীর কথায়, 'তিনি যখন শান্তিনিকেতনে আসতেন, মাঝেমধ্যেই আমাদের বাড়িতে এসে হাজির হতেন আর আড্ডা হত। একবার গল্প করতে বসলে জমিয়ে রাখতেন সবাইকে। এতটাই মজলিশি ছিলেন তিনি। আর দুর্দান্ত ভালো কথা বলতে পারতেন। কথা বলার বিষয়ে কোনওদিনই অভাব হত না তাঁর। এতটাই ছিল তাঁর জ্ঞান'।

বেশ জোর গলায় এই বিশিষ্ট শিল্পী জানিয়েছেন তাঁর মতে, বুদ্ধদেব গুহ খুব ভাল ছবি আঁকতেন। যখন বনে-জঙ্গলে যেতেন ছবি আঁকতেন, স্কেচ করতেন। ছবির ব্যাপারে তাঁর খুব উৎসাহ ছিল। সেসব ছবি নিজে দেখেওছেন যোগেনবাবু। প্রায়শই তাঁদের দু'জনের মধ্যে ছবি নিয়ে নানারকম আড্ডা হত। বলেন, 'তিনি একজন লেখক এবং গায়ক। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর মধ্যে শিল্পের প্রাথমিক ধারণাগুলো ছিল। আমার মনে হয়েছে, বুদ্ধদেব গুহর ছবিগুলো স্পর্শকাতর চিত্রকলা'। 

জানা গেল, দুর্গাপুজো উপলক্ষে দেবাশীষ কুমারের আয়োজনে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। বুদ্ধদেববাবু এবং যোগেন চৌধুরী দু'জনেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানেই শেষবার বুদ্ধদেববাবুকে দেখেন যোগেনবাবু। শিল্পীর কথায়, 'শরীরটা তখন ভাল ছিল না। তবে তার মধ্যেই গান করেছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। আর তখনও কী উদাত্ত কণ্ঠ। ফের মুগ্ধ হয়েছিলাম নতুন করে। তাঁর গান সমন্ধে নতুন করে তো আর বলার কিছু নেই'। নিজের বক্তব্যের শেষে যোগেন চৌধুরী জানিয়েছেন বহু বছর ধরেই তিনি বুদ্ধদেবের লেখার ভক্ত। একনিষ্ঠ পাঠক।

বন্ধ করুন