বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > দিলীপ কুমারের ‘প্রেমে পাগল’ মধুবালা এই কারণে বিয়ে করেছিলেন কিশোর কুমারকে
দিলীপ কুমারের প্রতি জমা ক্ষোভের জন্যই কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন মধুবালা
দিলীপ কুমারের প্রতি জমা ক্ষোভের জন্যই কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন মধুবালা

দিলীপ কুমারের ‘প্রেমে পাগল’ মধুবালা এই কারণে বিয়ে করেছিলেন কিশোর কুমারকে

  • শুধু কাগজে-কলমেই স্বামী-স্ত্রী ছিলেন কিশোর-মধুবালা! দিলীপ কুমারকে উচিত শিক্ষা দিতেই নাকি কিশোরের বিয়ের প্রস্তাব মেনে নেন অসুস্থ মধুবালা। 

ভারতীয় চলচ্চিত্রে যদি কাউকে সৌন্দর্য আর অভিনয়ের দেবীর আখ্যা দেওয়া হয়, সেটা মধুবালা। সাদা-কালো জমানার এই অভিনেত্রীর রূপ আর অভিনয়ের জাদুতে আজও বুঁদ আপামর ভারতীয়। বহু পুরুষ হৃদয়ে আজও ঝড় তোলেন তিনি। খুব অল্প বয়সেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যান মধুবালা, মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ইতি পড়ে এক স্বর্নিম কেরিয়ারে। ‘বলিউডের মেরিলিন মনরো’ মধুবালা জীবনের শেষ ৯ বছর ছিলেন শয্যাশায়ী। আজ বলিউডের সর্বকালের সেরা সুন্দরীর জন্মবার্ষিকী। বেঁচে থাকলে আজ মধুবালার বয়স হত ৮৮ বছর। প্রেম দিবসেই জন্মেছিলেন স্বপ্নের নয়, বাস্তবের রাজকন্যা। 

মধুবালার ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই থেকেছে লাইমলাইটে। মৃত্যুর এতবছর পরেও তাঁর জীবনে উঁকিঝুঁকি কম নয়। মধুবালার জীবনে প্রেমের হাওয়া এসেছে বারবার, বি-টাউনের বহু নামজাদা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়েছে তাঁর নাম। অভিনেতা প্রেম নাথ, পরিচালক কেদার শর্মা, কমল আমরোহি.. আরও অনেকে। কিন্তু মধুবালা যাঁকে জান-প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন তিনি একমাত্র দিলীপ কুমার। মুঘল-এ-আজমের সেলিমের প্রেমের সাগরে সত্যিই ডুব দিয়েছিলেন ‘আনারকলি’। তবে সেলিম-আনারকলির মতোই দিলীপ কুমার-মধুবালার প্রেমেও কাঙ্খিত পরিণতি পায়নি। মধুবালা চেয়েছিলেন দিলীপ কুমারকে বিয়ে করতে কিন্তু….  ভাঙা মন নিয়েই কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারকে বিয়ে করেছিলেন মধুবালা। কিন্তু সুখী হয়নি মধুবলা। ৯ বছর টিকে ছিল এই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক। 

আমৃত্যু দিলীপ কুমারের স্ত্রী ছিলেন মধুবালা
আমৃত্যু দিলীপ কুমারের স্ত্রী ছিলেন মধুবালা

মধুবালা-দিলীপ কুমারের প্রেম কাহিনির ভিলেন ছিলেন অভিনেত্রীর বাবা আতাউল্লা খান, এমনটাই দাবি করেন অনেকে। তবে অভিনেত্রীর বোন জাহিদা ওরফে মধুর ভূষণের কথায় ‘নয়া দৌড়’ ছবির শ্যুটিং চলাকালনীন সামনে আসা কোর্ট কেস তাঁদের সম্পর্কে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়, নিজেদের ইগো ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেননি এই প্রেমিক জুটি। দিলীপ কুমার নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন, আতাউল্লা (মধুবালার বাবা) এই সম্পর্কটাকে একটা বিজনেস ভেঞ্চার হিসাবে ফায়দা তুলতে চেয়েছিলেন যার জেরে সন্তুষ্ট হয়ে মধুবালার উপর থেকে মুখ ফিরেয়ে নেন তিনি। কারণ যাই হোক, এরপর কিশোর কুমারের সঙ্গে ঘর বাঁধেন মধুবালা। 

১৯৬০ সালে মধুবালাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কিশোর। ২৭ বছরের মধুবালা চটজলদি বিয়েও করে নিয়েছিলেন। যখন অসুস্থ মধুবালা চিকিত্সার জন্য লন্ডনে পারি দিচ্ছিলেন। তাঁর হৃদয়ে ছিদ্র ধরা পড়েছিল বছর তিনেক আগেই। প্রায়শয়ই তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হত। তবে কাজ থেকে বিরতি নেননি মধুবালা। বিদেশে গিয়েও লাভ হয়নি, চিকিত্সরা সাফ করে দেন এই রোগের চিকিত্সা সম্ভব নয় এবং খুব বেশি হলে মধুবালার হাতে ২ বছর সময় রয়েছে। 

লন্ডন থেকে ফেরার পর কিশোর কুমারের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায় মধুবালার, আলাদা থাকতে শুরু করেন যদিও পরবর্তী ন বছর, আমৃত্যু বিবাহিত ছিলেন দুজনে। ভিন্ন ধর্মে বিয়ের জেরে দুই পরিবারের মতপার্থক্য, মধুবালার অসুস্থতার জেরে শুধু খাতায় কলমেই ঠিকে ছিল এই বিয়ে। মধুবালার বোন মধুর রেডিফ.কমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জানান মধুবালা পাগলের মতো ভালোবাসতেন দিলীপ কুমারকে। এবং শুধুমাত্র দিলীপ কুমারকে উচিত শিক্ষা দিতে, তাঁর প্রতি রাগবশত কিশোর কুমারের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘জেদ, রাগ আর ক্ষোভ- দিলীপ কুমারের প্রেমে পাগল আমার দিদি এই কারণেই কিশোর কুমারকে বিয়ে করেছিল’। 

সেলিম-আনারকলির মতো অসম্পূর্ণ প্রেম কাহিনি দিলীপ-মধুবালার, মুঘল-এ-আজম ছবির একটি দৃশ্য
সেলিম-আনারকলির মতো অসম্পূর্ণ প্রেম কাহিনি দিলীপ-মধুবালার, মুঘল-এ-আজম ছবির একটি দৃশ্য

মধুবালার বোনের কথায় দায়িত্বশীল স্বামীর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ ছিলেন কিশোর কুমার। মুম্বইয়ের কার্টার রোডের বাংলোয় একা পড়ে থাকতেন মধুবালা, সঙ্গী বলতে একজন নার্স ও ড্রাইভার। কিশোর কুমার তিন-চার মাস অন্তর একবার খোঁজ খবর নিতে আসতেন মাত্র। 

আজীবন ভালোবাসার প্রতীক্ষায় থেকেছেন মধুবালা, তবে স্বপ্নসুন্দরীর কপালে প্রেম আর সুখী সংসার ছিল না। সেই ভার 'ফুটো' বুকে নিয়েই ১৯৬৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদায় নেন মধুবালা। 

বন্ধ করুন