বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > জ্যামিং সেশন উইথ পুপুন…টলিউডের নতুন মেলোডি!
সঙ্গীত পরিচালক  এবং গায়ক পুপুন।
সঙ্গীত পরিচালক  এবং গায়ক পুপুন।

জ্যামিং সেশন উইথ পুপুন…টলিউডের নতুন মেলোডি!

টলিউডের নতুন মেলোডি! মিউজিক কম্পোজার এবং সিঙ্গার পুপুন মন্ডল। ওয়েস্টার্ন রক ব্যান্ডের প্রেমে পড়েই তাঁর মিউজিক্যল জার্নি শুরু। তাঁর মতে, অনেক কিছু আসবে যাবে কিন্তু মেলোডিটা থেকে যাবে। ওয়েব সিরিজ 'সিন' এর সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তিনি। আড্ডা টাইমসে স্ট্রিমিং চলছে। আজ আড্ডা দিলেন HT Bangla-র সঙ্গে।

মিউজিক ডিরেকশন, সঙ্গে অ্যাক্টিং। অভিজ্ঞতা কেমন? 

মিউজিক কম্পোজার হিসেবে ওয়েব সিরিজে এটাই আমার প্রথম কাজ। আমার খুব কাছের মানুষ অরুণাভ খাসনবীশ আমাকে এই কাজটার প্রস্তাব দেয়। ওই এই ওয়েব সিরিজটার পরিচালক। মিউজিক এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সবটাই আমার করা। গান গেয়েছেন পোর্শিয়া সেন ও স্নেহাশীষ দাস। আড্ডা টাইমসে ইতিমধ্যেই স্ট্রিমিং শুরু হয়ে গিয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘সিন’ এর। যতটা সম্ভব প্রাণ ঢেলে কাজটা করেছি। এবার অপেক্ষা মানুষের প্রতিক্রিয়ার। দর্শক, শ্রোতার ভালো লাগলেই আমার মিউজিকের সার্থকতা। এখানে আমি একটা ধূসর  চরিত্রে অভিনয়ও করেছি। তবে সেটা অভিনেতা হিসেবে নয়, আমার অ্যাক্টিংয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে একটু চেষ্টা মাত্র।

পপ, রক, ব্যান্ড মিউজিক, জার্নিটা শুরু হয়েছিল কেমন করে?

‘লেটার্স ফ্রম শিলিগুড়ি’ বলে একটা পপ অ্যালবাম তৈরি করেছিলাম। কম্পোজিশন, মিউজিক অ্যরেঞ্জমেন্ট আমি নিজেই করেছিলাম।  ২০১১তে  মুক্তি পায় অ্যলবামের প্রথম পার্ট, আর ২০১২ তে সেকেন্ড পার্ট। প্রথমটিতে  কলকাতা এবংশিলিগুড়ির অর্টিস্টরা-  যেমন সিধুদা, সাকি, সহ আরও কয়েকজন মিলে অ্যলবামটায় কাজ করেছিলাম। আর দ্বিতীয়টিতে  ইন্দো-বাংলাদেশ যৌথ শিল্পীদের নিয়ে কাজটা হয়েছিল। বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় শিল্পী বাপ্পা মজুমদার, টকুভাই সহ আরও অনেকেই ছিলেন। পরের অ্যলবামটায় আমায় সাহায্য করেছিলেন অম্লান  চক্রবর্তী। সেই সময় ভারত এবং বাংলাদেশ দুই জায়গাতেই পপ মিউজিক  বা ওয়েস্টার্ন মিউজিকের ভক্তদের কাছে  খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল অ্যলবাম গুলো।  পার্ট থ্রি করার ইচ্ছে ছিল, অনেকে বলেও ছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তাছাড়া আমরাও নিজেদের অন্যান্য মিউজিকের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।

ইথার-এর ‘আমি’র সাকসেস স্টোরিটা কেমন ছিল?

