বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > Anjan Dutta: পশ্চিমের গান পৌঁছে দিয়েছিলেন বাঙালির কানে, অঞ্জনের জন্মদিনে ফিরে শোনা তেমন ৫ গান
অঞ্জন দত্ত (ফাইল ছবি)

Anjan Dutta: পশ্চিমের গান পৌঁছে দিয়েছিলেন বাঙালির কানে, অঞ্জনের জন্মদিনে ফিরে শোনা তেমন ৫ গান

  • বুধবার ১৯ জানুয়ারি অঞ্জন দত্তর জন্মদিন। জন্মদিনে ফিরে দেখা অঞ্জন দত্তর তেমন কিছু গান, যা এক সময়ে বাঙালিকে পৌঁছে দিয়েছিল পাশ্চাত্য সঙ্গীতের কাছাকাছি। 

১৯ জানুয়ারি, বুধবার অঞ্জন দত্তর জন্মদিন। ৬৯ বছর পূর্ণ করে ফেললেন অভিনেতা। অন্তত উইকিপিডিয়ার সূত্র তাই বলছে। 

দার্জিলিঙের সেন্ট পলস স্কুলে গোড়ার জীবন কাটানো অঞ্জন বাঙালিদের কাছে প্রথম পরিচিত হয়ে ওঠেন অভিনেতা হিসাবে। ‘ওপেন থিয়েটার’ নামক নাটকের দলে কাজ করার পাশাপাশি তিনি সিনেমার জগতেও কাজ করা শুরু করেন। মৃণাল সেনের পরিচালনায় ‘চালচিত্র’-এ তাঁর অভিনয় বিদেশের নানা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়। এর পরে ‘খারিজ’, ‘গৃহযুদ্ধ’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘অন্তরীণ’-এj মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল সমালোচক মহলে। 

১৯৯৪ সালে প্রথম গানের জগতে আসেন অঞ্জন দত্ত। প্রথম অ্যালবামের নাম ‘শুনতে কি চাও’। পরে বহু সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, গানের প্রতি ভালোবাসা, পশ্চিমের সঙ্গীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু কখনও ভাবেননি, গানকে পেশা হিসাবে বেছে নেবেন। যদিও নিতে হয়েছিল। তার কারণ বলতে গিয়ে অঞ্জন বলেছেন, উপার্জনের তাগিত। বাণিজ্যিক ছবিতে বিশেষ দেখা যেত না তাঁকে। তাই অভিনয় করে প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন করতে পারতেন না। সেই কারণেই গানের হাত ধরারও চেষ্টা।

তবে অঞ্জনের এই প্রচেষ্টা যে বাঙালি শ্রোতাদের জন্য লাভের হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইউটিউব, স্পটিফাইয়ের জমানার আগে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারা বলতে বাঙালির অবলম্বন ছিল ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাথের এলপি রেকর্ড, সদর স্ট্রিটে বিদেশি পর্যটকদের রেখে যাওয়া পুরনো ক্যাসেট আর ফি-সপ্তাহে রেডিয়োয় এক-আধ খানা বিদেশি গানের অনুষ্ঠান। 

কিন্ত বাঙালি শ্রোতা মনের খিদে তাতে মিটত না। পশ্চিমের সঙ্গীতের শ্রোতা এই বাঙালিকেই নিজের গানের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেন অঞ্জন। সেই নব্বই দশকের গোড়া থেকেই। 

হিন্দুস্তান টাইমসের তরফে রইল তেমনই পাঁচটি গানের সন্ধান, যা পাশ্চাত্যের বিখ্যাত গানের ভাবানুবাদে নির্মাণ করেছিলেন অঞ্জন। শিল্পীর জন্মদিনের রাতে এই পাঁচটি গান তাঁর অনুরাগীরা চালিয়ে শুনলে এখনও হতাশ হবেন না। 

 

  • মিস্টার হল: ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ, গান শেখানোর শিক্ষক মিস্টার হলের কথা এই গানটিতে বলেন অঞ্জন। যদিও গানের মাঝে মাঝেই ফিরে আসে সেই গানটি, যার সুর থেকে এই গানটি বানিয়েছিলেন অঞ্জন। ‘ফাইভ হান্ড্রেড মাইলস’ (500 Miles)। মূল গানটি হেডি ওয়েস্টের লেখা এবং গাওয়া। পরে অবশ্য পিটার, পল অ্যান্ড ম্যারি, ববি বেয়ার, এমনকী হালে জাস্টিন টিম্বারলেকের মতো শিল্পী এই গানটি গেয়েছেন।
  • সানশাইন: জন ডেনভারের গানের প্রতি তাঁর আকর্ষণের কথা অঞ্জন বারবার বলেছেন। ডেনভারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতো করেই এই গানটি ‘চলো বদলাই’ অ্য়ালবামে রেখেছিলেন। মূল গান ‘সানশাইন অন মাই শোল্ডারস’ (Sunshine on My Shoulders)-এর কিছুটা অংশ এখানে গান তিনি। তার সঙ্গে জুড়ে দেন নিজের করা বঙ্গানুবাদ। পশ্চিমের ফোক মিউজিকের প্রতি যাঁদের আগ্রহ আছে, তাঁদের অনেকেরই এই গানটি ভালো লেগেছিল।
  • মালা: ‘পুরনো গিটার’ অ্যালবামের এই গানটি অঞ্জনের অত্যন্ত বিখ্যাত গানের একটি। সাধারণ গরিব পরিবারের এক মেয়ে কীভাবে পৌঁছে যায় আর্থসামাজিক কাঠামোর চূড়ায়, কীভাবে বদলে যায় তার জীবন— সেই গল্প বলে এই গান। ব্রিটিশ গায়ক পিটার সারসটেটের ‘হোয়্যার ডু ইউ গো টু মাই লাভলি’ (Where Do You Go To My Lovely)-র সুর এমন মূল ভাবনার কিছুটা আদলে এই গানটি তৈরি করেছিলেন অঞ্জন।
  • ছোট বাক্স: যদিও এটি অঞ্জনের গোড়ার দিকের গান নয়। এটি ২০০১ সালে ‘রং পেন্সিল’ অ্যালবামের গান। তত দিন বিদেশের অ্যালবাম ক্যাসেট আকারে ভারতে আসতে শুরু করেছে। তবু এই গানটি জনপ্রিয় হয়েছিল শ্রোতাদের মধ্যে, তা সে যতই তাঁরা মূল গান ‘লিটল বক্সেস’ (Little Boxes) তত দিনে শুনে ফেলুন। পিট সিগারের গাওয়া গান থেকে যে সেটি অনুপ্রাণিত, তা গানের গোড়াতেই বলে দেন অঞ্জন।
  • পুরনো গিটার: যদিও এটি কোনও গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গাওয়া নয়, কিন্তু এটি অঞ্জনের সেই সব শিল্পীর প্রতি হোমেজ, যাঁরা তাঁকে গান গাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন। তালিকায় যেমন আছেন কবীর সুমন, তেমনই আছেন বব ডিলনও। ডিলনের ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’ (Blowin' in the Wind), ‘মিস্টার ট্যাম্বুরিন ম্যান’ (Mr Tambourine Man)-ও অঞ্জনকে মঞ্চে গাইতে দেখা গিয়েছে বারবার।

বন্ধ করুন