বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘কারও অপছন্দের জন্য তো বন্ধুত্ব ছাড়তে পারি না,’ সাফ কথা অন্তরার
ছবি : ইনস্টাগ্রাম
ছবি : ইনস্টাগ্রাম

‘কারও অপছন্দের জন্য তো বন্ধুত্ব ছাড়তে পারি না,’ সাফ কথা অন্তরার

  • সম্প্রতি ১ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারের গণ্ডি পেরিয়েছে ‘আলু দ্য ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’। পেয়েছেন সিলভার প্লে বাটন। একই সঙ্গে ইন্ডিপেন্ডেট মিউজিক লেবেল নিয়েও কাজ করছেন অন্তরা রায় মজুমদার। এরই মাঝে রয়েছে বিতর্ক, সমালোচনা। তবে, তাতে আমল দিতে চান না অন্তরা। জানালেন তিনি নিজেই।

সিনেমার বাইরে বাংলায় মিউজিক ভিডিয়ো তুলনামূলকভাবে কম। ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেবেল নিয়ে কাজের পরিকল্পনা কি আগেই ছিল নাকি নতুন?

অন্তরা : আসলে কাজ হলেও সেভাবে প্রচার পায় না অনেকেই। তাই কম মনে হয়। কোনও প্রোডাকশন হাউজের সাহায্যও সেই অর্থে কম। তাই প্রচারও কম। কিন্তু অনেক শিল্পীই চেষ্টা করছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিক জনপ্রিয় করার। দর্শকরা পাশে থাকলেই সাফল্য আসবে বলে আমার মনে হয়।

'মন উড়ে চল' গানটা শুনে বেশ ভালো লেগেছিল। তাই আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। এর আগে যদিও এরকম কিছু করার প্ল্যান ছিল না। তবে দর্শকদের এতো সুন্দর ফিডব্যাক দেখে ভবিষ্যতে কিছু কাজের কথা চলছে।(মিউজিক মিউজিয়াম চ্যানেলে ৩ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি ভিউ হয়েছে 'মন উড়ে চল')

‘মন উড়ে চল’-এর একটি দৃশ্য। ছবি : ইউটিউব
‘মন উড়ে চল’-এর একটি দৃশ্য। ছবি : ইউটিউব (YouTube/MUSIC Museum)

তাহলে এভাবে নতুন শিল্পীদের কাজের সুযোগ বাড়ছে বলছেন?

অন্তরা : ইউটিউবের দর্শক বেড়েছে। সেই সঙ্গেই শিল্পীদের কাজের সুযোগও বেড়েছে। কারণ, ইউটিউব ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্ল্যাটফর্ম। ফলে, শিল্পীরা তাদের প্রতিভা সহজেই দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে পারছেন।

কিন্তু, YouTube-এ তো নানারকম সমালোচনাও হয়। কাজে এর প্রভাব পড়ে না?

অন্তরা : সত্যিই বেশ প্রভাব পড়ে। কখনও খুব মানসিক অবসাদও তৈরি হয়। আবার কখনও আরও ভালো কাজ করার জেদ হয়। কিন্তু দুটো ক্ষেত্রেই শেখা যায় অনেক। আর বিতর্ক হলেও, পুরোটা খারাপ নয়। চর্চায় থাকা তো ভালোই!

এক লক্ষ সাবস্ক্রাইবার নিয়ে শুভেচ্ছার পাশাপাশি অনেক কটাক্ষও হচ্ছে। কী মনে হচ্ছে?

অন্তরা : আমি শুরুর সময় থেকেই জানতাম অনেক তির্যক মন্তব্য আসবেই। কিন্তু এত ভালোবাসা আসবে জানতাম না। তাই সবসময় খারাপ মন্তব্যগুলোকে ঢেকে দিয়েছে ভালো মন্তব্যগুলো।

আমি তো বুঝতেই পারছি ইউটিউবে আমায় অনেকে চিনছে 'দ্য বং গাইয়ের' জন্য। যেমন জন্মের পর আমাকে অনেকেই চিনেছে আমার বাবার জন্য। এখন বন্ধু ইউটিউবে জনপ্রিয়। তাই বন্ধুর সঙ্গে দেখে অনেকেই চিনেছেন। কিন্তু আমি সবার চোখে কীভাবে থাকব, আমার সঙ্গে লোকজন যোগাযোগ রাখবে কিনা, আমাকে ভালবাসবে কিনা, তা তো আমার ব্যক্তিত্ব, আমার কাজের ওপরই নির্ভর করবে।

তাই তির্যক কমেন্টগুলো, বিশেষ করে ভিত্তিহীন কথা, গালিগালাজ, এগুলোকে এড়িয়েই চলার চেষ্টা করি। আর কখনও চেষ্টা করি আমার দিকটা বুঝিয়ে বলার।

এত মানুষ ভালোবেসে সঙ্গে আছেন এটাই অনেক। ভালো না বাসলে, ভালো না লাগলে তো তাঁরা থাকতেন না।

এবার যাদের পছন্দ নয় একদমই তাদের জন্য তো বন্ধুর সঙ্গে থাকা ছেড়ে দিতে পারি না। অথবা আমার ভালোলাগা, আমার মনের মত ভিডিও আপলোড করাও ছেড়ে দিতে পারি না।

বন্ধু কিরণ দত্ত ওরফে ‘দ্য বং গাইয়ের’ সঙ্গে অন্তরা। ছবি : ইনস্টাগ্রাম
বন্ধু কিরণ দত্ত ওরফে ‘দ্য বং গাইয়ের’ সঙ্গে অন্তরা। ছবি : ইনস্টাগ্রাম (Instagram/aaluthefrenchfry)

আপনি তো অনেক ভ্লগ আপলোড করেন। তো সেই ভ্লগ করতে গিয়ে কতটা পাবলিক আর কতটা প্রাইভেট রাখেন?

