পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়।
পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়।

টলিউডে গ্যাং অফ সিক্স-এর অত্যাচার বন্ধ! বিস্ফোরক পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

মুখ খুললেন পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়। ‘অমুকের ছবিতে দুই দিয়ে দে!! এই সব দাদাগিরির দিন শেষ। আমার খুব মজা লাগছে এখন থেকে গ্যাং অফ সিক্সের অত্যাচার বন্ধ হবে। আর একটা কনসেনট্রেটেড মনোপলি তৈরি হবে, সেখানে সিনেমাটা তাঁরাই চালাবে।’ HT Bangla-য় আজ অকপট পরিচালক। রইল বিশেষ সাক্ষাৎকার।

আপনি মুখ খুলেছেন। সমর্থন করছেন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে। কম বাজেট অথচ অসাধারণ সব কনসেপ্ট নিয়ে তৈরি হবে বাংলা ছবি। কতটা সফল হবে এই  নতুন ধারার ছবির ভাবনা? 

অনিকেত - অসম্ভব বাজে একটা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আমরা পড়তে চলেছি। এর ফলে দু'টি জিনিস হবে। যেটা ভালো জিনিস সেটা  হচ্ছে, মানুষ অনেক বেশি ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর নির্ভিরশীল হয়ে উঠবে। সিনেমা হলে যেতে মানুষ ভয় পাবে কারণ পাশাপাশি বসা দর্শকের থেকে আবার কোন রোগ নিয়ে আসবে সেই আশঙ্কায় মানুষ আতঙ্কিত থাকবে। এই  লকডাউনের সময়টায় আমরা ডিজিটাল মিডিয়ার সঙ্গে অনেকটাই অভ্যস্থ হয়ে উঠেছি।  বাড়িতে বসেই নেটফ্লিক্স, হটস্টার ইত্যাদিতে সিনেমা দেখা যাচ্ছে, ওয়েব সিরিজ দেখা যাচ্ছে, টিভিতে সিনেমা রিলিজ হলে সেটাও ঘরে বসেই দেখা যাচ্ছে। এখনকার টিভি তো আর ১০/১৫ বছর আগের টিভি নয়, এখন প্রায় সকলের বাড়িতেই  বড় বড় এল-ই-ডি, ডিজিটাল এই সব টিভি চলে এসেছে। সাউন্ড এফেক্ট, পিকচার কোয়ালিটি অসাধারণ। সিনেমা হলের মতো না হলেও বেশ ভালোই দেখা যায়। এখন থেকে যাঁরা ডিজিটালের জন্য ছবি বানাবেন তাঁরা টিভির কথা ভেবে এবং সাইজের কথা ভেবেই ছবি বানাবেন। 

আরও  একটা ভালো দিক যে কারও হাতে আর রইল না। আমি চাইলে, যে কোনও   ডিজিটাল প্ল্যটফর্মে রিলিজ করতে পারি, ইউটিউবে রিলিজ করতে পারি,  ্নিজে চ্যানেল করেও রিলিজ করতে পারি। ন্যাচেরালি একটা রাস্তা খুলে গেল, মানুষ এটা অ্যাকসেপ্ট করবে। এটা এক ধরণের মনোপলি ব্রেকার। কত গুলো লোক নিজেরাই কন্ট্রোল করবে, নিজারাই সিনেমা বানাবে, নিজেরাই রিভিউ করবে, নিজেরাই ঘোষণা করবে, এটা এক সপ্তাহ চলবে না, ওটা দু' সপ্তাহে তুলে দেবো, ভাবখানা এমন , ‘ কেমন দিলাম বল'! ছবি রিলিজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই যে উন্মাদ বদমাইশি শুরু হয় এটা এবার কমবে। এটা অবশ্যই ভালো একটা দিক।