লেটার্স ফ্রম শিলিগুড়ির পর ‘ইথার’ বলে একটি ব্যান্ড জয়েন করি। এই ব্যান্ডটির সঙ্গে আমি অনেকদিন থেকেই  অ্যসোসিয়েট ছিলাম কিন্তু ব্যান্ড মেম্বার হিসেবে নয়, এমনি ওদের সঙ্গে শো করতাম। আমি জয়েন করার পর  এখানে আমাদের একটি অ্যালবাম রিলিজ করে, এবং খুব তাড়াতাড়ি সেটা হিট হয়। অ্যালবামের একটি গান ‘আমি’ তখন ম্যাসিভ হিট করে। এম-টিভি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে নমিনেট হয় ‘আমি’। এরপর 'এম ও টু' সহ আরও বেশ কিছু ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছি। ওয়েস্টার্ন মিজিকের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ব্যান্ড মিউজিকের ওপর টান অনুভব করি। তবে আপাতত ব্যান্ড থেকে বিরতি নিয়ে নিজের কম্পোজিশন নিয়ে সোলো মিউজিক কম্পোজার হিসেবে কাজ করতে আরম্ভ করেছি।

লেটস রক!
লেটস রক!

নর্থ বেঙ্গলে মিউজিক নিয়ে কিছু প্ল্যানিং?

আমি বেড়ে উঠেছি শিলিগুড়িতে। নর্থ বেঙ্গল অসম্ভব মিউজিক্যল। গান বাজনার চল ঘরে ঘরে। এখানে প্রচুর ছেলেমেয়ে বিশেষ করে ইউথদের মধ্য ওয়েস্টার্ন মিউজিক নিয়ে কালচার করার প্রবনতা রয়েছে। শুধু শিলিগুড়ি নয়, যদি একটু হিলসের দিকে যাই, বা পুরো নর্থ ইস্টটাকেই ধরি তাহলে দেখা যাবে রক,পপ,জ্যাজ, গিটার ড্রামস এই সব নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রচুর ব্যান্ড। এবং তাঁদের কিছু কিছু কম্পোজিশন তো অসাধারণ। যদি এঁরা ঠিকঠাক চর্চা করে বা সুযোগ পায় তাহলে অনেক দূর যাবে। যেমন গিটার, ফ্লুট এগুলো যেন মায়ের পেট থেকেই শিখে জন্মেছে! পাহাড়ের গভীরে এমন এমন কিছু গ্রাম রয়েছে সেখানে এমন অনেক প্রতিভা রয়েছে যাঁদের কথা কেউ জানতেই পারে না! ওই নিজেদের এলাকায়, আশেপাশের লোকজনদের মধ্যেই থেমে যায় তাঁদের মিউজিক। বড়জোর কলেজ ফেস্ট। যাঁরা শহরে থাকে এবং যাঁদের অর্থ রয়ছে তাঁরা কেরিয়ারের জন্য কলকাতা আসে, কেউ মুম্বই যায়। কিন্তু যতই ট্যলেন্ট থাক, একজন অতি সাধারণ পরিবার থেকে আসা ছেলের পক্ষে ওই ইন্টেরিয়ার থেকে শহরে গিয়ে মিউজিক কেরিয়ার গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব। আমি চাই ওঁদের জন্য কিছু করতে।

নর্থ-ইস্টে  এক্সপোজারের অভাবে অনেক ন্যচেরাল ট্যালেন্ট হারিয়ে যায়। সেই ব্যাপারে কোনও ভাবনা?

ভবিষ্যতে শিলিগুড়িতে একটা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি হওয়া উচিত। আমি গত ২৭ বছর ধরে মিউজিকের মধ্যে রয়েছি। একটা ক্ষোভ রয়েছে আমাদের, যে কেন শিলিগুড়িতে ইন্ডাস্ট্রি  নেই? হ্যাঁ এখানে অনেক ছবি তৈরি হয়, কিন্তু সেগুলো একটা শ্রেনির মধ্যেই আবদ্ধ। বাইরে থেকে এসে অনেকে শুটিং করে যায়, কিন্তু মেইন স্ট্রিম ফিল্মের কোনও ইন্ডাস্ট্রি এখানে নেই। তেমনই এখানে মিউজিকের অনেক উপাদন থাকলেও নিজস্ব মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নেই, যদি থাকত তাহলে আরও অনেক সঙ্গীত প্রতিভাকে খুব সহজে আমাদের মধ্যে পেতাম। ওই যে বললাম কার্শিয়াং, দার্জিলিং এইসব জায়গায় আকছার চোখে পড়ে দারুণ দারুন সব মিউজিশিয়ানদের। কেবল এক্সপোজারের অভাবে তাঁদের পক্ষে মিউজিককে কেরিয়ার করা সম্ভব হয় না। একটা সময়ের পর তাঁরা গান বাজনা ছেড়ে অন্য প্রফেশনে চলে যেতে বাধ্য হন। দেখুন ভাবনা অনেক কিছুই রয়েছে, এক্ষুনি কিছু বলতে চাই না, তবে এই ট্যালেন্ট গুলো যেন হারিয়ে না যায়, সেটাই হবে আমার চেষ্টা। 

