বাড়ি > বায়োস্কোপ > আর ব্রাত্য নয় টলিউডের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসাররা, গঠন হচ্ছে তাঁদের নিজস্ব গিল্ড
ফ্লোরে ডিরেক্টর রাজ চক্রবর্তী, হিরো সোহম এবং ইপি ইভানা দত্ত। ছবি ফেসবুক।
ফ্লোরে ডিরেক্টর রাজ চক্রবর্তী, হিরো সোহম এবং ইপি ইভানা দত্ত। ছবি ফেসবুক।

আর ব্রাত্য নয় টলিউডের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসাররা, গঠন হচ্ছে তাঁদের নিজস্ব গিল্ড

নিজেদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে একজোট হলেন টলিউডের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার(ইপি)রা। কার্যক্ষেত্রে আলপিন থেকে এরোপ্লেন সবটাই সামলাতে হয় তাঁদের, অথচ স্বাস্থ্যবীমা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ইপিরা! গঠন হতে চলেছে তাঁদের নিজস্ব গিল্ড, HT Bangla-কে বিস্তারিত জানালেন এক্সিকিটিভ প্রোডিউসার ইভানা দত্ত।

এক্সিকিউটিভ বা কার্যনির্বাহী প্রযোজকদের ভূমিকা

একটা ভাবনাকে রূপ দিতে গেলে যে যে কাজ গুলো করতে হয়, যেমন- প্রি-প্রোডাকশন,প্রোডাকশন হয়ে পোস্ট প্রোডাকশন এবং প্রযোজকদের যে বাজেট থাকে, সেই বাজেটটাকে মাথায় রেখে সেটা চ্যানেলের সঙ্গে হোক, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে হোক বা সিনেমাতে হোক, তার গুণগত মান বজায় রেখে সকলের সঙ্গে কোয়ার্ডিনেট করে কাজটাকে রূপদান করাটাই একজন এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসারের কাজ। এরমধ্যে রয়েছে অনেক বিষয়,আর্টিস্টদের সমস্যা বোঝা, তাঁদের ডেট, শেডিউল, লুক সেট সহ বিভিন্ন বিষয়, সবটাই সামলাতে হয় ইপিদের।

 প্যাশন-ইমোশন নিয়েই দ্বিতীয় পরিবার

প্রথমেই একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, এটা  কিন্তু আমাদের কোনও আন্দোলন নয়। কারণ আমরা প্রত্যেকেই  ফ্লোরে যাচ্ছি, যেমন কাজ করার সেটা করছি। কাজ বন্ধ করে দাবিদাওয়া মানতে হবে বলে বসে নেই কেউ।  এটা আমাদের একটা অনুরোধ বা রিকোয়েস্ট বলা যেতে পারে।

ইমোশনালি, প্যাশনেটলি সব দিক থেকে দেখতে গেলে এই পারফর্মিং ইন্ডাস্ট্রিটা আসলে আমাদের দ্বিতীয় পরিবার। দিনের বেশিরভাগ সময়টাই এখানে কাটে। অবশ্যই এটা আমাদের কাজ এবং রুজিরুটি কিন্তু সেই কাজটার আবহে যদি টিমের প্রত্যেক সদ্যসের মাইন্ডসেট এবং ইনভলভমেন্ট একরকম না হয় তাহলে কখনওই সফল গল্পটা তৈরি হয় না। সে সিরিয়াল হোক বা সিনেমা, বন্ডিং এবং আন্ডারস্ট্যান্ডিংটাই আসল কথা। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে, লকডাউনের জরুরি সময় দূরে থেকেও একে অপরের মানসিক শক্তি হয়ে কাটিয়ে আবার ছন্দে ফিরছে টলিপাড়া। এর চেয়ে ভালো আর কী বা হতে পারে! চ্যানেল, প্রযোজক, গিল্ড, ফোরাম সব মিলে বৈঠক হয়েছে, সকলের সুরক্ষা চিন্তা করে তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যবীমা ও বিভিন্ন রকম সুরক্ষা সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা। সাধুবাদ জানাই এই পদক্ষেপ গুলোকে।

গানের রেকর্ডিংয়ে সঙ্গীত পরিচালক সমিধ মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা প্রসেঞ্জিত  চট্যোপাধ্যায়  ও এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার ইভানা দত্ত।
গানের রেকর্ডিংয়ে সঙ্গীত পরিচালক সমিধ মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা প্রসেঞ্জিত  চট্যোপাধ্যায়  ও এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার ইভানা দত্ত।

পরিবারের সদ্যস্য হয়েও ইপিরা ব্রাত্য

এবার আসি আমাদের কথায়। আগেই বললাম আমরাও কিন্তু এই পরিবারের সদ্যস্য। এখানে সকলেরই মেডিক্লেম হচ্ছে, সকলের সুরক্ষা নিয়ে চলছে বিভিন্ন চিন্তাভাবনা, তাহলে আমরাই বা বাদ যাই কেন? আমরা তো কোনও সুপার ম্যান বা সুপার ওম্যান নই যে শুধুমাত্র একটা স্যানেটাইজার দিয়ে কাজ চলে যাবে।  আমারাও যে কোনও সময় অসুস্থ হতে পারি, যে কোনও বিপদ ঘটে যেতে পারে আমাদের জীবনে। এইসব ভেবেই এক্সিকিউটিভ প্রডিউসাররা মিলে যখন কথা বলতে যাই তখন জানতে পারি, যেহেতু আমরা ইপিরা কোনও গিল্ড বা ফোরামের অন্তর্ভুক্ত নই তাই এই বিষয়ে আমরা কোনও রকম সুযোগ সুবিধা পেতে পারি না। এটা জানার পর আমাদের অনুরোধ যে আমাদেরকেও গিল্ডের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। 

