বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > 'সন্ন্যাসী রাজা' সাজার পরপরই গুরুতর অস্ত্রোপচার, তারপর? স্মৃতিচারণ সাহেবের
সাহেব চট্টোপাধ্যায়। (ছবি সৌজন্যে - ফেসবুক)
সাহেব চট্টোপাধ্যায়। (ছবি সৌজন্যে - ফেসবুক)

'সন্ন্যাসী রাজা' সাজার পরপরই গুরুতর অস্ত্রোপচার, তারপর? স্মৃতিচারণ সাহেবের

  • বছর কয়েক আগে 'সন্ন্যাসী রাজা' নামের ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা গেছিল সাহেব চট্টোপাধ্যায়কে।শেষ না হওয়া ওই প্রোজেক্ট নিয়ে এতদিন পর মুখ খুললেন তিনি।ফেসবুকে জানালেন ওই ধারাবাহিকের নানান অজানা কথা।

বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখের নাম সাহেব চট্টোপাধ্যায়। দক্ষ অভিনেতার পাশাপাশি তিনি একজন কণ্ঠশিল্পীও বটে। বছর কয়েক আগে 'সন্ন্যাসী রাজা' নামের মেগাতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা গেছিল তাঁকে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই অত্যন্ত জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছিল সেই ধারাবাহিক। প্রশংসিত হয়েছিল সাহেবের অভিনয়ও। তবে সেই ধারাবাহিক শুরু হওয়ার মাস কয়েকের মধ্যেই চরম বিপর্যয় নেমে আসে এই অভিনেতার জীবনে। আরও ভালো করে বললে শারীরিক বিপর্যয়। সম্প্রতি, ফেসবুকে সেই কথন সময়ে লড়াইয়ের কথা নিজের অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়।

তবে 'সন্ন্যাসী রাজা' সাজার পাশাপাশি এই ধারাবাহিকে বেশ কয়েকটি গানও গেয়েছিলেন সাহেব। তার মধ্যে অন্যতম ছিল মান্না দে-র গাওয়া সেই বিখ্যাত গান 'কাহারবা নয় দাদরা বাজাও'. অন্য আর পাঁচজন সংগীতপ্রেমীর মতো অভিনেতার নিজেরও এই গানখানা ভারি পছন্দের। তবে এরপর হঠাৎই শারীরিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন এই অভিনেতা। এই ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীনই neuro spine disc prolapse এ আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এরপর বেশ বড়সড় অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর।

অভিনেতার লেখা ওই পোস্টার মারফত আরও জানা গেল এই ধারাবাহিকে অভিনয় করার প্রথম দিন থেকেই তাঁর একটি আধটু ভয় ছিল যে ওই চরিত্রে দর্শক তাঁকে গ্রহণ করবে কি না? কারণ 'সন্ন্যাসী রাজা' বলতে যাঁর মুখ দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে তিনি উত্তমকুমার। সুতরাং চ্যালেঞ্জ যে বড় ছিল তা বলা বাহুল্য। উত্তমকুমার যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সাহেবের অনুপ্রেরণা সেকথাও অকপটে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁদের এই ধারবাহিক যে উত্তম অভিনীত 'সন্যাসী রাজা'-র গল্প থেকে আলাদা ছিল সেকথাও উল্লেখ করতে ভোলেননি তিনি।

যাই হোক, এরপর ফের মান্না দে-র গাওয়া সেই গানখানা রেকর্ড করার প্রসঙ্গে ফায়ার যান অভিনেতা। জানিয়েছেন, প্রথমে মান্না দে-র গাওয়া সেই গানখানার সঙ্গেই তাঁদের শুটিং সারা হয়ে গেছিল। তবে এরপর প্রযোজকের চাহিদা অনুযায়ী তিনি ওই গান রেকর্ড করেন। ফলে আরও একবার ডাবিং করতে হয়েছিল তাঁদের। যা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কারণ হিসেবে সাহেবের যুক্তি। সাধারণত প্লেব্যাকের পর শুটিং হয়। তবে এক্ষেত্রে সেই ঘটনাটা ছিল উল্টো। আরও জানা গেল এই গান রেকর্ডিংয়ের আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। শরীর এতটাই খারাপ ছিল তাঁর। রীতিমতো ব্যাথা কমানোর ওষুধ খেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই গানখানার রেকর্ড শেষ করেছিলেন তিনি।

নিজের বক্তব্যের শেষে অভিনেতার সংযোজন,' এই গল্পটা শেয়ার করার অন্যতম কারণ এতকিছুর পরে সন্ন্যাসী রাজা প্রজেক্টটা আর শেষ হয়নি। প্রোজেক্টটা অত্যন্ত প্রিয় ছিল আমার।' এরপর সেই গানের ভিডিওখানাও শেয়ার করেছেন সাহেব।

বন্ধ করুন