বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > জিয়া খানকে অন্তর্বাস খুলতে বলেছিল সাজিদ খান, বিস্ফোরক প্রয়াত অভিনেত্রীর বোন
ফের বিতর্কে সাজিদ খান
ফের বিতর্কে সাজিদ খান

জিয়া খানকে অন্তর্বাস খুলতে বলেছিল সাজিদ খান, বিস্ফোরক প্রয়াত অভিনেত্রীর বোন

  • এর আগে ২০১৮ সালে সাজিদের বিরুদ্ধে মিটুর অভিযোগ এনেছিলেন সোনালি চোপড়া ও ব়্যাচেল হোয়াইটরা। 

২০১৮ সালে পরিচালক সাজিদ খানের বিরুদ্ধে মিটুর অভিযোগ এনেছিলেন বলিউডের একাধিক নায়িকা। ফের একবার যৌন হেনস্থার অভিযোগ 'হাউজফুল', ‘হে বেবি’ খ্যাত পরিচালকের বিরুদ্ধে। এর আগে সোনালি চোপড়া ও ব়্যাচেল হোয়াইটের আনা মিটু (MeToo) অভিযোগের জেরে হাউজফুল ৪-এর পরিচালকের আসন ছেড়ে দিতে হয়েছিল সাজিদকে। ফারহা খানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন এক মহিলা সাংবাদিকও। এবার প্রয়াত অভিনেত্রী জিয়া খানের বোন করিশ্মার অভিযোগ, ‘জিয়াকে যৌন হেনস্থা করেছেন সাজিদ’। বিবিসির তথ্যচিত্র ‘ডেথ ইন বলিউড’-এ এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন জিয়ার বোন। 

ভিডিয়োতে জিয়ার বোন করিশ্মাকে জানান, সাজিদ স্ক্রিপ্ট রিডিং সেশন চলাকালীন জিয়াকে তাঁর 'টপ এবং ব্রা' খুলে ফেলতে বলেছিলেন। ‘মহড়া চলছিল, জিয়া চিত্রনাট্য পড়ছিল, এবং ওকে আচমকাই টপ এবং ব্রা খুলতে বলে সাজিদ। ও বুঝেই উঠতে পারছিল না কী করবে? এখনও ছবির শ্যুটিংও শুরু হয়নি। আর এই পরিস্থিতি!', তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্বে এই কথা বলতে শোনা গেল করিশ্মাকে। কেবলমাত্র ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যতেই মুক্তি পেয়েছে ‘ডেথ ইন বলিউড’ তথ্যচিত্র- যার দ্বিতীয় এপিসোডের কেন্দ্রবিন্দু জিয়া খানের রহস্যমৃত্যু। 

টুইটারে এই ভিডিয়ো ক্লিপ শেয়ার করেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। ভিডিয়োতে করিশ্মা বলেন, ‘সাজিদের কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসেছিল জিয়া। বলেছিল, আমার কনট্রাক্ট রয়েছে। যদি আমি ছেড়ে বেরিয়ে আসি, আমার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেবে, আর বদনাম করবে। যদি আমি থেকে যাই, তাহলে যৌন হেনস্থার মুখে পড়ব বারবার। দুই ক্ষেত্রেই হারটা জিয়ার ছিল', জানান করিশ্মা। সেই সময় তাঁর মাত্র ১৬ বছর বয়স ছিল করিশ্মার। দিদির সঙ্গে সাজিদের বাড়ি গিয়েছিলেন তিনিও, তাঁর উদ্দেশ্যেও অশালীন মন্তব্য করেছিলেন সাজিদ।

কঙ্গনা এই প্রসঙ্গে লেখেন- ‘ওরা জিয়াকে মেরে ফেলল, ঠিক যেমন সুশান্তকে মেরে দিয়েছে। আমাকেও মেরে ফেলবার চেষ্টা করেছে- তবে ওরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, ওদের সঙ্গে মাফিয়াদের মদত রয়েছে- যা ওদের শক্তিশালী করে তোলে আর সফলতা এনে দেয়। জেনে রাখো এই দুনিয়াটা আদর্শ নয়, তুমি হয় শিকার নয় তো শিকারী। তোমাকে কেউ বাঁচাবে না, তোমাকে নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে হবে’। 

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া হাউজফুল ছবিতে সাজিদের পরিচালনায় কাজ করেছিলেন জিয়া। ছবিতে দেখা মিলেছিল অক্ষয় কুমার, দীপিকা পাড়ুকোন, লারা দত্ত, অর্জুন রামপালদেরও। এটাই ছিল প্রয়াত নায়িকার শেষ ছবি। ২০০৭ সালে নিঃশব্দ দিয়ে বলিউড সফর শুরু করা জিয়া খানের কেরিয়ার আচমকাই থমকে গিয়েছিল এই ছবির পর। তিন বছর পরে ২০১৩ সালের ৩রা জুন গভীর রাতে জিয়ার মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ। মুম্বই পুলিশের দাবি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন জিয়া, দু-দিন পর অভিনেত্রীর ফ্ল্যাট থেকে সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়। সেখানে আত্মহত্যার জন্য কাউকে দায়ী না করেও  প্রেম সম্পর্কের টানাপোড়েন ও গর্ভপাতের কথা উল্লেখ করেন জিয়া। অভিনেতা সূরজ পাঞ্চলির সঙ্গে প্রেম সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন জিয়া, লিভ ইন করতেন তাঁরা। জিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারও হন সূরজ। আপতত এই মামলা সিবিআইয়ের জিম্মায়। জামিনে মুক্ত রয়েছেন সূরজ পাঞ্চলি। 

বন্ধ করুন