এর সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো জরুরি, যেমন পেমেন্টের ক্ষেত্রে অনেক সময় কাজ করেও কোনও ইপি যখন পারিশ্রমিক পান না, তখন তাঁরা কার কাছে যাবেন? আবার যদি প্রডিউসারদের অ্যাঙ্গেল থেকে দেখি সেক্ষেত্রে, এই যে আমরা তাঁদের হয়ে কথা বলি বা রিপ্রেজেন্ট করি তখন যদি আমরা কোনও গিল্ডের অন্তর্ভুক্ত হই তাহলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। অনেক সময় প্রডিউসারদের সঙ্গে ইপিদের কাজের বিষয়ে নানারকম সমস্যা হয়, নানারকম অসুবিধাও হয়, সেক্ষেত্রে তাঁরা এই ফোরামে এসে জানালে সকলে মিলে কথা বলে সুরাহা মিলতে পারে সহজে। মানে গিল্ডে যে যে কাজ গুলো নিয়ম অনুসারে হয় সেই সকল নিয়মে নথিভুক্ত করতে চাইছি নিজেদের।

কাজের মাঝে টিমের সঙ্গে ইভানা।
কাজের মাঝে টিমের সঙ্গে ইভানা।

এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসারদের ফোরাম বা গিল্ড

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমরা একটা এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার ফোরাম বা গিল্ড তৈরি করতে চাইছি। যেমন আর্টিস্ট ফোরাম, ডিরেক্টরস গিল্ড, প্রডিউসারস গিল্ড ইত্যাদি রয়েছে ঠিক তেমনই হবে আমাদের এই গিল্ড বা ফোরামটি। আমাদের সেফটি, সিকিওরিটির বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এই যে ২৫ লক্ষটাকার বীমা করা হয়েছে আর্টিস্ট ও টেকনিশিয়ানদের জন্য, আমাদের কিন্তু সেই সব কিছুই নেই। তাহলে প্রযোজনে বা বিপদে আমাদের পাশে দাঁড়াবে কে? রাজ চক্রবর্তী যেমন তাঁর ইপিকে নিজের হাউস থেকে বিমা করিয়ে দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু সকলের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। সবাই তো বড় হাউসে কাজ করেন না, অনেক ইপি যাঁরা খুব অল্প টাকায় ছোট হাউসেও কাজ করেন তাঁদের পক্ষে সব সময় ওলা উবার করে যাতায়াত করা সম্ভব নয়, তাঁদের অটো বা বাসেও ট্র্যাভেল করতে হয়। এছাড়া আমাদের তো বাইরে বাইরে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় কাজে, সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটা প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে। আমরা চাই, যে সমস্ত নিয়ম মেনে গিল্ড চলে সেই সব নিয়মে আমাদের ফেলা হোক। যেমন প্রত্যেকে সিভি জমা দেবে এবং যোগ্যতার নিরিখে তাঁরা কাজ পাবেন। যদি কোনও প্রোডিউসারের তাঁর ইপিকে নিয়ে সমস্যা থাকে, সেই বিষয়টাও গিল্ডে দেখা হবে। এই বিভিন্ন দিক গুলোই আমরা তুলে ধরতে চাই আমাদের নিজস্ব ফোরামে বা গিল্ডে।

কোনও আন্দোলন বা প্রতিবাদ নয়, শান্ত ভাষায় ইপিদের অধিকারের অনুরোধ এই মাস্কের মাধ্যমে।
কোনও আন্দোলন বা প্রতিবাদ নয়, শান্ত ভাষায় ইপিদের অধিকারের অনুরোধ এই মাস্কের মাধ্যমে।

দেনা পাওনা ও সুরক্ষা

এরপর আসি আমাদের পেমেন্টের কথায়, গত তিন মাস কাজ বন্ধ, রোজগার নেই, প্রত্যেকের পরিবারে বয়স্ক মানুষ এবং বাচ্চারা রয়েছে, এই সবকিছু নিয়ে অবস্থা খুবই জটিল। হাউস টু হাউসের নির্ভর করে পারিশ্রমিকের বিষয়টা। একজন হঠাৎ করে আসা প্রডিউসার সব কাজ করিয়ে নিয়ে ইপিকে পেমেন্ট দিলেন না, বা কোনও প্রডিউসার মাঝপথে শুটিং বন্ধ করে কাউকে কোনও টাকা পয়সা দিলেন না, তখন ইপিরা কোথায় যাবে তাঁর সমস্যা নিয়ে? অনেক নতুন ছেলেমেয়েরা এখন ইপির কাজ করতে আসছে তাঁরা যেন সঠিক পেমেন্টটা পায়। আবার ধরুন দুম করে একদিন হাউস বলে দিল কাল থেকে আর আপনাকে লাগবে না! আমাদের হয়ে তো বলার কেউ নেই, অথচ এত বছর ধরে কাজ করে আসছি! এইসব সমস্য থেকে মুক্তি পেতেই ফোরাম তৈরির সিদ্ধান্ত। যেখান থেকে আমাদের কাজের পদ্ধতি, পেমেন্ট সিস্টেম, সুরক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি পরিচালিত হবে। এই সপ্তাহে আমরা রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফর্ম জমা করব। তারপর কাগজ বা সার্টিফিকেটটা পেলে সেটা নিয়ে আমদের আগামী পদক্ষেপ শুরু হবে।

কাজের ফাঁকে সুর সম্রাট এ আর রহমানের সঙ্গে ইভানা দত্ত।
কাজের ফাঁকে সুর সম্রাট এ আর রহমানের সঙ্গে ইভানা দত্ত।
বন্ধ করুন