বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ওয়াজিদকে চুপিসাড়েই কিডনি দান করেছিল বৌদি,এতদিনে জানালেন প্রয়াত সংগীত শিল্পীর মা
ওয়াজিদ খানকে কিডনি দান করেছিলেন বৌদি লুবনা, জানালেন মা
ওয়াজিদ খানকে কিডনি দান করেছিলেন বৌদি লুবনা, জানালেন মা

ওয়াজিদকে চুপিসাড়েই কিডনি দান করেছিল বৌদি,এতদিনে জানালেন প্রয়াত সংগীত শিল্পীর মা

  • সাজিদ খান পত্নী লুবনা কিডনি দান করেছিলেন দেওর ওয়াজিদ খানকে। ইন্ডিয়ান প্রো মিউজিক লিগের মঞ্চে জানালেন প্রয়াত শিল্পীর মা। 

করোনা সংকটের সময় ২০২০ সাল জুড়ে বলিউড হারিয়েছে একাধিক সদস্যকে। গত বছর ১লা জুন মাত্র ৪২ বছর বয়সে প্রয়াত হন বলিউডের হিট মিউজিক্যাল জুটি ‘সাজিদ-ওয়াজিদ’-এর ওয়াজিদ খান।  সম্প্রতি ওয়াজিদের মা এবং দাদা সাজিদ জানালেন প্রয়াত শিল্পীকে কিডনি দান করেছিলেন তাঁর বৌদি (সাজিদের স্ত্রী)। ২০১৯ সালে কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল ওয়াজিদ খানের। ওয়াজিদ খানের মা রাজিনা দেবী জানান, সাজিদের স্ত্রী লুবনা চুপিসাড়েই দেওরকে নিজের কিডনি দান করেছিলেন। সম্প্রতি এক মিউজিক রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চে হাজির হয়েছিল প্রয়াত সংগীত শিল্পীর পরিবার। 

প্রয়াত ছেলেকে স্মরণ করে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি রজিনা দেবী। ইন্ডিয়ান প্রো মিউজিক লিগের একটি এপিসোডে শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হল ওয়াজিদ খানকে, সেই সূত্রেই মঞ্চে হাজির ছিলেন তাঁরা। পৌঁছেছিলেন সাজিদ খান পত্নী লুবনাও। 

ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকায় ছেলেকে কিডনি দান করতে পারেননি তিনি, রজিনা খান বলেন,  ‘আমরা আমাদের সমস্ত আত্মীয়দের বলেছিলাম, কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। কিন্তু সেই সময় লুবনা কাউকে কিছু না বলে নিজে সমস্ত পরীক্ষা করায় এবং ওয়াজিদে নিজের কিডনি দেয়। আজকের দিনে তো বাবা-মা’ও ছেলেমেয়েকে কিডনি দেয় না, আর ও বৌদি হয়ে দু'বার ভাবেনি ওয়াজিদকে কিডনি দেওয়ার আগে'। 

দাদা-বৌদির সঙ্গে প্রয়াত সংগীত শিল্পী (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
দাদা-বৌদির সঙ্গে প্রয়াত সংগীত শিল্পী (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)

লুবনা জানান, ‘আমি যেদিন জেনেছিলাম ওর (কিডনি) ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রয়োজন আমি কাউকে কিছু বলিনি, কিন্তু সব পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। শেষ পরীক্ষার আগে আমি ওয়াজিদকে সবটা বলি, আর জানাই যদি আমাদের সব পরীক্ষার ফল আশানুরূপ আসে তাহলে কিন্তু আমরা ট্রান্সপ্ল্যান্ট করিয়ে নেব। ও খুব ভেঙে পড়েছিল, কিন্তু আমি ওকে বুঝিয়েছিলাম ও আমার জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। এরপর ও বাকরুদ্ধ হয়ে যায়’। লুবনার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান স্বামী সাজিদ খান, শাশুড়ি এবং সন্তানেরাও যোগ করেন তিনি নিজে। 

স্মরণে সাজিদ
স্মরণে সাজিদ

সাজিদ খান বলেন, ‘ওয়াজিদ ২ বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিল, মা নিয়মিত ওর খেয়াল রাখত। কোনওদিন ছেলেকে কাছ ছাড়া করেনি। স্ত্রীর সিদ্ধান্ত শুনে আমি কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু ও যা করেছে তার জন্য আমি গর্বিত’। 

ওয়াজিদ খান স্ত্রী কমালরুখ খানের সঙ্গে যদিও শ্বশুরবাড়ির একেবারেই ভালো সম্পর্ক নয়। স্বামীর মৃত্যুর পর গত নভেম্বরে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন তিনি। জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি। সেজন্য বরাবর শ্বশুরবাড়ির তরফে চাপ দেওয়া হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পরও হেনস্থা অব্যাহত আছে।

গত বছর ১লা জুন মধ্যরাতে মুম্বইয়ের সুরানা সেঠিয়া হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওয়াজিদ খানের। সাজিদ সেই সময় জানিয়েছিলেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওয়াজিদের। থ্রোট ইনফেকশন বা গলায় সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি, জানান দাদা সাজিদ খান। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর সেই সংক্রান্ত চিকিত্সাও জারি ছিল। 

 

বন্ধ করুন