বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > চার সন্তানের বাবার সঙ্গে বিয়ে! ধর্মেন্দ্র-হেমার সম্পর্কে ঘোর আপত্তি ছিল পরিবারের
ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনী। ছবি সৌজন্যে - ট্যুইটার
ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনী। ছবি সৌজন্যে - ট্যুইটার

চার সন্তানের বাবার সঙ্গে বিয়ে! ধর্মেন্দ্র-হেমার সম্পর্কে ঘোর আপত্তি ছিল পরিবারের

  • চার সন্তানের বাবার সঙ্গে হেমার বিয়ের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল পরিবার। সব জেনেবুঝেও পিছিয়ে আসেননি হেমা। 

বলিউডের অন্যতম সেলিব্রেটেড জুটি হেমা মালিনী এবং ধর্মেন্দ্র। তবে তাঁদের প্রেম কাহিনি হার মানাবে যে কোনও বলিউড ফিল্মের চিত্রনাট্যকে। হেমা-ধর্মেন্দ্র যখন একে অপরের প্রেমে পড়েন তখন ধর্মেন্দ্র আগেভাগেই বিবাহিত ছিলেন। প্রকাশ কৌর ও তাঁর দুই সন্তানও ছিল- সানি আর ববি। সহজ ছিল না পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে জীবন কাটানো। হেমা-ধর্মেন্দ্রর বিয়ের খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল বলিউডে। 

এই বিতর্কিত বিয়ে নিয়ে সিমি গেরেওয়ালের টক শো-তে মুখ খুলেছিলেন হেমা মালিনী। ১৯৯৯ সালে দেওয়া এই সাক্ষাত্কারে হেমা মালিনী জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে অভিনয় করবার পরেও বিয়ের পরিকল্পনা মাথায় আসেনি তাঁর, কিন্তু আমচকাই তাঁর মনে হয়েছিল জীবনে বিয়ে করলে ধর্মেন্দ্রর মতোই কোনও পুরুষকে বিয়ে করবেন তিনি। 

‘আমি কোনওদিন এই নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করিনি, সত্যি বলছি। এটা তো যে কেউ বলবে উনি সুপুরুষ কিন্তু এর মানে তো এটা কখনই নয় যে তুমি তাঁকে বিয়ে করবে। আমি ওঁনার সঙ্গে কাজ জারি রেখেছিলাম। কিন্তু এই মানুষটাকে বিয়ে করব এই ভাবনা সঙ্গে ছিল না, কিন্তু হ্যাঁ এঁনার মতো কাউকে বিয়ে করব সেটা ভাবতাম। কিন্তু তেমনটা ঘটে গেল, এটা ভাগ্যের খেলা কারুর হাত নেই’। 

সিমি পালটা প্রশ্ন করেছিলেন এই বিতর্কিত বিয়ে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তৈরি হওয়া ফিসফিসানি নিয়ে, পাশাপাশি এই বিয়ে নিয়ে হেমার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কি ছিল তাও জানতে চান। জবাবে হেমা মালিনী বলেন,  শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিল পরিবার। কোনও বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নেওয়াটা কঠিন। কিন্তু অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হননি হেমা। তাঁর কথায়, ‘এত লম্বা সময় কারুর সঙ্গে থাকার পর, অন্য কাউকে বিয়ে করাটা আমার পক্ষে সম্ভবপর হয়নি। সেটা ঠিক নয়। তাই আমি স্পষ্ট জানিয়েছিলাম ওকে (ধর্মেন্দ্র) ফোন করে, এবার আমায় বিয়ে করতে হবে। উনিও এরপর জানান হ্যাঁ, ঠিক আছে… আর বিয়েটা হয়ে গেল’। 

একথাও অজানা নয়, একটা সময় জিতেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছিলেন হেমা। শেষ মুহূর্তে মন বদলান নায়িকা। রাম কমল মুখোপাধ্যায়ের লেখা হেমার বায়োপিক, বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্লে অভিনেত্রী নিজে জানিয়েছেন, জিতেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর বিয়ের দিন মদ খেয়ে ধর্মেন্দ্র তাঁর মাদ্রাস (চেন্নাই)-এর বাড়ির দরজায় পৌঁছান। এবং রুখে দেন সেই বিয়ে। 

হেমার বাবার মৃত্যুর পর, ১৯৮০ সালের ২রা মে বিয়ে করেন এই প্রেমিক জুটি। করোনা আবহেই নিজেদের ৪১তম বিবাহবার্ষিকী পালন করেছেন হেমা ও ধর্মেন্দ্র। দুই মেয়ে এষা আর আহানা এবং তাঁদের সন্তানদের নিয়ে সুখী গৃহকোণ হেমার। হেমাকে বিয়ে করলেও প্রকাশ কৌরের সঙ্গে কোনওদিনই সম্পর্ক ভাঙেননি ধর্মেন্দ্র।

শুধু বাস্তব জীবনেই নয় রুপোলি পর্দাতেও সুপারহিট জুটি ধরম-হেমা। সত্তরের দশকে শোলে, সীতা অউর গীতা, দিললাগি এবং ড্রিম গার্লের মতো ছবিতে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে নিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে ৪০টিরও বেশি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন এই পতি-পত্নী জুটি।

বন্ধ করুন