বাড়ি > বায়োস্কোপ > অপমানিত হওয়ার ভয়ে সুশান্তের শেষকৃত্যে যাননি রিয়া, স্বীকার করলেন নিজের মুখে
রিয়া চক্রবর্তী (ছবি- ইনস্টাগ্রাম)
রিয়া চক্রবর্তী (ছবি- ইনস্টাগ্রাম)

অপমানিত হওয়ার ভয়ে সুশান্তের শেষকৃত্যে যাননি রিয়া, স্বীকার করলেন নিজের মুখে

  • ‘আমি তৈরি ছিলাম ওর শেষকৃত্যে যাব বলে, কিন্তু আমার ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুরা আমাকে বলল ওঁর পরিবার চায় না আমি সেখানে থাকি’, দাবি রিয়ার।

মাদক চক্রের সঙ্গে রিয়া চক্রবর্তীর যোগসূত্রের হদিশ পাওয়ার খবর সামনে আসবার পর বুধবারই রিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। সুশান্তের মৃত্যু মামলায় তৃতীয় কেন্দ্রীয় সংস্থার যোগদানের কয়েকঘন্টার মধ্যেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হলেন রিয়া চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার বেশ কিছু নির্বাচিত সংবাদ মাধ্যমে মুখ খোলেন রিয়া।

বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে রিয়া সুশান্তের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ও তাঁর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেন।

সুশান্তের মৃত্যুর খবর কীভাবে পৌঁছাল রিয়ার কাছে, কী হয়েছিল ১৪ জুনের ওই দুপুরে?

সুশান্তের লিভ ইন পার্টনার ১৪ তারিখ সুশান্তের মৃত্যুর দিনের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘১৪ তারিখ আমি আমরা বাড়িতেই ছিলাম। আমার এক বন্ধু আমাকে ফোন করেছিল এবং আমাকে বলেছিল এইরকম শুনছি, তুই সুশান্তকে বল একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার করে দিতে। ও জানত না আমি সুশান্তের সঙ্গে নেই। এর মিনিট পনেরোর মধ্যে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায়'। 

সুশান্তের মৃত্যুর পর প্রয়াত অভিনেতাকে শেষবার দেখতে কুপার হাসপাতালের পৌঁছেছিলেন রিয়া। সেই নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি,  সুশান্তের শেষকৃত্যে দেখা মিলেনি অভিনেত্রীর। কিন্তু কেন সুশান্তের শেষ কয়েক মাসের লিভ-ইন পার্টনার হাজির ছিলেন সুশান্তের শেষকৃত্যে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সুশান্তের পরিবারের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুললেন রিয়া। 

জলেবি নায়িকা বলেন, 'আমি তৈরি ছিলাম ওর শেষকৃত্যে যাব বলে, কিন্তু আমার ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুরা আমাকে বলল ওঁর পরিবার চায় না আমি সেখানে থাকি। আমাকে অপমান করা হত, আমাকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হত ওখান থেকে। আমার এক বন্ধু বলল সুশান্তকে শেষবার দেখাটা আমার জন্য খুব জরুরি। কারণ সেটা না করলে আমার এই সত্যিটা মেনে নেওয়া সম্ভব হবে না যে ও আর এই দুনিয়ায় নেই'।

রিয়া জানান, ৮ জুন সুশান্ত নাকি তাঁকে বান্দ্রার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চলে যেতে বলেছিলেন। এবং সেই কথা শুনেই মন ভেঙে গিয়েছিল তাঁর। সেই সময় নিজেই মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন তিনি। রিয়া বলেন, ‘আমার খুব খারাপ লাগছিল যে ও আমাকে পাল্টা ফোন করল না। ও আমাকে ফিরে যেতে বলল না। ওর জন্য কী সব শেষ হয়ে গিয়েছিল? এইটুকুই ছিল (আমাদের সম্পর্ক) ? আমি অসুস্থ তাই কি ও আর আমাকে ভালোবাসো না ? কেউ এইরকম বললে খারাপ তো লাগবেই’।

রিয়ার দাবি তিনি কোনওভাবেই সুশান্তকে একা ছেড়ে দেননি। ৮ জুন বিকালেই সুশান্তের দিদি মীতু সিংয়ের ওই অ্যাপার্টমেন্টে আসবার কথা ছিল, তাই পরিবারের জিম্মাতেই সুশান্তকে রেখে এসেছিলেন তিনি।

সুশান্তের পরিবারের তরফে রিয়ার বিরুদ্ধে সুশান্তকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া, অভিনেতার সঙ্গে আর্থিক ও মানসিক প্রতারণার অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করা হয় গত ২৫ জুলাই। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে গত ৫ অগস্ট সুশান্ত মামলায় এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। শুক্রবার অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রশ্নের মুখে রিয়া। শীঘ্রই মাদকচক্রে রিয়ার যোগসূত্র প্রসঙ্গে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর জেরার মুখেও পড়তে হবে রিয়াকে।

বন্ধ করুন