এবার খারাপ দিকটার কথা বলি, সিনেমার যে এক্সপিরিয়েন্স, সেটা আমরা হারাবো। সিনেমা মানে ধরুন, ১২ লেন্সে পুরুলিয়ার বিশাল মাঠ দিয়ে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ছবিতে একটা সাইকেল চলে যাচ্ছে, সেই যে একটা দৃশ্য বা পথের পাঁচালীর সেই দৃশ্যটা যেখানে বাচ্চাটা বিশাল পুকুরের ধার দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে আর মিষ্টিওয়ালা পিছন পিছন যাচ্ছে। তাঁদের সেই ছবিটা পুকুরের জলে পড়েছে সেই যে বিশাল ফ্রেম সেই ফ্রেম সেগুলো আমরা হারাবো। এবং সিনেমাটা কুক্ষিগত হয়ে যাবে গুটিকয়েক বড় প্রডিউসারের মধ্যে। ইন্ডিভিজু্যাল প্রডাউসারস মানে যে গুলো হলে রিলিজ করবে সেগুলো আর ছোট প্রডিউসাররা করবে না। সেটা একটা খারাপ দিক।

আপন খেয়ালে।
আপন খেয়ালে।

অর্থনীতির যা টালমাটাল অবস্থা তাতে সিনেমা এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি এখন কোন পথে হাঁটবে বলে মনে হয় আপনার?

অনিকেত - করোনা এল, ইকনামির বারোটা পাঁচ বাজিয়ে দিল । দেশের প্রধান মন্ত্রী উন্মাদ। অর্থ মন্ত্রীর কোনও ধারণা নেই দেশ কীভাবে চলে! কতগুলো উন্মাদ, বদমাইশ, জোচ্চোরদের হাতে দেশ। অর্থনীতির যা অবস্থা, এটা খুব খারাপ করল। এর ফলে দু'টো জিনিস হবে, ছোট  প্রডিউসার আর থাকবেনা। বড় হলে রিলিজ করার জন্য যে সিনেমা সেই গুলোর কথা বলছি।  হয়ত কলকাতায় ‘এস ভি এফ’ সহ দু' একটা হাউস থাকবে।  ছোট  বাজেট যাঁরা ইন্ডিভিজুয়াল করতেন এক কোটি দেড় কোটি দিয়ে, সেইরকম আর করবেন না।  আর যাঁরা করবেন তাঁরা ডিজিটালি মাথায় রেখেই করবেন। বাজেট কমবে তো অবশ্যই।

অনেক গুলো  ভালো জিনিস হবে। ওভার রেটেড সমস্ত আর্টিস্ট, মানে একজন জুনিয়ার আর্টিস্ট সারাদিন ফ্লোরে থেকে দিন প্রতি ছ'শো সাতশো টাকা পান। সেই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে একেকজন আর্টিস্ট এক লক্ষ, দেড় লক্ষ টাকা ক্লেম করেন দিনপ্রতি।  তাঁরা ছবিতে কী দেন? কী আছে তাঁদের মধ্যে যে এতটা টাকার পার্থক্য ? এই কারণেই বাজেটটা ছোট ছবির জন্য আর নেই। যাঁরা ডিজিটাল ছবি বানাবেন তাঁরা অ্যফোর্ট করতে পারবেন না এই দামী আর্টিস্টদের। সরাসরি এন্টারটেইনমেন্ট ওয়ার্ল্ডে একটা ভাগ হয়ে যাবে। আমাদের টলিউডে একজন প্রথম সারির  হিরোকে খুব কম করে ধরেও যদি তাঁকে রাজি করানো হয় তাহলেও তাঁর বাজেট ত্রিশ/ বত্রিশ লাখ। এমনিতে তাঁরা পঞ্চাশ  ষাট লাখ নিয়ে থাকেন।   সেখানে আমরা ভাবছি এখন আঠেরো, কুড়ি লাখে ডিজিটালে সিনেমা বানানোর কথা। সেক্ষেত্রে কীভাবে কজ হবে? যাঁরা নতুন কাজ করতে এসেছেন তাঁরা কোনও ভাবেই অ্যফোর্ট করতে পারবেন না।  তাই নতুন আর্টিস্ট এবং টিম নিয়েই কাজ করতে হবে। একটা সেপারেট এন্টারটেইনমেন্ট ওয়ার্ল্ড তৈরি হতে যাচ্ছে, একটা সেপারেট সেট অফ আর্টিস্ট তৈরি হতে যাচ্ছে।

