বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > সর্দার উধম ‘ব্রিটিশ বিরোধী’, বাঙালির ছবি নিয়েই আপত্তি বাঙালি জুরি সদস্যদের
সর্দার উধম ছবিকে ‘ব্রিটিশ বিরোধী’ বলায় ক্ষেপে উঠেছেন দর্শকদের একটা অংশ। 
সর্দার উধম ছবিকে ‘ব্রিটিশ বিরোধী’ বলায় ক্ষেপে উঠেছেন দর্শকদের একটা অংশ। 

সর্দার উধম ‘ব্রিটিশ বিরোধী’, বাঙালির ছবি নিয়েই আপত্তি বাঙালি জুরি সদস্যদের

ছবির গায়েই ‘ব্রিটিশ বিরোধী’ তকমা সেঁটে দিল জুরি সদস্যরা। আর তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বড় একটা অংশ।

অস্কারে ভারত থেকে কোন ছবি যাবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ ছিল চরমে। ১৪টি ছবি বাছাই করা হয়েছিল। আর ভারত থেকে অস্কারের মঞ্চে যাওয়ার জন্য অনেকেই এগিয়ে রেখেছিলেন বাঙালি পরিচালক সুজিত সরকারের ছবি ‘সর্দার উধম’কে। তবে সেই ছবির গায়েই ‘ব্রিটিশ বিরোধী’ তকমা সেঁটে দিল জুরি সদস্যদের একটা অংশ। আর তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শকরা। 

ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, যিনি এবছর অস্কারের জুরি মেম্বারদের মধ্যে ছিলেন তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘সর্দার উধম একটু বড় ছবি বিশেষ করে জালিওয়ানাবাগের অংশ একটু বেশি টেনে দেওয়া। একজন নাম না জানা স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নিয়ে ছবি তৈরি সত্যিই অসাধারণ কাজ। কিন্তু সেটা করতে গিয়েই আমাদের ঘৃণা ইংরেজদের প্রতি আবার ফুটে উঠেছে। বিশ্বায়নের এই সময়ে যা কোনওভাবেই কাঙ্খিত নয়।’ সঙ্গে তিনি জানান এই ছবির ফোটোগ্রাফি ও প্রোডাকশন আন্তর্জাতিক মানের।

জুরির আরেক সদস্য সুমিত বাসু জানান, ‘অনেকেরই সর্দার উধম খুব ভালো লেগেছে, বিশেষ করে ক্যামেরার কাজ। আমার মনে হয়েছে এই ছবির দৈর্ঘ্য ছিল একটা বড় ইস্যু। ছবির ক্লাইম্যাক্স অনেক দেরিতে এসছে। দর্শকদের জালিওয়ানাবাগ নিয়ে যে কষ্ট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা অনুভব করতে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।’

তবে, এই দুই বক্তব্যের সঙ্গেই নেট-মাধ্যমে অসহমত হয়েছেন দর্শকরা। একজন লিখেছেন, ‘এই ঘৃণা ধরে রাখব না? ঠিক আছে তাই হবে! তাহলে ব্রিটিশদেরও ফেরত দিতে হবে কোহিনূর।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘সত্যের গলা বারবার এভাবেই বুজিয়ে দেওয়া হয়’। সঙ্গে আরেক দর্শকের মতামত, ‘যদি হলিউডে প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে ছবি বানানো হয়, তাহলে কি বাদ দিয়ে দেওয়া হবে হিটলারের নিষ্ঠুরতাকে?’

ছবির আরেক গুণমুগ্ধ দর্শক লিখেছেন, ‘সর্দার উধম অস্কারের জন্য যাওয়ার যোগ্য কি যোগ্য না সে ব্যাপারে যাওয়ার আগে আমার মনে হয় একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো, বিশ্বায়ন মানে এই নয় যে আমাদের ইতিহাসকে অস্বীকার করতে হবে। কই ‘লগন’ বা ‘রং দে বসন্তি’র বেলায় তো এমন ইস্যু তোলা হয়নি।’

বন্ধ করুন