বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > মাধুরী দীক্ষিতের নাম নিয়ে পাকিস্তানিদের বোমা! সামনে এলো আসল ‘শেরশাহ’-র কীর্তি
ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা (বাঁদিকে)। 'শেরশাহ' ছবিতে বিক্রম বাত্রার ভূমিকায় সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। ( ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস)
ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা (বাঁদিকে)। 'শেরশাহ' ছবিতে বিক্রম বাত্রার ভূমিকায় সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। ( ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস)

মাধুরী দীক্ষিতের নাম নিয়ে পাকিস্তানিদের বোমা! সামনে এলো আসল ‘শেরশাহ’-র কীর্তি

  • নিজের বীরত্বের জন্যেই নয়, দুর্ধর্ষ রসবোধের জন্যেও খ্যাতি ছিল পরমবীর চক্রধারী শহীদ ভারতীয় জওয়ান ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার। একবার পাকিস্তানি বাঙ্কার ওড়ানোর ঠিক আগে 'মাধুরী দীক্ষিত' এর নাম ধরে চেঁচিয়েও উঠেছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওয়ে মুক্তি পাচ্ছে কার্গিল যুদ্ধে শহীদ ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার বায়োপিক 'শেরশাহ'। পরমবীর চক্রে সম্মানিত এই ভারতীয় জওয়ানের ভূমিকায় দেখা যাবে সিদ্ধার্থ মালহোত্রাকে। হিমাচল প্রদেশের পালমপুর অঞ্চল থেকে উঠে আসা যুবকের ভারতীয় জওয়ান হয়ে ওঠা এবং কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে তাঁর দুঃসাহসিক অভিযানের ঘটনার গল্পই বলবে এই ছবি।

স্রেফ নিজের শৌর্য, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের বীরত্বের জন্যেই নয়, দুর্ধর্ষ রসবোধের জন্যেও খ্যাতি ছিল বিক্রমের। বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁর বলা 'ওয়ান লাইনার' সংলাপ সেনাবাহিনীতে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে তাঁর কোড নাম ছিল 'শেরশাহ'।জনমানসে বিক্রম বাত্রার কান্ড প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে যখন পাকিস্তানি সেনাদের দখল করে থাকা পাহাড় চূড়ায় তাঁদের একটি ঘাঁটি নিজের টিম নিয়ে তছনছ করে ফেলে তা দখল করে ফেলেন তিনি। শুধু তাই নয়, সে বিষয়ে নিজের সেনাবাহিনীর আধিকারিকদের 'রিপোর্ট' পেশ করার সময় বিক্রম জানান 'ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর!' সেইমুহূর্তে বাজার চলতি নরম পানীয় 'পেপসি'-র বিজ্ঞাপনের বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ছিল এটি। মোক্ষম সময়ে এই ভারতীয় জওয়ানের ওই সংলাপ বলার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই রাতারাতি ভারতবাসীর প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা।

একবার তাঁর সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিশেষ রেডিও যন্ত্র 'হ্যাক' করে নিয়েছিল পাকিস্তানি সেনা। সেই সময়ে অনতিদূরে একটি পাহাড়ে পাকিস্তানি বাঙ্কার দখল করার পরিকল্পনা আঁটছিলেন বিক্রম। সেই পরিকল্পনা জানতে পেরে যায় শত্রু সেনা। এরপর যন্ত্রের ওপর থেকে হুমকি ভেসে এসেছিল যদি কোনও বাড়াবাড়ি করেন বিক্রম তাহলে তার উপযুক্ত জবাব পাবেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানি সেনার তরফে কটাক্ষ ভেসে এসেছিল ভারতের অন্যতম সেরা বলি-সুন্দরী মাধুরী দীক্ষিতকেও কেড়ে নেওয়া হবে।

পাত্তা দেননি বিক্রম। বরং চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলেন। পরিকল্পনা যেমন সুচতুর ছিল তেমন আক্রমণও ছিল জোরদার। বিক্রমের নেতৃত্বে ভারতীয় জোয়ানের ওই টিমের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান সেনার ওই দল। দেশের জাতীয় পতাকা ওঠানোর আগে হাতে গ্রেনেড নিয়ে পাকিস্তানি সেনার বাঙ্কার ওড়ানোর আগে শত্রু সেনাবাহিনীর উদ্দেশে চিৎকার করে বিক্রম বলে উঠেছিলেন, 'এই নে। মাধুরী দীক্ষিতের তরফে ভালোবাসা পাঠালাম তোদের!'

পরমুহূর্তে ধুলোয় মিশে গেছিল ওই অঞ্চলে থাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দখলে থাকা সবকটি বাঙ্কার। এই গোটা ঘটনটি প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছিল যখন এই শহীদ জওয়ানের ভাই বিশাল বাত্রা তাঁর ভাইয়ের এই দুঃসাহসিক কাণ্ডকারখানার কথা ছোটপর্দার জনপ্রিয় শো 'টেড টকস'-এ তুলে ধরেন।

 

বন্ধ করুন