বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > রাষ্ট্রপতি ভবনে নেতাজির বদলে প্রসেনজিৎ? দিনভর বিতর্ক, মুখ খুললেন সৃজিত-বুম্বাদা
ছবি বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলল টিম গুমনামী 
ছবি বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলল টিম গুমনামী 

রাষ্ট্রপতি ভবনে নেতাজির বদলে প্রসেনজিৎ? দিনভর বিতর্ক, মুখ খুললেন সৃজিত-বুম্বাদা

  • নেতাজির ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি ভবনে উন্মোচিত ছবি ঘিরে তৈরি বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলল টিম ‘গুমনামী’। 

গত ২৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ভবনে নেতাজির একটি ছবির আবরণ উন্মোচন করেছিলেন রামনাথ কোবিন্দ। আর রাষ্ট্রপতির সেই ছবির উন্মোচন নিয়ে সোমবার উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। সকাল থেকে একাধিক টুইটে দাবি করা হতে থাকে ওই ছবিটি নাকি বাঙালি অভিনেতা প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়ের। গুমনামী ছবিতে নেতাজি রূপী প্রসেনজিতের পোট্রেট নাকি রাখা হয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবনে। তবে বিতর্ক তখন চরমে পৌঁছায় যখন তৃণমূলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও টুইটারে সেই ছবিকে প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের বলে দাবি করেন। পরে যদিও নিজের ভুল বুঝতে পেরে টুইটটি মুছে দেন মহুয়া মৈত্র। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘ভগবান ভারতকে রক্ষা করুক, কারণ এই সরকার তো করতে পারবে না’।

ঘটনার জেরে কেন্দ্রের তরফে বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। জানানো হয় এটা নেতাজির আসল ছবি থেকে আঁকা শিল্পী পরেশ মাইতির আঁকা ছবি। সরকারি দাবিকে বিকালের দিকে স্বীকৃতি দেয় টিম গুমনামীও। সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় টুইট করে জানান ওটি মোটেই প্রসেনজিতের ছবি নয়, বরং নেতাজির ছবি। 

গুমনামী প্রসঙ্গে এই বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় সৃজিত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে টুইট করেন, ‘রাষ্ট্রপতি ভবনে উন্মোচিত ছবিটি পরেশ মাইতির আঁকা। যদি এর সঙ্গে প্রসেনজিতের কোনও মিল খুঁজে পেয়ে থাকেন, তাহলে তার সমস্ত কৃতিত্ব প্রাপ্য সোমনাথ কুণ্ডুর’। 

কে এই সোমনাথ কুণ্ডু?  গুননামী ছবির মেক-আপ আর্টিস্ট। যাঁর হাতের ছোঁয়ায় প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠেছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল টলিউডের এই খ্যাতনামা শিল্পীর সঙ্গে। তিনি এই বিতর্ক নিয়ে জানান, ‘ওটা নেতাজিরই ছবি, কিন্তু মানুষ ভুল করেছে। একদিকে ভালো লাগছে যে মানুষ আমাদের কাজকে এতটা ভালোবেসেছে। কিন্তু খারাপও লাগছে, কারণ নেতাজিকে নেতাজিরূপেই আমাদের পাওয়া উচিত। গুমনামীর এই কাজটা সার্থক হয়েছে, যে বুম্বাদাকেও নেতাজির মতো লেগেছে’। বুম্বাদাকে নেতাজি হিসাবে সাজিয়ে তোলাটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। স্মৃতির পাতা উলটে সোমনাথ কুণ্ডু বলেন, ‘নো-ডাউট বড়ো চ্যালেঞ্জ। বেশিরভাগ মানুষের ভালো লেগেছে। অনেকে সমালোচনাও করেছিল, সেই সংখ্যাটা কম। তবে কোনও কাজ তো সব মানুষের ভালো লাগতে পারে না। তবে এই কাজটা করবার সুযোগ আমাকে যাঁরা দিয়েছেন, আমার পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও বুম্বাদার কাছে আমি কৃতজ্ঞ’। 

নেতাজির লুক তৈরির মুহূর্তে প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায় ও সোমনাথ কুণ্ডু 
নেতাজির লুক তৈরির মুহূর্তে প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায় ও সোমনাথ কুণ্ডু 

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের জুলফিকর, এক যে ছিল রাজা, ভিঞ্চি দা-র মতো ছবিতে মেক-আপের দায়িত্ব ভার সামলেছেন সোমনাথ কুণ্ডু। তাঁর মতো প্রোস্থেটিক মেক-আপ টলিগঞ্জে কেউ করে দেখাতে পারবে না-একবাক্যে মেনে নেন পরিচালকরা। 

নেতাজির এই ছবি বিতর্কের রহস্যভেদের আলোচনায় শামিল হন খোদ ‘গুমনামী’ প্রসেনজিৎও। এদিনের উন্মোচিত ছবিটি পোস্ট করে বুম্বাদা লেখেন, ‘পরেশ মাইতিকে অভিনন্দন জানাই। অনেকেই ছবিটির সঙ্গে গুমনামী সিনেমায় আমার লুকের মিল খুঁজে পেয়েছেন, অভিনেতা হিসাবে আমি উচ্ছ্বসিত। পরিচালনায় সৃজিত আর আমার প্রস্থেটিক মেক-আপ করেছিল সোমনাথ’।

অনেকেই বলেছেন এটা ভিত্তিহীন বিতর্ক। কারণ এটি নেতাজির আসল ছবি অবলম্বনে চিত্রকর পরেশ মাইতি এই পোট্রেটটি তৈরি করেছেন। বসু পরিবারের সদস্যা জয়ন্তী বসু রক্ষিতের কাছ ১৯৪৩ সালে তোলা নেতাজির ওই ছবিটি সংগ্রহ করেন শিল্পী পরেশ মাইতি। 

পুরোনো টুইট ঘেঁটে দেখা যায় নেতাজির পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি নেতা চন্দ্র কুমার বসু ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে নেতাজির এই ছবিটি টুইট করে ছিলেন।

 

বন্ধ করুন