বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘রে’ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত সৃজিত! সেফ জোনে আছেন অপর দুই পরিচালক
রে নিয়ে অকপট সৃজিত 
রে নিয়ে অকপট সৃজিত 

‘রে’ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত সৃজিত! সেফ জোনে আছেন অপর দুই পরিচালক

  • নেটফ্লিক্সের অ্যান্থোলজি ‘রে’-র অপর দুই পরিচালক অভিষেক চৌবে বা ভাসান বালা কেন অনেক বেশি সেফ-জোনে রয়েছেন? অকপটে উত্তর দিলেন সৃজিত। 

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় স্তরে একের পর এক সাফল্যের মুখ দেখেছে বাংলা ছবি। বলা যায়, সত্যজিত পরবর্তী যুগে বাংলা ছবির দশা ও দিশা যাঁরা পালটে ফেলেছেন সেই পরিচালকদের তালিকায় অন্যতম সৃজিত। ২০১০ সালে অটোগ্রাফের সঙ্গে পরিচালক হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিলেন সৃজিত, সেই ছবি ছিল সত্যজিতের তৈরি 'নায়ক' ছবিকে দেওয়া ট্রিবিউট। অগ্রজ পরিচালকের চলচ্চিত্র ভাবনা সৃজিতের চলার পথের পাথেয় তা বহুবার জানিয়েছেন তিনি। গত বছরই সত্যজিতের ফেলুদা কাহিনি নিয়ে ‘ফেলুদা ফেরত’ ওয়েব সিরিজ তৈরি করেছিলেন সৃজিত। তবে প্রথমবার অন্যভাষায় সত্যজিতের কাহিনিকে পর্দায় রূপ দিলেন ‘ভিঞ্চি দা’ পরিচালক। শুক্রবার নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেল ‘রে’ (Ray)। ‘সত্যজিৎ রায়ের দূরদর্শীতায় বাঁধা, প্রেম, লালসা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং সত্যের চার গল্প’ এই ছবি। 

অভিষেক চৌবে, ভাসান বালা এবং বঙ্গসন্তান সৃজিত মুখোপাধ্যায়, বর্তমান প্রজন্মের তিন নামী পরিচালক নিজের মতো করে উদযাপন করে সত্যজিতের কাহিনিকে। সত্যজিতের চার ছোট গল্পে নিয়ে তৈরি এই অ্যান্থলজি সিরিজে ‘ফরগেট মি নট’ এবং ‘বহুরূপীয়া’ পরিচালনা করছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ‘ফরগেট মি নট’-এ মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন আলি ফজল ও শ্বেতা বসু প্রসাদ। অন্যদিকে 'বহুরূপী' লিড রোলে দেখা মিলল ভার্সেটাইল কেকে মেনন এবং বাঙালি অভিনেত্রী বিদিতা বাগের।  

সত্যজিত রায়ের মতো মহান চলচ্চিত্র পরিচালক, লেখক,চিত্রনাট্যকারের ছোটগল্প নিয়ে কাঁটাছেঁড়া করা মানেই সমালোচনার ঝড় উঠবেই, আর সমালোচনার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত সৃজিত। অভিষেক চৌবে বা ভাসান বালার তুলনায় সমালোচকদের আতসকাঁচের লেন্সের নীচে অনেক বেশি করে পড়তে হবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে তা ভালোভাবেই জানেন এই বাঙালি পরিচালক। 

কেকে মেননের সঙ্গে সৃজিত মুখোপাধ্যায় (ছবি সৌজন্যে- নেটফ্লিক্স)
কেকে মেননের সঙ্গে সৃজিত মুখোপাধ্যায় (ছবি সৌজন্যে- নেটফ্লিক্স)

এই প্রসঙ্গে তিনি এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, ‘আমি রুচিবাগীশ (পিউরিস্ট) ব্যক্তিদের থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াই আশা করছি, অন্যদিকে সত্যজিতের রায়ের সঙ্গে যাঁদের সরাসরি যোগ নেই কিংবা থাকলেও যাঁদের চিন্তাভাবনা মুক্ত, তাঁরা হয়ত বিষয়টি সাদরে গ্রহণ করবেন। সেই সকল দর্শক যাঁরা সত্যজিত রায় সম্পর্কে গভীরে জানেন না, অথবা সঠিকভাবে বললে সত্যজিত-প্রেমী নন, তাঁরা হয়ত চারটে গল্পই খুব দারুণভাবে এনজয় করবেন। কিন্তু যাঁরা কিংবদন্তির কাজ নিয়ে কাঁটাছেড়া পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য এটা একটু শক্ত কাজ হবে। বিশেষত বাঙালি দর্শকদের ক্ষেত্রে, কারণ সত্যজিত বাঙালির আবেগ, অনেকের কাজে উনি পূজনীয়। তাই তাঁর ভাবনাকে নিজের মতো করে পেশ করলে আপনি মুশকিলে পড়তে পারেন। তাই ফেলুদা ফেরত দেখে যাঁরা খুশি হয়েছিল তাঁরাই হয়ত রে দেখে আমায় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেবে'। মুচকি হেসে সৃজিতের দাবি, 'অভিষেক চৌবে বা ভাসান বালা এই মামলায় সেফ সাইডে আছেন, ওঁনারা বাংলার মানুষ নন তো, হয়তো ওতোটা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে না'।

সৃজিত আরও বলেন, এই অগ্নপরীক্ষা তাঁর কাছে নতুন নয়। সেই তো অটোগ্রাফের সময় থেকেই সম্মুখীন হয়েছেন একের পর এক প্রশ্নের। ‘আমার প্রথম ছবি অটোগ্রাফ ছিল সত্যজিত রায়ের নায়ক ছবিকে দেওয়া ট্রিবিউট। এই ছবিতে উত্তম কুমার, সত্যজিত দুজনকেই আমি শ্রদ্ধার্ঘ জানিয়েছিলাম, বেশকিছু মানুষ রেগে আগুন হয়ে গিয়েছিল সেইসময়। আমাকে তুলোধনা করা হয়, এমনকি ভুডু পুতুল পর্যন্ত বানানো হয়েছিল! কিন্তু আসল ব্যাপার হল যখন আপনি ওই সমস্ত সমালোচনাকে শিরোধার্য করে এতবছর টিকে রয়েছেন, তখন আপনি সবকিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত’, ওই সাক্ষাত্কারে বলেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী এই বাঙালি পরিচালক।

বন্ধ করুন