বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > নুসরত-নিখিলের বিয়ে অবৈধ? কী বলছে স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট,১৯৫৪
নুসরত-নিখিলের বিয়ে কি সত্যি অবৈধ? 
নুসরত-নিখিলের বিয়ে কি সত্যি অবৈধ? 

নুসরত-নিখিলের বিয়ে অবৈধ? কী বলছে স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট,১৯৫৪

  • বিশেষ বিবাহ আইনের আওতায় রেজিস্ট্রেশন না হয়ে থাকলে কি নুসরত-নিখিলের সামাজিক বিয়ে অবৈধ? 

নুসরত জাহান ও নিখিল জৈনের দাম্পত্য কলহ বুধবার এক্কেবারে নয়া মোড় নিল। ছয় মাস ধরে চলে আসা বিচ্ছেদের খবর নিয়ে এদিন মুখ খুললেন নুসরত। সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ জানালেন নিখিল জৈন নাকি তাঁর স্বামী নন! তাঁদের বিয়ে অবৈধ, বেআইনি। 

ঠিক কী বলেছেন নুসরত? ‘তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে ওই বিয়েটা অবৈধ। তার উপর এটা যেহেতু হিন্দু-মুসলিম বিয়ে সেক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে এই বিয়েতে স্বীকৃতি দরকার। সেটা হয়নি। ফলে এটা বিয়েই নয়’। নুসরত যোগ করেন, ‘আইনের চোখে এটাই বিয়েই নয়, বরং একটা রিলেশনশিপ বা বলা যায় লিভ ইন রিলেশনশিপ। তাই ডিভোর্সের প্রশ্নটাই উঠে না'। 

সত্যি কি নুসরত-নিখিলের বিয়ে অবৈধ?  স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট কী? চলুন আগে সেটা জেনে নেওয়া যাক। 

বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪ হল ভারতীয় সংসদের একটি আইন যা ভারতে এবং ভারতের বাইরে বসবাসকারী সব ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রণয়ণ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের ধর্ম বা বিশ্বাস যাই হোক না কেন, এই আইনের দ্বারা বিবাহ করলে, সেগুলি কোন বাধা হয় না। এই নাগরিক বিবাহ আইন, যে কোনও মানুষকে বিবাহ করার অনুমতি দেয়। এটি আন্তঃ বর্ণ এবং আন্তঃ ধর্ম দুই ধরনের বিবাহের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়।

আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা এই বিতর্ক নিয়ে জানিয়েছেন, ভারতীয় সংবিধানে সব ধর্মের মান্যতা রয়েছে, দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষ বিয়ে করতে চাইলে কোনও বাধা নেই। কিন্তু সেই বিয়েটা স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টে রেজিস্ট্রার করাতে হয়। তাতে ধর্মান্তকরণ না হয়েও বিয়ে সম্ভব। 

দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষের বিয়ে যদি স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টের আওতায় রেজিস্ট্রার না করা হয়ে থাকে তবে একপক্ষ সেই বিয়ে অবৈধ এমন দাবি তুলতে পারেন। সেটা আইনি পরিভাষায় ভয়ডেবেল ম্যারেজ (Voidable marriage) বলা হয়। এক্ষেত্রে বিষয়টি (বিয়ে বৈধ না অবৈধ) আদালত নির্ধারণ করবে। 

‘হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে বিবাহে হোম ও সপ্তপদী সম্পন্ন হলেই তা বিয়ের মান্যতা পায়, অবশ্যই রেজিস্ট্রেশনও গুরুত্বপূর্ণ। আর, মুসলিম ম্যারেজ অ্যাক্টে তিনবার কুবল হ্যায় বললেই  বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে যদি পাত্র-পাত্রী দুই বিপরীত ধর্মের হলে একজন ধর্মান্তরিত হলে তবেই সমাজিক রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয়’, যোগ করেন আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা।

সুতরাং নুসরতের দাবি অনুসারে বিয়ে রেজিস্ট্রি না হয়ে থাকে তবে সেই বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। কারণ দুই ধর্মের মানুষের কেউ যদি ধর্মান্তকরণ না করে সামাজিক বিয়ে করেন এবং সেটি স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টে রেজিস্টার না করা হয় তবে সেই বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। 

নিখিল জৈন ইতিমধ্যেই নুসরতের বিরুদ্ধে সিভিল স্যুট ফাইল করেছেন আদালতে। মামলার তারিখ ২০শে জুলাই। এখন দেখবার নুসরত-নিখিলের দাম্পত্য বিবাদ নিয়ে আদালত কী রায় দেয়!

বন্ধ করুন