বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা পরীমনির শিল্পীসত্ত্বাকে সমৃদ্ধ করেছে, বিশ্বাসী পরিচালক
পরীমনি। (ছবি সৌজন্যে -ফেসবুক)
পরীমনি। (ছবি সৌজন্যে -ফেসবুক)

জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা পরীমনির শিল্পীসত্ত্বাকে সমৃদ্ধ করেছে, বিশ্বাসী পরিচালক

  • বাংলাদেশের শোবিজ দুনিয়ায় এইমুহূর্তে সম্ভবত সবচেয়ে বিতর্কিত নাম পরীমনি।এবার বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম-এর পরবর্তী ছবিতে অন্যতম মুখ্যভূমিকায় দেখা যাবে পরীমনি। 

বাংলাদেশের শোবিজ দুনিয়ায় এইমুহূর্তে সম্ভবত সবচেয়ে বিতর্কিত নাম পরীমনি। মাস কয়েক আগে মাদককাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এরপর প্রায় এক মাস জেলবন্দিও থাকতে হয়েছে তাঁকে। এবার বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম-এর পরবর্তী ছবিতে অন্যতম মুখ্যভূমিকায় দেখা যাবে পরীমনি-কে। ছবির নাম 'গুণিন'। বাংলাদেশের সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে ছবির চিত্রনাট্য। সমাজের নিচুতলার মানুষদের জীবন সংগ্রামের কথা উঠে আসবে এই ছবিতে, দাবি পরিচালকের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর এই নতুন ছবি থেকে শুরু করে পরীমনি, সবকিছু নিয়ে মুখ খুললেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম।

আনন্দবাজারকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই দু' দুটি জাতীয় পুরস্কার পাওয়া সত্বেও তেমনভাবে চাপ অনুভূত হয় না তাঁর। পরিচালকের যুক্তি, একেবারে স্বাধীনভাবে ছবি তৈরি করেন তিনি। দর্শকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে মোটেই কোনও ছবি বানান না। ছবি তৈরির সময় তাঁর কাছে সবথেকে বেশি প্রাধান্য পায় দর্শককে তিনি ঠিক কী দেখাতে চাইছেন, স্রেফ সেই বিষয়টুকু! আরও জানান তাঁর পরপর ছবি তৈরি করার দারুণ ইচ্ছে। কিন্তু যে ধরণের ছবি তিনি বানান তার জন্য অনেক সময় প্রযোজকই খুঁজে পাওয়া শক্ত হয়। পাওয়াই যায় না অনেকসময়। তাই দেরি হয়, বেশি সময় লাগে। তবে ভবিষ্যতে যে টানা ছবির কাজ করে যাবেন সে ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে জানাতে মোটেই পিছপা হননি বাংলাদেশের এই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক।

বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম। (ছবি সৌজন্যে -ফেসবুক)
বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম। (ছবি সৌজন্যে -ফেসবুক)

পরীমনি সম্পর্কেও কোনও রাখঢাক না করে নিজের বক্তব্য পেশ করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। স্পষ্টভাবে জানালেন বক্স অফিসে সাফল্য পেতে মোটেই বিতর্কিত নায়িকাকে নিজের ছবির অংশ বানাননি তিনি। এই 'অভিযোগ' যে তাঁর পক্ষে একেবারে মানানসই নয় তার যুক্তি হিসেবে পরিচালকের জবাব,' বিতর্ককে পাত্তাই দিই না।সেরকম হলে বহু আগেই খানকে নিয়ে কাজ করে ফেলতে পারতাম'। পরীমনির ব্যাপারে তাঁর চিন্তা ভীষণ পরিষ্কার। ব্যক্তি পরিমনির বিষয়ে কোনও কথা না বললেও অভিনেত্রী পরিমনির কাজ দেখে যে তিনি মুগ্ধ সেকথাও সরাসরি স্বীকার করতে ভোলেননি 'স্বপ্নজাল' ছবির পরিচালক।

 গিয়াস উদ্দিনের কথাতেই জানা যায় যে ওপারের জনপ্রিয় নায়িকা নুসরত ফরিয়াকেই প্রথমে এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নায়িকার ডেট না থাকায় স্বভাবতই কথা এগোয়নি। খোঁজা শুরু হয় অন্য মুখ। পাকেচক্রে ওই সময়েই পরীমনি জামিন পায়। পরিচালকের কথায়, 'ওঁকে দেখে মনে হয়েছিল এই চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার সবরকম মালমশলা ওঁর মধ্যে আছে। ও চরিত্রটি ভাল করতে পারবে। স্রেফ তা ভেবেই ওকে ছবিতে নিই'।

বক্তব্য শেষে তাঁর সংযোজন, ' তাছাড়া এর আগে আমার ‘স্বপ্নজাল’ ছবিতেও কাজ করেছিল পরীমনি। আমার ছবিতে ওঁর কাজ দেখে মনে হয়েছে জীবনের এই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা অভিনেত্রী হিসেবে পরীমনিকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। আমার বিশ্বাস আজ থেকে ১০ বছর পর পরীমনি যে পর্যায়ে অভিনয় করতে পারত, সেসব এখনই করতে পারছে!'

বন্ধ করুন