 একটা মেগা সিরিয়েলে যাঁরা নাম ভুমিকায় অভিনয় করতে আসছেন তাঁরা যেদিন কাজ করতে শুরু করছেন তার তিন মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট কিনছেন, গাড়ি কিনছেন।্তাঁদের জীবন যাত্রাই বদলে যাচ্ছে। সেই মেগা সিরিয়ালেই অন্য সব ছেলে মেয়েয়া যাঁরা সারাদিন কাজ করছে বিভিন্ন ছোট চরিত্রে তাঁরা সারে চারশো, পাঁচশো টাকা পাচ্ছে দিনপ্রতি। এইটা কিন্তু বদলে যাবে। ডিফারেন্স সেট অফ আর্টিস্ট হবে। ডিফারেন্স সেট অফ ডিরেক্টরস হবে। একদল ডিজিটাল ছবি তৈরি করবেন, যেখানে দারুণ দারুণ ছবি তৈরি হবে। এক্সপেরিমেন্ট হবে ছবি নিয়ে।

 

কাজের ফাঁকে।
কাজের ফাঁকে।

ভাগ হলেও তাঁরা তো থেকেই যাচ্ছেন। নিজেদের জায়গাটায় সেই একই জিনিস করেই যাবেন। সেই বাজেট, সেই রিলিজ , সেই আধিপত্য, তাঁদের কথাই শেষ কথা ইত্যাদি।

অনিকেত- সেটা ক'টা? একটা জিনিস জানবে, যেটা অধিকাংশ মানুষ দেখবে এবং অ্যকসেপ্ট করবে সেটাই কিন্তু ধিরে ধিরে শিল্প বা সাহিত্য হয়ে ওঠে। না হলে তো ‘দেশ’ ছাড়া আর কোনও সাহিত্য পত্রিকাই  আমরা পেতাম না। আমার খুব মজা লাগছে এখানে গ্যাং অফ সিক্সের অত্যাচার বন্ধ হবে ,আর একটা কনসেনট্রেটেড মনোপালি তৈরি হবে, সেখানে সিনেমাটা তাঁরাই চালাবে।

আইনক্সের বক্তব্য সম্বন্ধে আপনার মতামত?

অনিকেত - আইনক্স যেমন বলছে আমরা পেট্রনাইস করলাম। কী পেট্রনাইজ করল? যত কটা বাংলা ছবি রিলিজ করছে গত একবছরে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি,তার মধ্যে চার থেকে পাঁচটি ছবির প্রযোজক কিছু টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকি ছবির প্রযোজক টাকা ফেরত পান নি। কিন্তু মাল্টিপ্লেক্স লাভ করেছে। প্রতিটা শো থেকে তারা লাভ করেছে।  প্রতিটা শোয়ের টিকেটের  থেকে তারা লাভ করছে। পপকর্ন, কোল্ড ড্রিংক্স পঞ্চাশ গুন বেশি দামে বিক্রি করছে। মানুষকে সেটা খেতে বাধ্য করা হয়েছে। বাইরে থেকে কিছু নিয়ে ঢুকতে দেবে না। তারা লাভ করছে এবং টিকেটের একটা অংশ শুধু আমায় দেওয়া হচ্ছে। কেন একটা অংশ আমায় দেবে? সিনেমা দেখাবে বলে যাঁকে মাল্টিপ্লেক্সে  ঢুকিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে  তাঁকে তুমি কুড়িটাকার পপকর্ন তিনশ টাকায় বিক্রি করছ! এই যে টাকাটা লাভ হচ্ছে তোমার সেই লাভের অংশ কেন দেবে না প্রডিউসারকে? কে প্রশ্ন করবে? ন্যাচেরালি মানুষ এগুলো আর নেবে না। মানুষ মোবাইলে বা টিভিতে সিনেমা দেখে নেবে। আজকের জেনারেশনের বয়ে গেছে ২৫০ টাকা দিয়ে টিকিট আর আড়াইশো টাকা দিয়ে পপকর্ন কিনে পাঁচশ টাকা খরচ করে সিনেমা দেখতে। 