অন্তরা : প্রথমেই বলি, এখানে ভ্লগকে অনেকেই কন্টেন্ট বলেই ভাবেন না। হয়তো এটা তাঁদের দোষ নয়। ভারতে কমেডি কন্টেন্টকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া। কিন্তু আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে লাইফস্টাইল ভ্লগিংই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

এখানে অনেকে বলেন তুমি রান্না করছ, খাচ্ছ নাচছ, খেলছো কেন দেখতে যাব আমরা? তাহলে তো বলাই যেত যে তুমি সিনেমা বানাচ্ছ আমি কেনো দেখব? তুমি গান গাইছ, আমি কেন শুনব? মানুষের উপভোগ করাটাই তো আসল। ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্ল্যাটফর্ম। সবাই ইচ্ছা মতো ভিডিয়ো বানাতে ও দেখতে পারেন।

তাই সীমা সেইরকম কিছু না থাকাই উচিত। এখানে তো সব কিছুতে সীমা রাখতে হয়। পোশাকে, খাওয়াতে, কার সঙ্গে থাকছে, কোথায় ঘুরছে, সব কিছু নিয়েই খারাপ মন্তব্য হয়। তাই কিছুটা সীমা রাখতে হয়।

ভ্লগে তো দৈনন্দিন জীবনই কনটেন্ট। করোনা, লকডাউনের ফলে কী ভ্লগ-এর কনটেন্ট খোঁজা আরও কঠিন হচ্ছে?

অন্তরা : করোনা লকডাউন সবারই কাজে, জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে। কেউ ব্যতিক্রম নয়। কাজ করায় সরাসরি বাধা না এলেও মন খারাপ হচ্ছে। এসব কারণেই হয় তো ভিডিয়ো কম বানিয়েছি। আবার কখনও শারীরিক সমস্যাও ছিল। আর ট্রাভেল ভ্লগিং-এর ক্ষেত্রে তো সত্যিই সমস্যা হয়েছে।

ভ্লগের সঙ্গে তো রান্নার ভিডিয়োও করতেন…

অন্তরা : রান্না করতে খুব ভাল লাগে। তাই মাঝে মাঝে ভিডিয়ো করি। খুব যে মস্ত রাঁধুনি, তা নয়। তবে, বলতে বাধা নেই, কাছের মানুষরা চেটে পুটেই খান। সেভাবে শুধু রান্নার ভিডিয়ো না করলেও ভ্লগে টুকটাক রান্নার ভিডিয়ো রাখব। আর এখন কাছের বন্ধুরাও রান্নার প্রতি এত আগ্রহ দেখাচ্ছে যে তাদের সঙ্গে ভিডিয়ো বানানোর পরিকল্পনা করছি।

এখন তো ইউটিউবই পেশা। YouTuber না হলে কী পেশা হত?

অন্তরা : সরকারি চাকরির আশায় মা শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতেন। এখনও রোজ বলেন। তাই ঠিক কী পেশা হত নিজের বলা মুশকিল।

তাছাড়া, আমাদের দেশে মন থেকে পেশা বাছার ক্ষমতা খুব কম মানুষের থাকে। ছোটো বেলায় RJ(রেডিও জকি) হওয়ার খুব শখ ছিল। মাঝে দুই বছর জ্ঞানবাণী এফ এম-এ আবৃত্তির অনুষ্ঠান করেছি। তাতে দুধের সাধ ঘোলে মিটিয়েছি।

আবৃত্তি তো পোস্ট-ও করেন মাঝে মাঝে। YouTube, Facebook-এর মাধ্যমে বাচিকশিল্প কী জনপ্রিয় করা সম্ভব?

অন্তরা : অবশ্যই সম্ভব। অনেকেই শুনতে ভালবাসেন আবৃত্তি। কোনো বাধায় থেমে গেলে চলবে না। চেষ্টা করে যেতে হবে মানুষের কাছে পৌঁছনোর।

কিন্তু, শুধু আবৃত্তি করতে জানলেই তো হবে না। আবৃত্তি ফেসবুক, Youtube-এ কনটেন্ট হিসেবে তৈরি করার ক্ষেত্রে কী কী করা প্রয়োজন?

অন্তরা : আমি তো মোবাইলেই শ্যুট করি। আর মোবাইলেই এডিট করি। মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টাটাই সব। তবে চাইলে অনেক কিছুই আরও ভালো করা যায়। ভালো মাইক, ভালো এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়। আর কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের একটি নতুন অডিয়ো প্রোজেক্ট আসছে। সবার মতামতের অপেক্ষায় থাকব।

এক লক্ষ তো হল। আগামিদিনে লক্ষ্য কী?

অন্তরা : ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করব। আশেপাশের সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করাটাই একমাত্র লক্ষ্য।

বন্ধ করুন