বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > করোনা আক্রান্ত হয়ে ICU-তে নকুলের ১১ মাসের শিশুপুত্র! কোভিডের গ্রাসে গোটা পরিবার
নকুল মেহতার পরিবারে করোনা আতঙ্ক
নকুল মেহতার পরিবারে করোনা আতঙ্ক

করোনা আক্রান্ত হয়ে ICU-তে নকুলের ১১ মাসের শিশুপুত্র! কোভিডের গ্রাসে গোটা পরিবার

  • জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা লিখলেন নকুল মেহতার পত্নী, জানকি পারেখ। 

টেলিভিশন অভিনেতা নকুল মেহতার স্ত্রী তথা গায়িকা জানকি পারখের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখে চোখে জল নেটিজেনদের। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছিল তাঁদের ১১ মাসের শিশুপু্ত্র, সুফি। সেই কঠিন সময়ের কথাই ইনস্টাগ্রামে তুলে ধরেছেন জানকি। তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ-তে ভর্তি ছিল তাঁদের দুধের শিশু। দু-সপ্তাহ আগেই নকুলের কোভিড পজিটিভ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। করোনার কবলে পড়েছেন জানকিও। অতিমারির জেরে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল ‘বড় আচ্ছে লাগতে হ্যায়’ খ্যাত অভিনেতার পুরো পরিবারকেই। 

হাসপাতালে সুপারম্যানের পোশাকে ছেলের একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে সেই কঠিন সময়ের কথা বিস্তারিত লেখেন জানকি, যা পড়ে শিউরে উঠছেন সকলে। তিনি লেখেন, ‘আমরা জানতাম আজ নয়তো কাল করোনার শিকার হবই। ২ সপ্তাহ আগে আমার স্বামী নকুল করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার পর আমার শরীরেও উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করল। ভেবেছিলাম বোনের বিয়েতে যেতে পারব না, এর চেয়ে খারাপ আর কিছু কোভিড আমার সঙ্গে করতে পারবে না। তবে দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি আগামী এরচেয়েও খারাপ কিছু ঘটবে, পরের কয়েকটা দিন আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন ছিল’। 

জানকি জানান ধুম জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় সুফিকে। জানকির রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসবার পর সুফির মারাত্মক জ্বর আছে। কিছুতেই জ্বর কমছিল না। শরীরে ঠান্ডা জল দিয়ে স্পঞ্জ করে, ওষুধ দিয়ে- কোনও ফল হয়নি। এরপর জ্বর যখন ১০৪.২ ডিগ্রী পার করে যায় তখন ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন জানকি আর নকুল। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক ছিল যে তড়িঘড়ি সুফিকে আইসিইউতে দেওয়া হয়। 

আবেগঘন মা লেখেন, ‘আমার একরত্তিকে ৩টে আইভিএস ফোটানো হয়েছে, কত রক্ত পরীক্ষা, আরটিপিসিআর হয়েছে, বোতল বোতল স্যালাইন চড়ানো হয়েছে, অ্যান্টিবডিজ, ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে জ্বর কমানোর জন্য। আমি তো মাঝেমধ্যে ভাবছিলাম একটা এইটুকু মানব শরীর এতো শক্তি কোথায় পাচ্ছে এই সবের সঙ্গে মোকাবিলা করতে? তিন দিন পর অবশেষে জ্বর কমে সুফির’।

জানকি বাবা-মা'দের সচেতন করে বলেন ওমিক্রন প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য খুব বেশি কষ্টদায়ক না হলেও ছোটদের জন্য যা খুব ভয়ঙ্কর। তিনি বলেন, ‘ছোটদের ভ্যাকসিন নেই, ওরা মাস্কও পরতে পারে না। তাই ওদের জন্য অতিরিক্ত সচেতন থাকতে হবে’। বাবা-মায়েদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশেই জানকির এই পোস্ট। তিনি লেখেন, ‘একজন বাবা-মা’ও যদি এতে উপকৃত হন তাতেই আমার পোস্টের সাফল্য'। 

স্ত্রীর পোস্টের মন্তব্য বাক্সে নকুল মেহতা লেখেন, ‘চ্যাম্পিয়ান মেহতা’। ২০১২ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন নকুল ও জানকি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জন্ম হয় সুফির। আগামী মাসে এক বছর পূর্ণ করবে সে। 

 

 

বন্ধ করুন