বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > কেরিয়ারের শুরুতেই কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এআর রহমান?
এআর রহমান (ছবি-ইনস্টাগ্রাম) 
এআর রহমান (ছবি-ইনস্টাগ্রাম) 

কেরিয়ারের শুরুতেই কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এআর রহমান?

  • ধর্ম চাপিয়ে দেওয়া যায় না, মনের সঙ্গে পরমাত্মার মিলন হলে তবেই সেই পথে হাঁটা যায়- বিশ্বাসী এরআর রহমান। আজ 'মিউজিকের ভগবান'-এর জন্মদিন।

এআর রহমানের নাম ভূ-ভারতে জানেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। ভারতীয় সংগীতকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্ব মানচিত্রে, তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অস্কারসহ নামীদামী পুরস্কার। আজ সাফল্যের শিখরে থাকলেও বহু চড়াই উতরাই পার করতে হয়েছে আল্লারাখা রহমানকে। সংগীত পরিচালক মানেই নেপথ্যের শিল্পী নয়, সুরকার হয়েও যে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হয়ে উঠা যায়- তা দেখিয়ে দিয়েছেন এ আর রহমান। তবে সংগীতের পাশাপাশি তাঁর ধর্মান্তকরণ আজও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গিয়েছে। 

জন্মসূত্রে রহমানের নাম দিলীপ কুমার। ১৯৬৭ সালের ৬ জানুয়ারি জন্ম হয় দিলীপের। দিলীপ রহমান হয়ে উঠেছিলেন বাবা তামিল সংগীত পরিচালক আরকে শেখরের মৃত্যুর কয়েক বছর পরে। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারান রহমান, এরপর গোটা পরিবারের দায়িত্ব এসে পরে ছোট্ট দিলীপের কাঁধে। মা কস্তুরী দেবী (এখন করিমা বেগম) এবং তিন বোনের দায়িত্ব ছিল দিলীপের উপর। বাবার মৃত্যুর পর অর্থকষ্ট ও সমাজিক উপেক্ষা তীব্র যন্ত্রণা দিয়েছিল দিলীপকে, ১১ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন অর্কেস্ট্রা দলের সঙ্গে কি-বোর্ড বাজাতে শুরু করেন আজকের ‘দ্য মোৎ​সার্ট অব মাদ্রাজ’। এরপর যোগ দেন ইলিয়া রাজার গানের দলে। আস্তে আস্তে শেখেন গিটার সহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজানো। বাবার পদচিহ্ন অনুসরণ করুক ছেলে বরাবরই চেয়েছিলেন মা। 

নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই রহমান এবং তার পুরো পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। দিলীপ হয়ে যান আল্লারাখা রহমান। ১৯৯২ সালে রহমানের প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ রোজা মুক্তির দিন কয়েক আগেই ধর্মান্তরিত হন সংগীত পরিচালক। রহমানের বন্ধু ত্রিলোক নায়ার সংগীত পরিচালকের জীবনীতে কৃষ্ণা ত্রিলোককে জানান শেষ মুহূর্তে ছবির ক্রেডিটে দিলীপের বদলে ছেলের নতুন নাম রহমান রাখবার দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর সাফ কথা ছিল, ‘হয় ওঁর নতুন নাম থাকবে, না হলে নাম রাখারই দরকার নেই’। 

নিজে ধর্ম পাল্টে ছিলেন খুব অল্প বয়সে, তবে জোর করে কারুর উপর ধর্ম কেন কোনও বিষয়ই চাপিয়ে দেওয়া যায় না তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন রহমান। তিনি হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে একবার জানিয়েছিলেন, ‘তুমি কিছুই চাপিয়ে দিতে পারো না। তুমি তোমার সন্তানদের বলতে পারো না ইতিহাস পড় না, কারণ এটা বোরিং, বলতে পারো না অর্থনীতি বা বিজ্ঞান নিয়ে পড়। এটা তাঁদের ব্যক্তিগত চয়েসের উপর নির্ভরশীল’। 

রহমান জানিয়েছিলেন অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করে ইসলাম গ্রহণ করলেই কি সফল হওয়া যায়? রহমান সেই প্রশ্নের কোনও জবাব দেন না। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এটা ইসলাম গ্রহণ করবার বিষয় নয়, এটা হল পরমাত্মাকে খুঁজে পাওয়া- তোমার মনকে সেটা ছুঁয়ে যাচ্ছে কিনা সেটা যাচাই করা। আধ্যাত্মিক গুরুরা,সুফি সাধকরা আমাকে, আমার মাকে যা শিখিয়েছেন সেটা অনন্য। প্রতিটি বিশ্বাসেই কিছু না কিছু অনন্যতা রয়েছে, এটা আমরা বেছে নিয়েছি এবং এটার প্রতি আমি আজীবন আস্থাশীল’। 

রহমান যোগ করেন, ‘প্রার্থনা করাটা সবসময়ই খুব লাভজনক। এটা আমাকে অনেক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করেছে। প্রার্থনার মাঝে আমি ভাবি, আমি নামাজ আদা করব তাই আমি ভুল কাজ করতে পারি না। অন্য ধর্মের মানুষরাও তাই করে থাকেন, এবং শান্তিতে সেই কাজটা হয়। আমার মনে হয় এটা সত্যি জরুরি!’

বন্ধ করুন