বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘বাড়ি থেকে শ্যুটিং বন্ধের প্রশ্নই নেই, টেকনিশিয়ানদের ভুল বোঝানো হচ্ছে’, ফেডারেশনকে কড়া জবাব প্রযোজকদের
টলিপাড়ায় নতুন ট্রেন্ড শ্যুট ফ্রম হোম
টলিপাড়ায় নতুন ট্রেন্ড শ্যুট ফ্রম হোম

‘বাড়ি থেকে শ্যুটিং বন্ধের প্রশ্নই নেই, টেকনিশিয়ানদের ভুল বোঝানো হচ্ছে’, ফেডারেশনকে কড়া জবাব প্রযোজকদের

  • 'আমরা কাউকে বঞ্চিত করছি না, ইউনিটের সকলকে টাকা দেওয়া হবে', জানালেন টেন্ট সিনেমার কর্নধার সুশান্ত দাস। 

করোনার জেরে রাজ্যজুড়ে জারি রয়েছে বিধিনিষেধ। সেই গেড়োয় পরেই গত দু-সপ্তাহ ধরে শ্যুটিং বন্ধ টলিপাড়ায়। ইতিমধ্যেই বিধিনিষেধের মেয়াদ ১৫ জুন পর্যন্ত বেড়েছে। এই অবস্থায় কিছুটা বাধ্য হয়েই টেলিভিশনের কলাকুশলীরা এখন ‘শ্যুট ফ্রম হোম’-এর মাধ্যমে কাজ সারছেন। কিন্তু এর জেরে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। ফেডারেশনের তরফে প্রযোজকদের চিঠি দিয়ে রীতিমতো কড়া ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘এই লকডাউন পিরিয়ডে শ্যুটিং করলে আমাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। রবিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ বৈঠকে ফেডারেশনের এই চিঠিরই জবাব দিল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েশন অফ টেলিভিশন প্রোডিউসার (WATP)-এর সদস্যরা। 

সাংবাদিক বৈঠকে শামিল হয়েছিলেন শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুশান্ত দাসের মতো প্রথম সারির বাংলা টেলিভিশনের প্রযোজকরা। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, ‘নিজেদের পকেট ভরতে প্রযোজকরা বাড়ি থেকে শ্যুটিং চালাচ্ছে, টেকনিশিয়ানদের বঞ্চিত করছে- এটা সম্পূর্ণ ভুল’। 

ম‍্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স-এর অন্যতম প্রযোজক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘আমার ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছি, সরকারি বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছি না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য এখান থেকে যেন ব্যবসা বাইরে না চলে যায়। চ্যানেল যাতে রেভেনিউ পায়, সবচেয়ে বড় কথা টেকনিশিয়ানরা যেন বঞ্চিত না হন’। কৃষ্ণকলি,অপরাজিতা অপু, তিতলি-র মতো ধারাবাহিকের প্রযোজক সুশান্ত দাস যোগ করেন, ‘আমরা বাড়ি বসে পয়সা লুটে নিচ্ছি এমনটা নয়। আমরা শুরু থেকেই ভেবে রেখেছি সকল টেকনিশিয়ানকে টাকা দেওয়া হবে। তাঁদের প্রাপ্য দেওয়া হবে। টেকনিশিয়ানদের বাদ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি চলবে না। কিছু দাদারা তাঁদের ভুল বোঝাচ্ছেন’। 

ওয়ার্ক ফ্রম শ্যুটের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ভুলে টেকনিশিয়ানদেরও সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে প্রযোজকরা। তাঁরা বলেন, মেক-আপ আর্টিস্ট বা হেয়ার ড্রেসাররা বাড়ি গিয়ে মহিলা শিল্পীদের সাহায্য করতে পারেন। কিংবা ক্যামেরাপার্সনরা যদি অভিনেতাদের বাড়ি গিয়ে সাহায্য করতে পারেন। সেই সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা কিংবা সরকারি অনুমতিও প্রযোজকরা নিতে প্রস্তুত। যে সকল ইউনিটের সদস্যরা বাড়ি থেকে শ্যুটিং করছেন, তাঁদের সকলেই পারিশ্রমিক পাবেন আশ্বস্ত করল প্রযোজকরা।

মুম্বইয়ের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির উদাহরণ টেনে অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্টের সানি ঘোষ বলেন, ‘ওখানে সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করছে। ফেডারেশনের এগিয়ে এসে বলা উচিত কীভাবে আমরা একসঙ্গে মিলে কাজ করতে পারি। যাতে কাজের সার্বিক উন্নয়ন করা যেতে পারে। ইতিমধ্যেই চ্যানেল বাইরে গিয়ে শ্যুটিং করবার কথা বলছে, তাঁরা ঝমেলা এড়াতে চাইছেন। আপনরা বলুন, আমরা ই্ন্ডাস্ট্রিটাকে পিছিয়ে যাব নাকি এগিয়ে নিয়ে যাব?'

নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে না-রাজ প্রোডিউসাররা, স্বাভাবিকভাবেই ফেডারেশনের সঙ্গে প্রযোজকদের সংঘাত এখন প্রকাশ্যে। তবে ইন্ডাস্ট্রির কথা ভেবে কোনও মধ্যবর্তী রাস্তা খুঁজে নেবে উভয় সংগঠন- এমনটাই চাইছেন শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা। 

বন্ধ করুন