একটা দল ঠিক করে দেবে বাংলা ছবি কেমন হবে। বাংলা ছবির ভবিষ্যত কী, কে ডিরেক্টর, কে আর্টিস্ট! তো তাঁরাই ঠিক করুক এখন বসে বসে। একটা ভাইরাস, যার প্রাণ নেই, নিউক্লিক অ্যাসিড আর খানিকটা প্রোটিন। সে এসে বুঝিয়ে দিয়ে গেল তোরা কেউ কিচ্ছু না। এতদিন তোরা শুধু ফুটানি করছিলি।

 

শঙ্কর মুদি। অনিকেত চট্টোপাধ্যায়, ছবি ফেসবুক।
শঙ্কর মুদি। অনিকেত চট্টোপাধ্যায়, ছবি ফেসবুক।

সোশ্যল মিডিয়াতে আপনার  এই সংক্রান্ত সোজা সাপটা পোস্টে  কারও কারও আপত্তি রয়েছে। আবার সমর্থনও বিপুল। একটু খুলে বলুন।

ওয়ান টু ওয়ান বিষয়টা পাত্তা দেওয়ার মতো বিষয় নয়। আমার বক্তব্যটা আরও বড় জায়গা থেকে, কার ছবি, কারা দেখতে যায়, কীভাবে ছবি দেখানো হবে, আর ছবি দেখানোর আগে কে ঠিক করে দেবে ছবি গুলো কে করবে, না করবে! তারাই ঠিক করে দেবে হিরো কে হবে, তারাই ঠিক করে দেবে  অন্যান্য আর্টিস্ট কারা থাকবেন, ডিরেক্টর কে হবেন, তারাই রিভিউ ঠিক  করে দেবে! রিভিউ কী হবে সেটাও তাঁরা বলে দেবেন। এটা কী হচ্ছে?

 ধরো তুমি একটা ছবি বানালে, এদিক ওদিক থেকে টাকা জোগার করে, ক্রাউড ফান্ডিং করে হাতে পায়ে ধরে তুমি একটা ছবি তৈরি করলে, তার একটা পোস্টার তুমি আইনক্সে রেখে এলে। পরদিন গিয়ে দেখলে সেই পোস্টার আর নেই। বাথরুমের পাশে ঠেলে  ফেলে রেখেছে। আর ওই জায়গায় তিন মাস পর রিলিজ করবে এমন একটি বিগ ব্যানারের ছবির পোস্টার রাখা। অথচ তোমার ছবিটা সাত দিন পর আসবে! এটা কি প্রচারের ঠিক রাস্তা ? তাই যা হওয়ার তাই হয়েছে। এখন এই ভাবেই জবাব পাচ্ছে।

 

অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। ছবি ফেসবুক
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। ছবি ফেসবুক

আপনি নিজেও দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন। একটি ছবির হিট বা ফ্লপের জন্য সংবাদ মাধ্যম সত্যিই কতটা দায়ী?

