বাড়ি > বায়োস্কোপ > যশরাজ ফিল্মসের কাছে সুশান্তের চুক্তিপত্র চেয়ে পাঠালো মুম্বই পুলিশ
রবিবার বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের দেহ (PTI)
রবিবার বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের দেহ (PTI)

যশরাজ ফিল্মসের কাছে সুশান্তের চুক্তিপত্র চেয়ে পাঠালো মুম্বই পুলিশ

  • ২০১৫-সালে যশরাজ ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে বেরিয়ে যান সুশান্ত। সেই বাতিল চুক্তিপত্রই চেয়ে পাঠালো মুম্বই পুলিশ। 

সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যায় একদিকে যেমন গোটা দেশ স্তম্ভিত তেমনই এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে বলিউডের বেশ কিছু প্রযোজক সংস্থা। মহারাষ্ট্রের গৃহমন্ত্রী  অনিল দেশমুখ আগেই জানিয়েছেন সুশান্তের মৃত্যুর ব্যাপারে পেশাগত বিদ্বেষের দিকটি জোর দিয়ে খতিয়ে দেখবে মুম্বই পুলিশ। ইতিমধ্যেই সুশান্তের আত্মহত্যার ঘটনায় প্রায় ১২ জনকে জেরা করেছে পুলিশ,রেকর্ড করা হয়েছে বয়ান। বৃহস্পতিবার সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে প্রায় ১১ ঘন্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে মুম্বই পুলিশ। সুশান্তের বলিউড কেরিয়ার শেষ করে দিতে চেয়েছিল বেশ কিছু প্রযোজক,সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর বিদ্যুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। পিঙ্কভিলা সূত্রে খবর,মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যেই যশ রাজ ফিল্মসের কাছে সুশান্তের কনট্রাক্টের কপি চেয়ে পাঠিয়েছে,দ্রুত সেই কপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুশান্তের বিজনেস ম্যানেজার হিসাবে কাজ করা শ্রুতি মোদীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পিআর ম্যানেজার রাধিকা নিহালনির বয়ানও রেকর্ড করেছে পুলিশ। পুলিশকে দেওয়া বয়ান অনুসারে, শ্রুতি মোদী প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে জুলাই ২০১৯ থেকে ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত কাজ করেছেন। 

প্রসঙ্গত সুশান্তের চুক্তিপত্র চেয়ে পাঠানোর প্রসঙ্গে এখনও প্রযোজক আদিত্য চোপড়ার সংস্থা যশরাজ ফিল্মসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যশরাজ ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট কম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন সুশান্ত। তাঁদের সঙ্গে দুটি ছবিতে কাজও করেন তারকা-প্রয়াত অভিনেতার কেরিয়ারের দ্বিতীয় ছবি শুদ্ধ দেশি রোম্যান্স (২০১৩) এবং  ডিটেক্টিভ ব্যোমকেশ বক্সী (২০১৫)। এছাড়াও সুশান্তের সঙ্গে 'পানি' প্রজেক্টটিও করবার কথা ছিল যশরাজ ফিল্মসের। তবে ২০১৫-র শেষের দিকে আচমকাই পরিচালক শেখর কাপুরের এই প্রজেক্ট থেকে সরে আসে যশরাজ ফিল্মস। ডিসেম্বরে ২০১৫-তে ডিএনএ'তে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই প্রজেক্ট বন্ধ হওয়ার পর আদিত্য চোপড়ার বেফিকরে ছবিতে অভিনয়ের কথা ছিল সুশান্তের। কিন্তু সেই ছবিও কিছু না জানিয়েই চলে যায় রণবীর সিংয়ের ঝুলিতে। এরপর আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে সুশান্তের মনোমালিন্য হয় এবং বাতিল হয় তাঁর চুক্তিপত্র। সেই সময় যশরাজ ফিল্মসের তরফে মিডিয়ায় জানানো হয়,' এখন সুশান্ত আমাদের ট্যালেন্ট টিমের অংশ নয়। ওর ভবিষ্যতের জন্য আমাদের তরফ থেকে রইল শুভকামনা'। সেই চুক্তিপত্রটিই চেয়ে পাঠিয়েছে মুম্বই পুলিশ। 

শ্রুতি তাঁর বয়ানে জানিয়েছেন ছবির বাইরে বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছিলেন সুশান্ত। তাঁর কথায় সুশান্তের একটি ভারচুয়াল গেমস কম্পানি শুরু করবার প্ল্যান ছিল-যার নাম ‘ভিভিড রেঞ্জ রিয়ালিস্টিক ভার্চুয়াল’ এবং নেশন ফর ওয়ার্ল্ড নামের একটি সোশ্যাল সার্ভিস প্রজেক্টও শুরু করতে চাইছিলেন সুশান্ত। যেখানে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পরিবেশ ও সমাজের সুরক্ষার জন্য ও কাজ করতে চাইছিল তবে এই কম্পানি রেজিস্টার করা হয়েছে কিনা সেব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে পারেননি শ্রুতি। এছাড়াও সুশান্তের সবচেয়ে প্রিয় একটি প্রজেক্টের কথা বলেন তিনি- ‘জিনিয়াস অ্যান্ড ড্রপ আউটস’ বা ‘ড্রিম ১৫০’-এটাও সুশান্তের অপর একটি সামাজিক প্রজেক্ট। জানা গিয়েছে এই প্রজেক্ট সংক্রান্ত বেশকিছু নথিপত্রও সুশান্তের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বন্ধ করুন