বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘মহারাজা’র জন্মবার্ষিকী, ‘তুমি চিরন্তন, তুমি অসীম, তুমি অপরাজিত’, মন্তব্য জিতুর
সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকী! মহারাজা, তোমারে সেলাম…
সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকী! মহারাজা, তোমারে সেলাম…

‘মহারাজা’র জন্মবার্ষিকী, ‘তুমি চিরন্তন, তুমি অসীম, তুমি অপরাজিত’, মন্তব্য জিতুর

  • ‘তুমি আমার মত প্রতিটি বাঙালির নিঃশ্বাস প্রশ্বাস..তুমি আমাদের অহংকার, আমাদের উচ্ছ্বাস। সত্যজিতের ১০১তম জন্মদিনে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য', মন্তব্য 'অপরাজিত’ জিতু কমলের।

২ মে, সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকী। বাংলা সিনেমা যাঁর হাত ধরে এখনও পর্যন্ত এগিয়ে চলেছে। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে অনীক দত্তর নতুন ছবি 'অপরাজিত'। সাদা- কালো ফ্রেমে 'মানিক দা'... যেন ফিরে যাওয়া কয়েক যুগ আগে। ১৩ মে মুক্তি পাবে এই ছবি। ছবির মূল চরিত্র অপরাজিত রায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জিতু কমল।

ছবির জন্য মানিকবাবুর মতো করে নিজেকে গড়েপিঠে তুলতে রীতিমতো কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে জিতুকে। সেই বসা, সেই সিগারেট ধরার স্টাইল, সেই মুখ-- ভাষা হারিয়েছিল ‘রে-লাভার’রা। আজ সত্যজিৎ রায়ের ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে বিশেষ শুভেচ্ছা জানালেন অভিনেতা জিতু কমল। আরও পড়ুন: Satyajit Ray 101st birthday: ‘এ কলকাতার মধ্যে আছে আরেকটা কলকাতা’, পুরনো সেই শহরের দলিল লিখেছিলেন সত্যজিৎ রায়

সামাজিক মাধ্যমে সত্যজিৎ রায়ের ছবি শেয়ার করে অভিনেতা লিখেছেন, ‘তুমি আমার মত প্রতিটি বাঙালির নিঃশ্বাস প্রশ্বাস.. তুমি আমাদের অহংকার, আমাদের উচ্ছ্বাস। সত্যজিতের ১০১তম জন্মদিনে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য।’ ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’-এর টাইটেল ট্র্যাক বাজছে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে। পোস্টারে বড় বড় হরফে লেখা, ‘তুমি চিরন্তন, তুমি অসীম, তুমি অপরাজিত।’ আরও পড়ুন: Aparajito: সত্যজিতের শতবর্ষ মাথায় রেখে 'অপরাজিত'র পরিকল্পনা করা হয়নি: অনীক দত্ত

'অপরাজিত'-এ আরও অভিনয় করছেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ প্রমুখ। ছবিতে সবার নামের বদল হয়েছে। সায়নী ঘোষ অভিনয় করেছেন অপরাজিত রায়ের স্ত্রীর ভূমিকায়। তাঁর চরিত্রের নাম বিমলা রায়। বীরভূম, কলকাতার শিশির মঞ্চ, নন্দন থেকে শুরু করে আরও বেশ কিছু লোকেশনে শ্যুট করা হয় ছবির।

১৯২১ সালের ২ মে উত্তর কলকাতার গড়পার রোডের বাড়িতে সাহিত্য ও শিল্প সমাজে খ্যাতনামা রায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সত্যজিৎ ছিলেন বহুমুখী এবং তাঁর কাজের পরিমাণ বিপুল। ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। তাঁর নির্মিত প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫) ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে, এর মধ্যে অন্যতম ১৯৫৬ কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া ‘শ্রেষ্ঠ মানুষে-আবর্তিত প্রামাণ্যচিত্র’ পুরস্কার। ১৯৯২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘ভারত-রত্ন’ এবং ‘পদ্মভূষণ’ সম্মাননা প্রদান করে। ২০০৪ সালে বিবিসির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি তালিকায় সত্যজিৎ রায় ১৩তম স্থান লাভ করেছিলেন।

দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মজীবনে ‘অপুর সংসার’, ‘পরশপাথর’, ‘জলসাঘর’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘চারুলতা’, ‘দেবী’, ‘মহানগর’, ‘অভিযান’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘জয়বাবা ফেলুনাথ’ মতো একাধিক ছবি তাঁর সৃষ্টি। সিনেমা, সাহিত্যের বাইরে টাইপোগ্রাফিতে তিনি সেরা। ‘সন্দেশ’ সম্পাদনায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব। বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরিতে তিনি অদ্বিতীয়। সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে মুগ্ধতার শেষের নয়।

সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকী! মহারাজা, তোমারে সেলাম…

 

বন্ধ করুন