বাড়ি > বায়োস্কোপ > কেরলে নির্মম হাতি হত্যা,মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রীকে খোলা চিঠি মিমির
শুধু শাস্তি দিলেই হবে না,প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধির, লেখেন মিমি (ছবি সৌজন্যে-টুইটার)
শুধু শাস্তি দিলেই হবে না,প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধির, লেখেন মিমি (ছবি সৌজন্যে-টুইটার)

কেরলে নির্মম হাতি হত্যা,মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রীকে খোলা চিঠি মিমির

  • দোষীদের শুধু শাস্তি দিলেই হবে না, জনগণকে বন্যপ্রাণ নিয়ে সচেতন করতে হবে তবেই পশুদের উপর এই নির্মম অত্যাচার বন্ধ হবে,মনে করছেন মিমি। 

কেরলে নৃংশভাবে আনারসে বাজি ভরে এক গর্ভবতী হাতিকে মেরে ফেলার ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়।। পশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠিন আইনের দাবি তুলেছেন টলি-বলি নির্বিশেষে সব মহলের তারকারাই। টলিগঞ্জে এই তালিকায় এক্কেবারে সামনের সারিতে রয়েছেন মিমি চক্রবর্তী। পশুপ্রেমী মিমি এই ঘটনার জেরে আগেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কেরল সরকারকে। এবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন মিমি।

চিঠিতে মিমি লিখেছেন, 'গোটা দেশের অসংখ্য মানুষের মতো আমিও গর্ভবতী হাতিটিকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলার ঘটনায় মর্মাহত। কেরলের পাল্লাকর জেলায় যেভাবে বিস্ফোরক ভর্তি আনারস খাইয়ে হাতিটিকে মারা হলো তাতে দেশের নাগরিক হিসাবে, পশুপ্রেমী হিসাবে এই অমানবিক ঘটনায় লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। 

আমি যখন এই চিঠি লিখছি,আমি জানি কেরল সরকার দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে ততপর হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে একটা একটা বিচ্ছিন্ন হিংসাত্মক ঘটনা বলে ছেড়ে দেওয়া যায় না। গতমাসেও ওখানে একটি হাতির মৃত্যু হয়েছে যার মুখে ব্যাপক ক্ষত ছিল। হাতিরা রোজ কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়। তাই ঠিক কোথায় এধরনের ঘটনা ঘটছে সেটা চিহ্নিত করা খুবই মুশকিল। বিশেষত বনজঙ্গলে যেখানে কোনও সার্ভিল্যান্স ক্যামেরা রাখা সম্ভব নয়। উপযুক্ত পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমাণ আমাদের ভুল পথে চালিত করতে পারে। এত মিডিয়া কভারেজর মাঝে এটা মাথায় রাখতে হবে হবে কেরলে পশু নির্যাতনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে'।

ফসল রক্ষা করতে ফলের মধ্যে বাজি ঢুকিয়ে বুনো শুয়োর তাড়ানোর প্রথা ওই অঞ্চলে বহুদিন ধরে প্রচলিত। কিন্তু সমস্যা মেটানোর এটা কোনও উপায় নয়,এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধির। স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে,কীভাবে মানুষ এবং বন্যপ্রাণীরা শান্তিপূর্ন সহাবস্থান করতে পারে তার উপায় বার করতে হবে। ফসলের ক্ষতি করলেই বন্যপ্রাণী মেরে দিতে হবে এটা সমাধান নয়, ভারতীয় সংবিধানের পশু সুরক্ষা আইন বলছে বন্যপ্রাণকে রক্ষা করা নাগরিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ১৯৬০ সালের পশু সুরক্ষা আইন এবং ১৯৭২ সালের ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্টের পরও যখন বন্যপ্রাণীদের উপর এই নির্মমতার পরিসংখ্যান হয়নি। কেরলে রাজ্যে দুর্ভগ্যজনকভাবে একাধিক পথ কুকুরকে খুন করা হয়েছে,ওখানকার মন্দিরগুলোতে হাতিদের শেকল দিয়ে নির্মমভাবে বেঁধে রাখা হয়,গর্ভবতী  বিড়ালকেও গলায় লাগিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে'।

খোলা চিঠিতে মহাত্মা গান্ধীর কথাও স্মরণ করিয়ে দেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন,'মহাত্মা গান্ধী সঠিকভাবে বলেছিলেন, কোনও জাতির মাহাত্ম্য এবং নৈতিক উন্নয়নের মাপকাঠি কীভাবে তাঁরা পশুপাখিদের সঙ্গে আচরণ করছে তা দেখে নির্ধারিত হয়'। শিশুদের পাঠ্য বইয়ে নেচার স্টাডি আবশ্যক করবার কথাও বলেন মিমি। তিনি আশাবাদী কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় মিলে একসঙ্গে এবিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

এর আগে বহুবার অবলাদের বিরুদ্ধে মানুষের অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিমি। সংসদে দাঁড়িয়েও অবলাদের অধিকার নিয়ে সওয়াল করেছেন মিমি। গত বছর নভেম্বরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জ়িরো আওয়ারে ‘অ্যানিমেলস রাইটস’ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিমি জানান, দেশে পশুদের নিয়ে যে আইন, তাতে এখনও অনেক ফাঁক রয়েছে। মানুষ নিজের সুবিধে-অসুবিধের কথা তুলে ধরতে পারলেও, অবোলা প্রাণীরা পারে না। পথের কুকুর কিংবা অন্য পশুদের উপর অনেক সময়েই গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া, গরম জল ঢালার মতো নৃশংস অত্যাচার হয়। সেগুলোর বিরুদ্ধে সরকারকে এগিয়ে আসার কথা বলেছিলেন যাদবপুরের সাংসদ। কড়া আইন প্রণয়ন করে এই সব নৃশংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন মিমি।

বন্ধ করুন