বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > করোনায় ধুঁকছে প্রেক্ষাগৃহ, সিঙ্গল স্ক্রিন প্রাচীতে খোলা হচ্ছে ঝাঁ চকচকে বিপণি
প্রাচী সিনেমা। 
প্রাচী সিনেমা। 

করোনায় ধুঁকছে প্রেক্ষাগৃহ, সিঙ্গল স্ক্রিন প্রাচীতে খোলা হচ্ছে ঝাঁ চকচকে বিপণি

যদিও সিনেমা হলটি অক্ষত রেখেই এই বিপণি তৈরির কাজ চলছে।

করোনার কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে হল মালিকরা। ২০২০ সালের পর ২০২১ সালেও দীর্ঘিদিন ধরে বন্ধ রয়েছে প্রেক্ষাগৃহ। বদ্ধ জায়গায় করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। যদিও গোটা দেশজুড়েই এক হাল। তবে মাল্টিপ্লেক্সের থেকে বেশি খারাপ অবস্থা সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোর। এমনিতেও বেশ কিছু বছর ধরে সিনেমা দেখার জন্য মাল্টিপ্লেক্সকেই বেছে নিচ্ছে জনগণ। ফলে কিছুটা লোকসান তো ছিলই। তারওপর এভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা!

উত্তর কলকাতার অনেক নস্ট্যালজিয়ার সাক্ষী এই ‘প্রাচী’ সিনেমা হল। এবার একেবারে নতুন রূপে আসতে চলেছে দর্শকদের সামনে। সিনেমাহল প্রাঙ্গণেই রিটেল আউটলেট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রাচী সিনেমার কর্ণধার বিদিশা বসু। প্রাচী সিনেমা প্রাঙ্গণে তৈরি হচ্ছে, একটি জামা কাপড়ের আউটলেট। কোনও শপিং মলের কাছে ঐতিহ্যশালী ‘প্রাচী’ বিক্রি করে দিতে রাজি নন বিদিশা। তাই নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন রি-মডেলিংয়ের। আপাতত একতলা পুরোটাই, ও দোতলার কিছুটা অংশ জুড়ে হচ্ছে শোরুম। যার ফলে আগের তুলনায় আসন সংখ্যা কিছুটা কমে যাবে। কিন্তু টিকে থাকবে ‘প্রাচী’। 

১৯৪৮ সালে জিতেন্দ্রনাথ বসুর হাত ধরে শুরু হয়েছিল ‘প্রাচী’ সিনেমা হল। তারপর বংশপরম্পরায় তা আসে বিদিশার কাছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক বদল এনেছেন। আগে শুধু বাংলা ছবি দেখানো হতো। সময়ের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য এই হলে চালু করা হয় হিন্দি এবং ইংরেজি ছবি দেখানোও। স্ক্রিন থ্রিডি ছবি দেখানোর উপযোগীও করে তুলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, করোনা একটু স্তিমিত হলেই নতুন রূপে দর্শকদের মন ভোলাবে প্রাচী, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে!

বন্ধ করুন