বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > না 'ফেরা'-র পথ ধরলেন 'কালপুরুষ'-এর স্রষ্টা
প্রয়াত চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।  ছবি সৌজন্যে - ফেসবুক
প্রয়াত চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।  ছবি সৌজন্যে - ফেসবুক

না 'ফেরা'-র পথ ধরলেন 'কালপুরুষ'-এর স্রষ্টা

প্রয়াত হলেন চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।বৃহস্পতিবার সকালে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বাঙালি পরিচালকের কাজ এবং পাওয়া অজস্র সম্মানের প্রতি ফিরে দেখা হলো এক ঝলক।

প্রয়াত হলেন চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বাধর্ক্যজনিত সমস্যা তো ছিলই, সঙ্গে যোগ হয়েছিল কিডনির সমস্যা। বহুদিন ধরেই ডায়ালিসিস চলছিল তাঁর। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে টলিপাড়ার সব বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

খ্যাতনামা পরিচালকের পাশাপাশি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ছিলেন একজন কবিও। পরিচালকের অসংখ্য ছবির মধ্যে দেশে ও বিদেশে বন্দিত হয়েছে 'তাহাদের কথা' 'চরাচর', 'উত্তরা','বাঘ বাহাদুর' এর মতো একাধিক সব ছবি। তাঁর পরিচালিত পাঁচ-পাঁচটি ছবি আদায় করে নিয়েছিল জাতীয় পুরস্কার। সেই তালিকায় রয়েছে বাঘ বাহাদুর (১৯৮৯), চরাচর (১৯৯৩), লাল দরজা (১৯৯৭), মন্দ মেয়ের উপাখ্যান (২০০২),কালপুরুষ (২০০৮) . তবে উল্লেখ্য, বাংলার সেরা ফিচার ফিল্মের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে তাঁর পরিচালিত আরও দু’টি ছবি— ‘দূরত্ব’ এবং ‘তাহাদের কথা’। 'উত্তরা' এবং ' স্বপ্নের দিন'পরিচালনার জন্য দু'বার পরিচালক হিসেবেও জাতীয় পুরস্কারের সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। হিন্দিতেও একাধিক ছবি বানিয়েছেন পরিচালক। ছবিতে ভাষা যে বাধা হতে পারে না, তা বার বার প্রমাণ করেছেন তিনি।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘রোবটের গান’, ‘ছাতা কাহিনি’, ‘গভীর আড়ালে’।

দক্ষিণ পুরুলিয়ার অনারা গ্রামে ১৯৪৪ সালে জন্মেছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। তাঁর নয় ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।বাবা তারাকান্ত দাশগুপ্ত ছিলেন ভারতীয় রেলের ডাক্তার। ফলে ছোটবেলাটা একপ্রকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরেই কেটেছিল তাঁর। এরপর ১২ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয় তাঁকে। অর্থনীতি নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়াশোনা করেছেন। গেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও।

শ্যামসুন্দর কলেজে অর্থনীতির লেকচারার হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন এই স্বনামধন্য পরিচালক। এই কাজ করার ফাঁকেই সিনেমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা জন্মায়। ধীরে ধীরে সিনেমার জগতে প্রবেশ করেন তিনি।তাঁর পরিচালক হয়ে ওঠার পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি। সেখানেই চার্লি চ্যাপলিন, ইঙ্গমার বার্গম্যান, আকিরা কুরোসাওয়ার মতো বিশ্ববিখ্যাত ছবি পরিচালকদের কাজের মারফৎ তাঁর পরিচয় ঘটে তাঁর। ১৯৬৮ সালে 'কন্টিনেন্ট অফ লাভ' নামের একটি ১০ মিনিটের তথ্যচিত্র দিয়ে পরিচালকের জীবন শুরু করেন বুদ্ধদেব। এরপর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের রচনা অবলম্বনে তিনি তৈরি করেন তাঁর প্রথম ফিচার ফিল্ম 'দূরত্ব'. বাকিটুকু ইতিহাস। পরিচালকের কাব্য সুষমা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর পরিচালিত প্রতিটি ছবিতে।এছাড়া নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, সমীরা রেড্ডি, রাহুল বোস এবং মিঠুন চক্রবর্তীর মতো জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতারাও কাজ করেছেন তাঁর পরিচালনায়।

সারা জীবন জুড়ে দেশে বিদেশে অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রয়াত এই পরিচালক। ২০০৮ সালে স্পেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তাঁকে জীবনকৃতির সম্মানে সম্মানিত করে হয়। ২০০৭ সালে গ্রিসের 'অ্যাথেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল' -র তরফে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল 'গোল্ডেন অ্যাথানা' পুরস্কার। এছাড়া বার্লিন,ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মতো কৌলিন্য তকমা পাওয়া ফেস্টিভ্যালে একাধিকবার মনোনয়ন পাওয়ার পাশাপাশি পুরস্কার জিতে নিয়েছে তাঁর পরিচালিত ছবি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ২০০০ সালে 'উত্তরা' ছবির জন্য বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পেয়েছিলেন 'গোল্ডেন লায়ন' পুরস্কার।

অবসর নেওয়াতে বিশ্বাসী ছিলেন না বুদ্ধদেব। তাই তো এই অসুস্থ শরীরেও লিখে চলেছিলেন নতুন ছবির চিত্রনাট্য। নিত্য,নতুন সব কবিতা।

 

বন্ধ করুন