বাড়ি > বায়োস্কোপ > নয়নতারার জাদুতে লাইফস্টাইল হোক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন…
ছবি গুগল।
ছবি গুগল।

নয়নতারার জাদুতে লাইফস্টাইল হোক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন…

বাড়ির আশেপাশে, বাগানের কোণে, অবহেলিত ভাবে বেড়ে ওঠা নয়নতারা গাছটি আসলে একটি জীবনদায়ী ভেষজ উদ্ভিদ। আয়ুর্বেদে এর গুণাবলী অপার। যদি নিয়ম করে এই ভেষজ গাছটিরা গুণাবলী প্রতিদিন ব্যবহার করতে শুরু করেন তাহলে আপনার জীবনও হবে রোগ মুক্ত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। আজই টবে লাগান নয়নতারা ফুলের গাছ।

সাধারণত অসুখ হলে তবেই আমরা অষুধ খাই এবং রোগ প্রতিরোধের ব্যপারে সচেতন হই। অনেক সময় এমন কিছু রোগ শরীরে দানা বাঁধে যা আমরা  আগে থেকে টেরও পাই না, এবং যখন তা ধরা পড়ে তখন আর কিছু করার থাকেনা। কিন্তু যদি আমরা ভিতর থেকে সুস্থ থাকি, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই তাহলে ডায়াবেটিস, ক্যানসার, ব্লাড প্রেসার, চর্মরোগ সহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ থেকে সহজেই রেহাই পেতে পারি। এমনকি কোভিডের ক্ষেত্রেও, যদি কারুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয় তাহলে তাঁর করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। অতএব দেরি না করে আজ থেকেই সচেতন হোন। রইল ঘরোয়া উপায়ে নয়নতারা গাছের দ্বারা রোগ প্রতিরোধের ম্যাজিক টিপস। নয়নতারার আদি নিবাস মাদাগাস্কার হলেও এখন আমাদের দেশে খুবই সহজলভ্য এই ভেষজ উদ্ভিদটি।

ছবি গুগল
ছবি গুগল

ডায়াবেটিস-- ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে নয়নতারা ফুলের গুরুত্ব অপরিসীম। নয়ন তারা গাছের ফুল ও মূল, শুকনো হলে ১ গ্রাম আর কাঁচা হলে ২ গ্রাম এক সঙ্গে করে মাঝারি মাপের ১ কাপ জলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে জলটা ছেঁকে ফুটিয়ে অর্ধেক কাপ করে নিন। এবার ওই জল অর্ধেক করে সকাল ও রাতে পান করুন।  দিন দশেক ব্যবহারের পর পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কয়েক দিনের মধ্যেই ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং অন্যান্য উপসর্গ গুলিও  কমে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আসবে ডায়াবেটিস অসুখ ।

ব্লাড প্রেসার-- আট থেকে ১০টি নয়নতারা পাতা বেটে তার থেকে রস বের করে নিন। সকালে বা রাতে শুতে যাওয়ার আগে সেই রস নিয়মিত পান করুন। এতে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এবং সুস্থ থাকবে হার্ট।

কৃমি রোগে-- দুই গ্রাম কাঁচা, আর যদি শুকনো হয় তাহলে এক গ্রাম পরিমানের  নয়নতারা গাছের  ফুল, মূল ও পাতাা একসঙ্গে এক কাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই জলটা ছেঁকে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিন। এরপর ওই জলটা দু'ভাগে ভাগ করে সকালে এবং রাতে  ৮ থেকে ১০ দিন পান করলে কৃমির সমস্যা চলে যায়। এটি ছোটদের দেবেন না। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

স্কিন সমস্যা এবং চর্ম রোগ-- নয়নতারার পাতা বেটে তার রস দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলে চুলকানি এবং ফাঙ্গাস জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়। পাতা সেদ্ধ করা জল ব্যবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও তরতাজা। নয়নতারার পাতার সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে বেটে ফেস প্যাক তৈরি করে মুখে লাগালে ত্বকের জেল্লা বাড়বে রাতারাতি।

মেধা বৃদ্ধি, --  নয়নতারা আসলে ব্রেনটনিক। নয়নতারার ফুল, মূল ও পাতা ২ গ্রাম পরিমানে ১ কাপ জলে সিদ্ধ করে নিন। জলটুকু ছেঁকে তা ফুটিয়ে  আধা কাপ করে নিন। এবার সেই জল অর্ধেক করে ভাগ করে সকাল-বিকাল টানা ১ মাস পান করলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে।

 অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও লিউকোরিয়া-- অনিয়মিত পিরিয়েড, মাসে একাধিক বার পিরিয়েড, অধিক স্রাব, পিরিয়েড কালীন যন্ত্রণা, ইত্যাদি থেকে মুক্তি পেতে নয়নতারা অপরিহার্য। এছাড়াও লিউকোরিয়ার মতো অসুখ থেকে মিলবে মুক্তি। উপরোক্ত যে কাঁথটির কথা বলা হয়েছে, সেটি মাস খানেক টানা খেলেই ফল পাওয়া যাবে।

অ্যাংজাইটি, টেনশন, স্ট্রেস -- আজকাল বেশ কিছু রোগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আমাদের ডেইলি লাইফে। রোজকার চাপ থেকে তৈরি হয় অ্যাংজাইটি, হাইপার টেনশন, ভুলে যাওয়ার সমস্যা, ঘুম না হওয়া ইত্যাদি। শরীরে যখন দানা বাঁধে এই সব রোগ তখন বোঝা যায় না, পরে কিন্তু এর থেকেই সৃষ্টি হয় মহা অসুখ। একমুঠো শুকনো নয়নতারা ফুল ও পাতা জলে ফুটিয়ে নিয়ে চায়ের মতো করে তৈরি করুন। এর পর সেটা ছেঁকে এক চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক কাপ করে খান। খুব তাড়াতাড়ি ফল পাবেন।

পোকার দংশনে--, মৌমাছি, ভোমরা,বোলতা, কাঠপিঁপড়ে প্রভৃতির হুলের জ্বালার ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে  নয়নতারার পাতা থেঁতো করে সেই রস বা পাতা বাটা লাগাতে হবে।

এছাড়াও ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ক্ষেত্রেও নয়নতারা অসাধারণ কাজ করে। দৃষ্টি শক্তি বাড়ানো, বাতের ব্যথা, রক্ত ক্ষরণ বন্ধ করা সহ প্রচুর সমস্যা সমাধান হয় এই ভেষজ গাছটির দ্বারা। তবে যাঁদের কিডনি, লিভার, হার্ট এবং পেট সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে আগে থেকে তাঁরা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই নয়নতারা ব্যবহার করুন।

বন্ধ করুন