বাড়ি > বায়োস্কোপ > ৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে রিয়ার পিটিশনের শুনানি,আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে দুই রাজ্য
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি 
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি 

৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে রিয়ার পিটিশনের শুনানি,আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে দুই রাজ্য

  • রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সুশান্তকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন প্রয়াত অভিনেতার বাবা। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড হবে রিয়ার। 

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর প্রায় দেড় মাসের মাথায় সুশান্তের বান্ধবীকে রিয়া চক্রবর্তীকে সুসান্তের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে পাটনা পুলিশে গত শনিবার এফআইআর দায়ের করেন প্রয়াত অভিনেতার বাবা। রিয়ার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া, প্রতারণা,ষড়যন্ত্র -একাধিক  ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে সুশান্তের পরিবার,গত মঙ্গলবার এই খবর প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকে সময় যতই গড়িয়েছে ততই অস্বস্তিতে বেড়েছে রিয়া চক্রবর্তীর। বুধবারই সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেন রিয়া। রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানেসিন্ধে নিজের মক্কলেরে তরফে সেই পিটিশনে জানিয়েছেন, পাটনা পুলিশের থেকে মুম্বই পুলিশের হাতে এই মামলার তদন্তভার অবিলম্বে স্থানান্তরিত করা হয়। অবশেষে এই পিটিশনের শুনানির দিন সামনে এল।

রিয়া জরুরি ভিত্তিতে এই আবেদনের শুনানি দাবি করলেও পিটিশন দাখিলের প্রায় সাতদিন পর অর্থাত্ বুধবার, ৫ই অগস্ট এই পিটিশনের শুনানি হবে সর্বোচ্চ আদালতে। এখন এই দিনটির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শুধু রিয়া চক্রবর্তী বা সুশান্তের পরিবার নয়-মহারাষ্ট্র ও বিহার সরকারও। কারণ এই মামলার তদন্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে উদ্ধব ঠাকরে ও নীতিশ কুমার সরকার। রিয়ার পিটিশনের পাল্টা ক্যাভিয়েট সুপ্রিট কোর্টে বৃহস্পতিবার দাখিল করেছিলেন সুশান্তের বাবা কেকে সিং। রিয়ার পিটিশন শোনার আগে যাতে সুশান্তের পরিবারের পক্ষ শোনে কোর্ট, সেকথা বলা হয়েছে ক্যাভিয়েটে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিহার ও শুক্রবার মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে এই মামলা সংক্রান্ত ক্যাভিয়েট দায়ের রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। 

মহারাষ্ট্র সরকারের সাফ মন্তব্য  এই মামলা পাটনা পুলিশের আইনগত অধিকারক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে না তাই কোনওভাবেই এই মামলার তদন্ত করতে পারেনা পাটনা পুলিশ। অন্যদিকে কেন এই মামলার তদন্তের জন্য চারজনের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল মুম্বইয়ে পাঠানো হয়েছে তাঁ সর্বোচ্চ আদালতকে জানাবেন নীতিশ কুমার সরকার।এই মামলায় বিহার সরকারের প্রতিনিত্ব করছেন প্রাক্তন অ্যাটোর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতগি।

গত ১৪ জুন মুম্বইয়ের বান্দ্রার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সুশান্তের দেহ। ২৫ জুলাই সুশান্তের বাবা কেকে সিং,রিয়া ও অভিনেত্রীর পুরো পরিবার এবং ম্যানেজাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত, সুশান্তের সঙ্গে প্রতারণা (আর্থিক ও মানসিক) এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো অভিযোগ এনেছেন কেকে সিং। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ (আত্মহত্যায় প্ররোচনা), ৩৪১,৩৪২,৩৮০,৪০৬, ৪২০-ধারায় পাটনার রাজীব নগর থানায় অভিযোগ জানিয়েছে সুশান্তের পরিবার।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুম্বই পুলিশ। মুম্বই পুলিশে আস্থা নেই সুশান্তের পরিবারের তাও স্পষ্ট। গত তিন-চারদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার ট্রেন্ড হচ্ছে #ShameOnMumbaiPolice, সুশান্তের পরিবারের আইনজীবীও প্রশ্ন তুলেছেন মুম্বই পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। তাঁর দাবি এই মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রিয়া চক্রবর্তীকে পাচার করছে মুম্বই পুলিশের অন্দরের কেউ। বিহার পুলিশ টিমের সঙ্গে অসহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে মুম্বই পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে শনিবার বিহারের ডিজিপি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পেলে তবেই নাকি এই মামলার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র পাটনা পুলিশকে দেবে মুম্বই পুলিশ। তাই আপতত বুধবারের অপেক্ষায় সকলেই। 

বন্ধ করুন