বাড়ি > বায়োস্কোপ > ‘কারুর বাপের ক্ষমতা থাকে তো আটকে দেখাক’, ৯ তারিখ মুম্বই ফেরবার কথা ঘোষণা কঙ্গনার
 কঙ্গনা রানাউত।
 কঙ্গনা রানাউত।

‘কারুর বাপের ক্ষমতা থাকে তো আটকে দেখাক’, ৯ তারিখ মুম্বই ফেরবার কথা ঘোষণা কঙ্গনার

  • টুইটারে নিজের মুম্বই এয়ারপোর্টে নামবার সময় পর্যন্ত জানিয়ে দেবেন কঙ্গনা রানাওয়াত। শিবসেনাকে তাঁর চ্যালেঞ্জ পারলে আটকে দেখান।

কঙ্গনা রানাওয়াতের মুম্বইতে থাকবার অধিকার নেই। শুক্রবার এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। বৃহস্পতিবার মুম্বইের সঙ্গে পাক অধিকৃত কাশ্মিরীরের তুলনা টেনেছিলেন কঙ্গনা, এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই শিবসেনা এবং উদ্ধব সরকারের রোষের মুখে পড়েছেন এই বলিউড অভিনেত্রী। 

যদিও কারুর হুমকির মুখে পড়ে পিছিয়ে যাওয়ার পাত্রী নন কঙ্গনা। বরং টুইটারে আরও ক্ষুরাধার পর্দার ঝাঁসির রানি। মুম্বই তাঁর কর্মভূমি, কারুর ‘কারুর বাপের ক্ষমতা থাকে তো আটকে দেখাক’ মায়ানগীরতে প্রবেশ করা থেকে, এই ভঙ্গিতেই আক্রমণ শানালেন কঙ্গনা।

তাই নিজের মুম্বই ফেরার যাবতীয় তথ্য পাবলিক প্ল্যাটফর্মেই দিয়ে দিলেন কঙ্গনা। শুক্রবার দুপুরে কঙ্গনা টুইট করে  বলেন, বহু মানুষের তাঁর মুম্বই ফেরার ব্যাপারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই তিনি ঠিক করে ফেলেছেন ৯ সেপ্টেম্বর মুম্বই ফিরবেন তিনি। শুধু তাই নয় কঙ্গনা জানান ঠিক কটার সময় মুম্বই এয়ারপোর্টে পৌঁছাবেন তিনি সেটাও টুইট করে জানিয়ে দেবেন তিনি। সঙ্গে লেখেন, ‘কারুর বাবার ক্ষমতা থাকে তো আটকে দেখাক’।

অন্যদিকে শিবসেনার মহিলা শাখার পক্ষ থেকে এদিন পথে নেমে কঙ্গনা রানাওয়াতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। তাঁর ছবিতে কালি লাগানো, জুতোর মালা পরানো হয়। শিবসেনার এমএলএ প্রতাপ সরনায়ক ধমকি দেওয়ার সুরে বলেন, কঙ্গনার উপর আমাদের মহিলা মোর্চার যোদ্ধার আক্রমণ করলে আমাদের দল দায় শিকার করা থেকেও পিছপা হবে না। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তিনি মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে এই শিবসেনা নেতাকে দ্রুত গ্রেফতার করতে বলেছেন।

কঙ্গনার বিরুদ্ধে শিবসেনার মহিলা বাহিনীর বিরোধ প্রদর্শন
কঙ্গনার বিরুদ্ধে শিবসেনার মহিলা বাহিনীর বিরোধ প্রদর্শন

শিবসেনা নেতা তথা সাংসদ সঞ্জয় রাউত সম্প্রতি দলের মুখপত্র সামনায় দাবি করেন,'যদি কঙ্গনা রানাওয়াতের মনে মুম্বই পুলিশকে নিয়ে কোনও সম্মান না থাকে, অভিনেত্রী মুম্বই পুলিশকে অপেশাদার ভাবেন তাহলে আমরা বলব ওঁনার মুম্বই ফেরার দরকার নেই'। এরপরেই মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কঙ্গনার বিবাদ চরমে পৌঁছায়। টুইটারে ট্রেন্ড, পাল্টা ট্রেন্ড শুরু হয়ে যায় কঙ্গনার এই মন্তব্যকে ঘিরে।

শুক্রবার মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সঞ্জয় রাউতের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, কঙ্গনা মুম্বই শহর এবং মুম্বই পুলিশকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তারপর ওঁনার মুম্বই কেন মহারাষ্ট্রের কোথাউ থাকবার অধিকার নেই। অনিল দেশমুখ বলেন, ‘যেভাবে উনি মুম্বই পুলিশকে এবং মু্ম্বইকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন, উঁনার মুম্বই এবং মহারাষ্ট্রে থাকবার কোনও অধিকার নেই’।

অনিল দেশমুখের মন্তব্যের পরেও চুপ থাকেননি কঙ্গনা। তিনি পরিচিত ভঙ্গিতেই জবাব দিলেন এই মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের। টুইট বার্তায় অভিনেত্রী লেখেন, ‘কঙ্গনার মুম্বইতে থাকার কোনও অধিকার নেই, আমরা নিশ্চিত করব ও মুম্বইতে ঢুকতে না পারে, আমরা ওকে পিটিয়ে মারব, পাথর ছুঁড়ে, রড দিয়ে-ঠিক যেমনভাবে পালঘরের সাধুদের মারা হয়েছিল। এরা নিজেরাই নিজেদের একদিনে পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে তালিবানে প্রমোট করে দিচ্ছে, সেটার প্রসংশনীয়’।

বন্ধ করুন