অনিকেত - কিছু সাংবাদিকদের এত ক্ষমতা যে তাঁরা বলেন, তোমাকে শেষ করে দেবো, তোমাকে ডিরেক্টর হতে দেবো না, তোমার জন্য এটা করে দেবো, সেটা করে দেবো, এমন রিভিউ করে দেবো যে জীবনে কাজ করতে পারবে না ইত্যাদি। আজ সেই সব সাংবাদিকদের অফিসেও ডাকছে না, ফোন করে বলে দিচ্ছে যে কাল থেকে আর আপনাকে দরকার নেই। এই তো অবস্থা। কাজেই যে কাজ তুমি করছ সেটা অনেস্টলি করো। যদি ছবি রিভিউ করতে হয় ছবিটা দেখে তবেই করা উচিত। কোনও বড় দাদা বলে দিল ওই ছবিতে এক বা দুই দিয়ে দে, ওটা আবার ছবি নাকি! ওমনি সেই ছবি নিয়ে যা খুশি তাই লিখে নিন্দে মন্দ করতে শুরু করলে, সেটাকে সাংবাদিকতা বলে না। আজ কিন্তু সেই সাংবাদিকদের চাকরি নেই। সেই সকল দাদাদের বাবারা আজ আর তাঁদের দেখল না! এটাই সময়ের  নিয়ম। দু'টো ঘটনা বলছি।  

আমার ছবি ‘কবির’ মুক্তি পাওয়ার পর কলকাতা বড় কাগজ, বাংলা এবং ইংরেজি দুই-ই রয়েছে, তার ইংরেজি কাগজটি  রিভিউতে আড়াই দিয়ে  যা তা  লিখল। এদিকে তারই পালটা কাগজ  চার দিয়ে লিখল দারুণ হয়েছে। আমি এডিটরকে ফোন করলাম ধন্যবাদ জানানোর জন্য, তিনি আমায় বললেন ‘এবার ছেড়ে দিলাম। তোমার নায়ককে বলবে এসে দেখা করতে। না হলে কিন্তু এর পরের বার যা করার তা করে দেবো। কেমন দিল ইংরেজি কাগজ?’!! এখান থেকেই তো বোঝা যাচ্ছে সব ঠিক করা থাকে।  এই যদি সাংবাদিকতা হয়, এটা যদি ফিল্ম রিভিউ হয় তাহলে আমার কিছু বলার নেই।

 

ঘরোয়া আড্ডায়। ছবি ফেসবুক
ঘরোয়া আড্ডায়। ছবি ফেসবুক

 এতদিন একটা দল বসে ঠিক করত, আচ্ছা অমুকের ছবি, দুই দিয়ে দে! এই দল সকালে একসঙ্গে বসে ব্রেকফাস্ট খায়, চা খায়, সেলফি তোলে ছবির হিরো হিরোইনদের সঙ্গে। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির মাথায় বসে ক্ষমতার আস্ফালন করে গিয়েছে। ডুবিয়ে দিয়েছে কত ছবির  ভবিষ্যত। এমনও হয়েছে ছবির রিলিজের আগেই তার রিভিউ লেখা হয়ে গিয়েছে। খুব মর্মান্তিক একটা ঘটনা বলি, বাপ্পাদিত্য বন্দোপাধ্যায় জাতীয় পুরাস্কার প্রাপ্ত একজন বাঙ্গালি পরিচালক। তাঁর ছবি রিলিজের আগেই রিভিউ লেখা হয়ে গিয়েছিল। আমায় বাপ্পাদা যখন সেই ঘটনা জানান আমি ভেবেছিলাম উনি হাইপার হয়ে হয়ত বলছেন। কিন্তু রিলিজের পর যখন কাগজ দেখলাম, তাতে বাপ্পাদা যে রিভিউয়ের কথা বলেছিলেন  তা হুবহু মিলে যাচ্ছে। হেড লাইনটাও এক! এই শকে তাঁর মৃত্যু হয়। ভাবা যায়?  ক্ষমা করা যায়? আজ সেই সব সাংবাদিকদের অনেকেরই চাকরি নেই। দাদাগিরি বন্ধ।  আবার নতুন করে বাংলা ছবির ভালো দিন আসছে সেটা আশা করাই যায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

   

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বন্ধ করুন