বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > গাঁজা ‘হানিকারক নয়’ দাবি জাভেদ আখতারের, সন্তানরা মারিজুয়ানা সেবন করলে কী বলবেন ?
প্রথম পক্ষের দুই সন্তান ফারহান,জোয়া এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শাবানা আজমির সঙ্গে জাভেদ আখতার 
প্রথম পক্ষের দুই সন্তান ফারহান,জোয়া এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শাবানা আজমির সঙ্গে জাভেদ আখতার 

গাঁজা ‘হানিকারক নয়’ দাবি জাভেদ আখতারের, সন্তানরা মারিজুয়ানা সেবন করলে কী বলবেন ?

  • দেশের যে কোনও কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে একটু খুঁজলেই গাঁজা বা চরসের সন্ধান পাওয়া যাবে, দাবি জাভেদ আখতারের। 

অভিনেতা সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তে বলিউডের মাদকযোগ সামনে আসাবর পর থেকেই রীতিমতো বিতর্কে বি টাউন । এরই মাঝে গাঁজা এবং চরসকে অত্যন্ত সাধারণ মানের নেশার বস্তু হিসেবে মন্তব্য করে চমকে দিলেন প্রখ্যাত সুরকার ও লেখক জাভেদ আখতার । দাবি করলেন দেশের যে কোনও কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে একটু খুঁজলেই গাঁজা বা চরসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে । কাজেই একেবারেই নিষিদ্ধ কোকেন বা এলএসডির সাথে কখনোই এগুলিকে গুলিয়ে ফেলা উচিৎ নয় । রাস্তায় কেউ যদি আপন খেয়ালে গাঁজা সেবন করেন , তাহলে কোনও পুলিশ অফিসার তাঁর দিকে সাধারণত কোনও গুরুত্ব দেন না । সমস্যাটা তখনই হয় যখন কেউ এই নিষিদ্ধ বস্তুগুলির পাচার চক্র বা বিপুল পরিমাণে সংগ্রহের কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়েন জানালেন জাভেদ ।

সম্প্রতি বলিউডের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা মাদক চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে জোর কদমে তদন্তে নেমেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো । এই আবহেই পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত গীতিকার বলেন , 'আমি কখনও শুনিনি গাঁজা খেয়ে কেউ কাউকে খুন করে দিয়েছে।' কিন্তু যদি কখনও জানতে পারেন আপনার দুই সন্তান জোয়া এবং ফারহান আখতার , দুজনেই মাদক সেবন করেন , তখন কি করবেন ? সম্প্রতি বরখা দত্তের সঞ্চালনায় আয়োজিত একটি সাক্ষাৎকারের মঞ্চে এই প্রশ্নের উত্তরে জাভেদ বলেন , 'আমি অবশ্যই তাদের নিষেধ করব। অনুরোধ করব যাতে তারা এই কেউ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসে । সাবধান করবো , কারণ আমি জানি এই বস্তুগুলি দিনের শেষে শরীরের ক্ষতিই করে । যেমন ধরুন এককালে আমি নিয়মিত মদ্যপান করতাম । কিন্তু ১৯৯১ সালে আমি সম্পূর্ণ এই অভ্যাস ছেড়ে দি , কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম প্রত্যেকদিন এই নেশা কীভাবে আমার শরীরের ক্ষতি হচ্ছে । সেই থেকে আজ অবদি কোনওদিন মদের গ্লাস ছুঁয়ে দেখিনি । কাজেই সন্তানদেরও আমি একই কথা বলব . তারা যদি শোনে তো ভাল , নাহলে আমি আর কি করতে পারি । ওরা দুজনেই প্রাপ্ত বয়স্ক , নিজের ভালো মন্দ বিচারের বয়স ওদের হয়েছে । '

যদিও পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে গাঁজাকে আইনত নিষিদ্ধ মাদকের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তবে ভারতে এখনও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই মত জাভেদের ।তেমনটা হলে আমাদের মতন দেশে নিষিদ্ধ মাদক আগমনের রাস্তা আরও সুপ্রশস্ত হয়ে উঠবে, বলেই মনে করেন জাভেদ আখতার। 

ইতিমধ্যেই একাধিক প্রথমসারির বলি তারকার নাম এই চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে বলে মনে করছে এনসিবি । একাধিক মাদকপাচারকারীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়ে আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে আছেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী ও তাঁর ভাই শৌভিক । এছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদের কারণে ডেকে পাঠানো হয়েছে দীপিকা পাডুকোন , রাকুল প্রীত , শ্রদ্ধা কাপুরের মতো তারকা অভিনেত্রীদের ।

তবে এই মুহূর্তে মিডিয়ায় বলিউডের মাদকযোগ নিয়ে বাড়বাড়ন্ত করা হচ্ছে বলেই মনে করছেন জাভেদ আখতার। তাঁর মতে আজকালকার প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন এবং স্মার্ট , তারা খুব ভালো করে জানে কিভাবে নিজের শরীরের যত্ন নিতে হয় । দাবি করলেন , আজকের যুবসমাজ দিনে ২ থেকে ৩ ঘন্টা জিমে গিয়ে ওয়ার্কআউট করে । তারা জেনে বুঝে নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে! এমন তত্ত্বে কিছুটা হলেও আপত্তি রয়েছে তাঁর । 

বন্ধ করুন