বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > অর্কদীপকে চ্যাম্পিয়ান করতে ‘ঘুষ’ খেয়েছে বিচারকরা, ট্রোলারদের সপাট জবাব দিলেন জয় সরকার
বিতর্ক নিযে মুখ খুললেন জয় সরকার
বিতর্ক নিযে মুখ খুললেন জয় সরকার

অর্কদীপকে চ্যাম্পিয়ান করতে ‘ঘুষ’ খেয়েছে বিচারকরা, ট্রোলারদের সপাট জবাব দিলেন জয় সরকার

  • ‘এটা একদম ঠিক,গান-বাজনা কিছু না জেনেই আমি ওখানে বসবার সুযোগ পেয়েছি, সেটা আমি মেনে নিচ্ছি’, এ কথাও শোনা গেল জয় সরকারের মুখে। 

রবিবার রাতে সারেগামাপা-র চ্যাম্পিয়ান হিসাবে অর্কদীপ মিশ্রার নাম ঘোষণার পর থেকেই নেটমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক। দর্শকদের অনেকেই বিজয়ী হিসাবে অর্কদীপকে মেনে নিতে পারছেন না। এই নিয়ে ঘটে চলা ট্রোলিং নিয়ে আগেই মুখ খুলেছেন অর্কদীপ-ইমনরা। এবার সব অভিযোগের জবাব দিলেন শোয়ের অন্যতম বিচারক জয় সরকার। শুরুতেই তিনি দাবি করেন, এই রিয়ালিটি শো জনতার কাছে ব্যাপর জনপ্রিয়, সেইজন্যই এত বিতর্ক।

ফেসবুক লাইভে জয় সরকার জানান,'সারেগামাপা গ্র্যান্ড ফিনালে শেষ হওয়ার পর থেকে সংগীতপ্রেমীদের থেকে আমরা রিঅ্যাকশন পাচ্ছি, সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছে এই শো’টা কতটা জনপ্রিয়। তবে এর জেরে আরও যেটা ঘটছে তা হল আমরা আক্রমণের মুখে পড়েছি, সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বলা হচ্ছে এই প্রতিযোগিতার পুরো পদ্ধতিটাই স্ক্রিপ্টেড, এমনকি কে চ্যাম্পিয়ান হবে সেটাও স্ক্রিপ্টেড- সর্বোপরি আমরা টাকা খেয়েছি। এই শো-য়ের বিচারকের আসন অলঙ্কৃত করবার পারিশ্রমিক নিয়েছি তা নয়, তার বাইরে আমরা বিচারকরা নাকি ঘুস নিয়েছি। তাহলে আপনাদের বলি, এই অনুষ্ঠানটা স্ক্রিপ্টেড হয় না, সত্যিটা হল এই অনুষ্ঠানের কোনও স্ক্রিপ্টই হয় না’। 

গত কয়েকদিনে অনেকেই বিচারকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সেই ট্রোলারদেরও পালটা দেন জয় সরকার। বিনয়ের সুরে বলেন,'এটা একদম ঠিক,গান-বাজনা কিছু না জেনেই আমি ওখানে বসবার সুযোগ পেয়েছি, সেটা আমি মেনে নিচ্ছি। আমি সত্যি কিচ্ছু জানি না, কারণ সংগীত নামক বিষয়টা মহাসমুদ্র’। জয়ের কথায়, ‘প্রয়াত আলি আকবর খাঁ-ও এক সময় বলেছিলেন সংগীত সমুদ্রের মতো। এক জীবনে তাকে জানা অসম্ভব।’ 

সারেগামাপা বিতর্ক নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন জয় সরকারের স্ত্রী,সংগীত শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র।জয় সরকারের মতো সংগীত সাধকের পক্ষে কোনওদিনই সংগীত নিয়ে অবিচার করা সম্ভবপর নয়।এদিন লোপামুদ্রাকে একধাপ ছাপিয়ে গেলেন জয় নিজে। 

কোন নিয়মে,কী পদ্ধতিতে এই এই শোয়ের জাজমেন্ট হয়, তা দর্শকদের জানা সম্ভবপর নয়, সেই নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন শিল্পী। তিনি বলেন, ফাইনাল রাউন্ডে পাঁচ বিচারকের সম্মিলিত নম্বরের ভিত্তিতে অর্কদীপ বিজয়ী হয়েছে। সেখানে শোয়ের চার নিয়মিত বিচারক ছাড়াও ছিলেন শংকর মহাদেবণ। শো-এর নিময় মেনে চার থেকে ছয়জন প্রতিযোগী ফাইনালে উঠেছে, এবং সেখান থেকে একজন সেরা হয়েছেন। তবে এর বাইরেও অনেক প্রতিযোগী রয়েছেন যাঁদের কণ্ঠ, গায়কি কান পেতে শোনবার মতো, মনে করিয়ে দেন জয় সরকার।

এরপর অভিমানের সুরে তিনি বলেন, ‘বিচারকের আসনে বসা ছাড়াও আমি আরও একটি ভূমিকা পালন করি। শো শেষের পর এই নতুন শিল্পীদের জন্য নতুন গান তৈরি করি। যাতে ওঁরা সেই গান গেয়ে নিজেদের পরিচয় আরও উজ্জ্বল করতে পারেন।’ এই ব্যাপারে তিনি শোভন-কুশলের মতো গায়কদের উদাহরণ টানেন, তাঁরই সুরেই প্রথমবার ছবিতে গান গেয়েছে সারেগামাপা থেকে উঠে আসা এই শিল্পীরা। 

লোকগান নিয়ে কিছু মানুষের এই নাক সেঁটকানো মনোভাবেরও তীব্র নিন্দা করেছেন জয় সরকার। তিনি বলেন, ‘মার্গসঙ্গীতের পরেই লোকগানের স্থান। এই ধারার গানে এত বৈচিত্র্য, যে এই ঘরানার শিল্পীদের আর অন্য কোনও দিকে যেতে হয় না। অর্কদীপ তাই লোকগান গেয়েই খুশি’।

ট্রোল করবার ক্ষেত্রে দর্শকরা যতটা ঐক্যবদ্ধ বাংলা গান নিয়েও ততটা সরব হলে আজ কলকাতার এফএম চ্যানেলগুলিতে বেসিক বাংলা গান বাজত, আক্ষেপের সুরে বললেন জয় সরকার।

বন্ধ করুন