শুক্রবার কনিকা কাপুরের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
শুক্রবার কনিকা কাপুরের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)

প্রশাসনের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুললেন করোনা আক্রান্ত কনিকা কাপুর

'স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে থাকার কোনও নির্দেশ ছিল না সরকারের তরফে.. এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং এড়ানোর কোনওরকম চেষ্টাই করিনি'-দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের অভিযোগ উড়িয়ে মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল কনিকা কাপুরের।

শুক্রবারই বি-টাউনে প্রথম করোনা সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ‘বেবি ডল’ খ্যাত গায়িকা কনিকা কাপুরের শরীরে মিলেছে COVID-19 ভাইরাসের উপস্থিতি। এরপর থেকেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কনিকা কাপুরকে। কনির বিরুদ্ধে অভিযোগ এয়ারপোর্টে থার্মাল স্ক্যানিং পর্যন্ত এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, লন্ডন থেকে ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা তো দূরের কথা বরং লখনউতে হাইপ্রোফাইল পার্টিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। কনিকা কাপুরের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষুদ্ধ নেটিজেনরা।

লখনউ পুলিশ কমিশনার সুজিত পাণ্ডে জানিয়েছেন, সরোজিনী নগর পুলিশ থানায় গায়িকার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮,২৬৯ এবং ২৭০ ধারায় অভিযুক্ত কনিকা। তিনি জানিয়েছেন, হজরতগঞ্জ এবং গোমতিনগরে আরও দুটো এফআইআর দায়ের করা হবে কনিকার বিরুদ্ধে। লন্ডন থেকে ফেরার পর, ১১ মার্চ এই দুই পুলিশ থানার আওতাধীন তিনটি জায়গায় প্রকাশ্যে দেখা মিলেছে শিল্পীর।

সমালোচনার মুখে পড়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে কনিকা জানিয়েছে, আমি শুনছি কেউ কেউ বলছে আমি নাকি স্ক্রিনিং (থামার্ল) এড়াতে এয়ারপোর্টের ওয়াশরুমে লুকিয়ে ছিলাম! আপনারাই বলুন আন্তর্জাতিক বিমান থেকে এসে কেউ ইমিগ্রিশনের সময় কীভাবে স্ক্রিনিং এড়াতে পারে? আমাকে মুম্বই বিমানবন্দরে যথাযতভাবে স্ক্রিনিং করা করা হয়েছিল। আমি একদিন মু্ম্বইয়ে ছিলাম। কিন্তু যেহেতু সবকিছুই প্রায় বন্ধ ছিল এবং কোনও কাজ হচ্ছিল না শহরে তাই আমাকে বাবা-মা বলে বাড়ি চলে আসতে। আমি লখনউ পৌঁছাই ১১ তারিখ সকালের বিমানে। সেই সময় সরকারের তরফে এমন কোনও নির্দেশিকা ছিল না যে বিদেশ থেকে ফিরলে কাউকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তাহলে সবাই কেন ভাবছে আমার এটা করা উচিত ছিল? বিশেষত যখন আমার স্ক্রিনিং করা হয়েছিল এবং আমি যখন মুম্বই থেকে রওনা দি, আমার কোনওরকম স্বাস্থ্যজনিক সমস্যা দেখা দেয়নি। চারদিন আগেই আমার এই সংক্রান্ত(করোনাভাইরাস)লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

লখনউতে কনিকা যে হাইপ্রোফাইল পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন সেখানে হাজির ছিলেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং বিজেপির সাংসদ দুষ্মন্ত সিং, আপতত স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন কনিকার সংস্পর্শে আসা এই দুই নেতা। দুষ্মন্ত সিংয়ের সংস্পর্শে আসার কারণে নিজেদের গৃহবন্দি করে রেখেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, অপনা দল সাংসদ অনুপ্রিয়া প্যাটেলরা।



সামাজিকভাবে মেলামেশা বন্ধ না করে পার্টি করা প্রসঙ্গে কনিকা জানান, তিনি কোনও পার্টি আয়োজন করেন নি। গায়িকার কথায়, আমি কোনও পার্টির আয়োজন করিনি। হ্যাঁ, আমি একটা জন্মদিনের পার্টিতে যোগ দিয়েছিলাম,সেখানে বসুন্ধরা রাজেজি ছিলেন, আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা হাজির ছিলেন-যেমন দুষ্মন্ত সিং। কিন্তু সেটা কোনও বড় জমায়েত ছিল না, যেমনটা মিডিয়া রিপোর্ট বলছে। ঘরোয়া একটা পার্টি, এবং সেখানে আমি আমন্ত্রিত ছিলাম। আর এইজন্য আমি স্বাস্থ্যকর্তাদের সবার নাম বলেছি,যাঁরা সেদিনের ওই পার্টিতে হাজির ছিল।

কনিকা আরও বলেন, কোনওভাবেই তিনি এই মহামারী নিয়ে অসতর্ক ছিলেন না। তাঁর কথায়, আমি আমার এক বন্ধুকে ফোন করি, যে নিজে একটা হাসপাতাল চালায়, যাতে আমার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা যায়-তাতে ভাইরাস আছে কিনা। সে জানায়, এব্যাপারে আমাকে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি হেলপলাইন নম্বরে ফোন করি, আমার লক্ষণ শুনে তারা জানায়,এটা করোনাভাইরাসের মতো নয়, হয়ত সাধারণ ফ্লু হয়েছে। তাও আমি অনেক অনুরোধ জানাই-তারপরেই স্বাস্থ্য দফতর থেকে আমার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আমি নিজেই জোরাজুরি করেছিলাম আধিকারিকদের, তারাই বিষয়টাকে গুরুত্ব সহকারে দেখেনি। তাঁরা তিনদিন সময় লাগিয়েছে একজনকে পাঠিয়ে আমার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে। সোমবার থেকে রিপোর্ট আসা অবধি, আমি নিজেকে ঘরবন্দি করেই রেখেছিলাম। যে মুহূর্তে আমি অসুস্থবোধ করেছি আমি সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করেছি, তাহলে এতে আমার দোষ কোথায়?

বন্ধ করুন