বাড়ি > বায়োস্কোপ > দলিত কন্যাকে দত্তক নিয়েছিলেন কঙ্গনার মা, পড়াশোনা শিখিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছেন
কঙ্গনা রানাওয়াত ও তাঁর মায়ের দত্তক কন্যা 
কঙ্গনা রানাওয়াত ও তাঁর মায়ের দত্তক কন্যা 

দলিত কন্যাকে দত্তক নিয়েছিলেন কঙ্গনার মা, পড়াশোনা শিখিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছেন

  • রাজকুমারী নামের দলিত কন্যাই কঙ্গনার মায়ের সবচেয়ে বড় সন্তান। যাঁকে রাজুদি বলে ডাকেন কঙ্গনা রানাওয়াত। 

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর মামলায় একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। সম্প্রতি রিপাবলিক টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলিউডের মাদক যোগ নিয়ে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন পর্দার কুইন। এর মাঝে সোমবার নিজের জীবনের এক অজানা সত্য ঘটনা সামনে আনলেন কঙ্গনা। অভিনেত্রী জানান এক দলিত কন্যাকে দত্তক নিয়েছিলেন তাঁর মা। একাধিক টুইটে সেই কাহিনি শেয়ার করে নেন কঙ্গনা। কী কারণে এই এতদিন পরে এই অজানা কাহিনি শেয়ার করলেন কঙ্গনা? অভিনেত্রীর কথায় তাঁকে একাধিক খবরে ট্যাগ করেন নেটিজেনরা যেখানে বর্তমানে দেশের নানান প্রান্তে দলিতদের উপর অত্যাচারের কথা উল্লেখিত থাকে। 

কঙ্গনা নিজের মেয়েবেলার একটি ছবি শেয়ার করেন যেটি তাঁর মায়ের দত্তক কন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানের। কঙ্গনা লেখেন, প্রিয় বন্ধুরা আমি দেখি বহু মানুষ আমাকে ট্যাগ করে সেইসব নিউজ অ্যার্টিকেলে যেখানে দলিতদের উপর ঘটে চলা অত্যাচারের কথা বলা হয়,এবং অনেক ওভারস্মার্ট মানুষজন যারা শুধু কিছু সংবাদের মধ্যে দিয়েই ভারতকে চিনতে চায় তাঁরা মর্ডান ভারত নিয়ে আমার ভাবনাচিন্তার খিল্লি ওড়ায়। তাই আমি আমার এবং আমার দিদি রাজুদির (ছবিতে কনের সাজে) জীবনের একটা কাহিনি ভাগ করে নিচ্ছি, দয়া করে পড়ে দেখুন'। ছবিতে কঙ্গনার পাশাপাশি দেখা মিলেছে তাঁর দিদি রঙ্গোলি চান্দেলেরও।

কঙ্গনা টুইটারে লেখেন, তাঁর মায়ের তখন সদ্য বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের গ্রামে এক দলিত মহিলার (মনসা) তৃতীয়বার কন্যা সন্তান জন্মেছিল অথচ তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি ছিল না তিন সন্তানকে পালন করবার। তাই নিজের শ্বশুর-শাশুড়ির ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ওই দলিত মহিলার সর্বকনিষ্ঠ কন্যা রাজকুমারীকে দত্তক নিয়েছিলেন কঙ্গনার মা। তাঁর পড়াশোনা, ভরণপোষণের সব দায়িত্ব পালন করেছেন কঙ্গনার মা। কঙ্গনা ও রঙ্গোলির সঙ্গে তাঁদের বাড়িতেই বড়ো হয়েছে রাজকুমারী, যাঁকে রাজুদি বলে ডাকেন কঙ্গনা। শুরুর দিকে এই নিয়ে কঙ্গনার আত্মীয়রা মায়ের বিরোধিতা করেছিল, তবুও নিজের সিদ্ধান্ত পাল্টাননি তিনি। ২১ বছর বয়সে সেই দলিত কন্যার বিয়েও দিয়েছিলেন কঙ্গনার মা। 

কঙ্গনা জানান, আপতত চন্ডীগড়ে থাকেন রাজুদি। সদ্যই রাজুদির ছেলের বিয়ে হল। সেই ছবি হাতে পেয়েই নস্টালজিক কঙ্গনা। 'নবদম্পতির ছবি দেখে আমার মা বিড়বিড় করে বলল এই মেয়েটা ব্রাহ্মণ জানিস, তবে এটা খবরে দেখাবে না কেউ', টুইট করেন কঙ্গনা রানাওয়াত।

এদিন সেই দলিত মহিলা, মানসার সঙ্গেও ছবি পোস্ট করেন কঙ্গনা। লেখেন, ইনি মনসা মাসি,একদম আমার মায়ের মতো, আমার ভাই-বোনেদের জন্যও। আমার বাবা-মা এটাই শিখিয়েছেন। তই রাজনৈতিক স্বার্থের উপরে উঠে এই ভারতের ছবিই আমি তুলে ধরতে চাই মানুষের সামনে। 

গত মাসেই কঙ্গনা রানাওয়াত সরসারি টুইটারে যোগ দিয়েছেন। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি কঙ্গনার উপস্থিতি ছিল না। সুশান্ত মামলায় সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তি চাক্ষুস করবার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে নিজের মতামত পাল্টে টুইটারে যোগ দিয়েছেন কঙ্গনা।

বন্ধ করুন