বাড়ি > বায়োস্কোপ > করোনায় প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু, শোকপ্রকাশ করলেন শাকিব,শুভরা
প্রয়াত সাদেক বাচ্চু 
প্রয়াত সাদেক বাচ্চু 

করোনায় প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু, শোকপ্রকাশ করলেন শাকিব,শুভরা

  • গত ৬ সেপ্টেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সাদেক বাচ্চুকে। এরপর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

করোনার বলি ওপার বাংলার বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। সোমবার ঢাকার মহাখালির ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা। গত কয়েকদিন ধরেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন সাদেক বাচ্চু। এদিন দুপুর ১২টা বেজে ৫ মিনিটে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। 

বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমধ্যম সূত্রে খবর, গত ৬ সেপ্টেম্বর তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এই প্রবীণ শিল্পীকে। করোনার উপসর্গ ছিল, পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মহাখালির ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ স্থানান্তরিত করা হয়। তবে শেষরক্ষা হল না, আজ দুপুরে মাল্টি অর্গাল ফেলিউরের কারণে মৃত্যু হয় তাঁর। বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগ, ডাইয়াবেটিস সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বছরখানেক আগে তাঁর হার্টের অপারেশনও হয়েছিল। 

‘রামের সুমতি’র মাধ্যমে ১৯৮৫ সাল চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন সাদেক বাচ্চু।যদিও রেডিওর সঙ্গে ষাটের দশক থেকেই যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৬৩ সালে খেলাঘরের মাধ্যমে রেডিওতে অভিনয় শুরু করেছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। বাংলাদেশের মুক্তি-যুদ্ধের সময় গণ-নাট্যে যোগ দেন অভিনেতা। প্রায় ষাট দশক দীর্ঘ কেরিয়ারে মঞ্চ থেকে শুরু করে বেতার,টেলিভিশন, সিনেমা-সর্বত্র দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সাদেক বাচ্চু। 

 সুজন সখি (১৯৯৪),আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭),আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭),বধূবরণ (২০০৮),ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩) সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন সাদেক বাচ্চু।  ২০১৮ সালে ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান অভিনেতা।

তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন শাকিব খান, আরিফিন শুভ, বুবলির মতো ওপার বাংলার প্রথম সারির তারকারা।

২০ বছরের সহকর্মীকে হারিয়ে শোকবিহ্বল শাকিব খান। তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন- ‘সাদেক বাচ্চু ভাই শুধু আমার সহশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন চলচ্চিত্রে আমার অভিভাবকদের একজন। আমাকে তিনি সবসময় আগলে রেখে ভালোর পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিতেন। মানসিক সাপোর্ট দিয়ে সাহস যোগাতেন। নিয়মিত আমার খোঁজখবর রাখতেন। সহশিল্পী কিংবা অভিভাবকত্বের বাইরেও বাচ্চু ভাই আমার প্রতি এক অদৃশ্য মায়া দেখাতেন। তিনি আর নেই শোনা মাত্রই আমার ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। একজন সহকর্মী হারানোর চেয়ে আমার ব্যক্তিগত বেদনা লাগছে। মনে হচ্ছে, আমি আমার কোনো এক স্বজনকে হারালাম। পরম শ্রদ্ধায় সাদেক বাচ্চু ভাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যেখানেই থাকবেন দোয়া করি শান্তিতে থাকবেন’।

বন্ধ করুন