বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > বিশ্বাস হচ্ছে না শর্বরী দি আর নেই! ফ্যাশন ডিজাইনারের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ টলিউড
প্রয়াত শর্বরী দত্ত 
প্রয়াত শর্বরী দত্ত 

বিশ্বাস হচ্ছে না শর্বরী দি আর নেই! ফ্যাশন ডিজাইনারের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ টলিউড

  • বৃহস্পতিবার রাতে ব্রড স্ট্রিটের বাড়ির শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয় ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্তের দেহ। 

২০২০ সালে যেন মৃত্যুমিছিল কিছুতেই থামছে না। বিনো-দুনিয়ার আরও এক পরিচিত মুখ বিদায় নিল চিরতরে। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে এল আরও এক দুঃসংবাদ। প্রয়াত প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত। ব্রড স্ট্রিটের বাড়ির বাথরুম থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। এই অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে আক্ষেপ আর হতাশা।

ভারতীয় ফ্যাশন দুনিয়ায় পুরুষ ফ্যাশনে সাবেকিয়ানার ট্রেন্ড সেটার বলা যায় শর্বরী দত্তকে। নব্বইয়ের দশকে  ভারতীয় পুরুষের অঙ্গবাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাবর্তন ঘটান। পাশ্চাত্য প্রভাব ঝেড়ে ফেলে ভারতীয় পরম্পরার পোশাক রচনায় পথিকৃত ছিলেন শর্বরী দত্ত।

তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে কার্যত বাকরুদ্ধ টলিগঞ্জ। এদিন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন- তুমি নেই বিশ্বাস হচ্ছে না। ভালো থেকো দিদি,অনেক মানুষের মন আজ খুব খারাপ'।

সুদীপ্তা চক্রবর্তী ফেসবুকের দেওয়ালে লেখেন- ‘ওঁর পোষাক পরার সৌভাগ্য হয়েছে দু-এক বার। তবে গল্প করার, আড্ডা মারার সুযোগ হয়েছে অনেক বেশি।কি অসম্ভব হাসিখুশি, ওয়ার্ম, ওয়েলকামিং ছিলেন মানুষ টা। বিবাহিত জীবন, ঘর সংসার থেকে ফ্যাশন হয়ে সিনেমা, থিয়েটার..... সব কিছু নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছি বহুবার।বিশ্বাস হচ্ছে না শর্বরীদি আর নেই’।

শোক প্রকাশ করেছেন শ্রাবন্তী, রুক্মিনী, রাজ চক্রবর্তীরা।

রুক্মিনী মৈত্র টুইট বার্তায় লেখেন, আমি জানি না কী বলব। কিছু বলবার মতো অবস্থায় নেই, এতটাই শকড। ফ্যাশনের দুনিয়ায় তুমি অমর'।

রাজ চক্রবর্তী লেখেন, ' শর্বরী দত্তের মৃত্যুর খবর শুনে কিছু বলবার মতো ভাষা হারিয়েছি। উনি এমন একজন মানুষ যিনি বাংলাকে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা দিয়েছেন। বাংলার পোশাক এবং শিল্প নিয়ে আজীবন পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালিয়ে গেছেন। আমি সৌভাগ্যবান যে ওঁনার সঙ্গে কাজ করবার সুযোগ পেয়েছি। আশা করছি উনি কোনও ভাল জায়গায় আছেন।

পরিচালক অরিন্দম শীলের একাধিক ছবির প্রমোশ্যানাল কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন শর্বরী দত্ত, ফ্যাশন ডিজাইনারের অকাল প্রয়াণে ভাষা হারিয়েছেন তিনিও। 

পরিবার সূত্রে খবর ১৬ তারিখ রাতে ডিনারে শেষবার শর্বরী দত্তের সঙ্গে দেখা হয় ছেলের। বৃহস্পতিবার দিনভর কোনও যোগাযোগ হয়নি। সকলেই ভেবেছিলেন কাজে ব্যস্ত রয়েছেন শর্বরী দত্ত। অবশেষে রাতে ডিনারের সময়ও দেখা না মেলায় খোঁজ শুরু হয় তাঁর। অবশেষে ঘরের বাথরুম থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তাই কোন সময়, বা কী কারণে শর্বরী দত্তের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। দেহ উদ্ধার করে কড়োয়া থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এনআরএস হাসপাতালে। 

মহালয়ার দিন রাতে এইরকম একটা দুঃসংবাদ মিলবে তা স্বপ্নেও ভাবেনি টলিগঞ্জ।শর্বরী দত্তের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া বাংলার শিল্পী মহলে।

বন্ধ করুন