 

লাইভ শোতে পারফর্ম করছেন পুপুন
লাইভ শোতে পারফর্ম করছেন পুপুন

ব্যন্ডের জনপ্রিয়তা এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। ভবিষ্যতে কোন ধরণের মিউজিক  রাজত্ব করবে?

বছর ১৫ আগে  ব্যন্ডের যে আগুনটা ছিল সেটা কিন্তু এখন আর নেই। এই সময়টা ব্যান্ডের জন্য নয়।  হাতে গোনা কয়েকটা ব্যান্ড কলেজ ফেস্ট বা টুকটাক শো করছে। বাকি সব ব্যান্ডগুলো ট্রান্সফ্রম করে গিয়েছে  হিন্দি ব্যান্ডে,  ওই হিন্দি গান গুলোকে একটু রক স্টাইলে নিজেদের মতো করে গেয়ে শো করছে। কারণ অরিজিনাল ব্যান্ডের গান শোনার শ্রোতা কমে গিয়েছে। শো'তে গিয়ে আসল কম্পোজিশন হয়ত গাইতে যাচ্ছে কোনও ব্যান্ড তখন পাবলিক বলে উঠছে এটা শুনবে না তাঁরা, ফিল্মি রক চাই তাঁদের। এই পরিস্থিতইতে দাঁড়িয়ে ব্যান্ড মিউজিক করা সম্ভব নয়। আর তাছাড়া ব্যান্ডের ছেলেদের একটা আলাদা মাইন্ডসেট রয়েছে । তাঁরা নিজেদের কম্পোজিশন এবং অরিজিনাল কম্পোজিশন নিয়েই কাজ করতে চায়। এখন একটা অন্যধারা চলছে, তবে আবার ব্যান্ড ফিরবে।

মিউজিকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনটা? আগামী প্ল্যানিং কী?

অনেক বছর ব্যান্ড করলাম। কর্পোরেট শো, বিভিন্ন স্টেজ শো, কলেজ ফেস্ট, কম্পিটিশন, লাইভ শো ইত্যাদি। কিন্তু এখন আমার নিজের কম্পোজিশন নিয়ে একটু  একটু করে কাজ করতে শুরু করেছি। মেলোডিটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন অনেক কিছু আসবে যাবে, কিন্তু  যেটা থেকে যাবে সেটাই মেলোডি। মিউজিকের মাধ্যম যাই হোক না কেন, মেলোডি ছাড়া সেটার কোনও গ্রহনযোগ্যতাই নেই। কিছু মেইন স্ট্রিম বাংলা ছবিতে মিউজিক করার সুযোগ এসেছে। আরও কিছু ওয়েব সিরিজের কথা চলছে। আপাতত অরিজিনাল কম্পোজিশন নিয়েই কাজ করবো। এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলা মিউজিক নিয়ে কিছু করতে গেলে অবশ্যই কলকাতায় থাকতে হবে। যাঁরা বলিউডে কাজ করতে চান তাঁদেরও মুম্বই যেতে হবে। আগে শিলিগুড়ি, কলকাতা যাতায়াত করে কাজ করতাম। এখন বেশিরভাগ কলকাতাতেই থাকছি। লকডাউন শেষ হলে আগামী কাজ গুলোর সম্বন্ধে সবাইকে জানাতে পারবো।

মেলোডিটাই আসল
মেলোডিটাই আসল
বন্ধ করুন