বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘ওখানেও তোমার ফাইটিং স্পিরিট শিখিয়েছ', জন্মবার্ষিকীতে সৌমিত্র-স্মরণে বুম্বাদা
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

‘ওখানেও তোমার ফাইটিং স্পিরিট শিখিয়েছ', জন্মবার্ষিকীতে সৌমিত্র-স্মরণে বুম্বাদা

  • ১৫ জানুয়ারি কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী। এদিন সৌমিত্র-স্মরণে আবেগঘন পোস্ট প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের।

৬০ বছরের বেশি অভিনয় জীবন, তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয়। আজ ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতাকে, জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইট করেছেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

টুইটে প্রয়াত অভিনেতাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়ে প্রসেনজিৎ লিখেছেন, ‘ভালো আছো তো সৌমিত্র কাকু? আমি নিশ্চিত ওখানেও সবাইকে তোমার ফাইটিং স্পিরিট শিখিয়ে দিয়েছ। প্রণাম নিও’। পর্দার বাইরেও ব্যক্তিগত জীবনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে খুব কাছের সম্পর্ক ছিল প্রসেনজিৎ-এর। কিংবদন্তি অভিনেতার চলে যাওয়ার শোক তাই তাঁর কাছে পিতৃহারার শোকের মতোই।

সাংস্কৃতিক আইকন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বহুমুখী প্রতিভার সম্ভার তিনি। একাধারে নাট্যকার, কবি, পরিচালক, চিত্রশিল্পী শুধু এতটুকুতেই শেষ নয়; পত্রিকা সম্পাদক, অভিনেতা হিসেবেও বাঙালির মনের মণিকোঠায় আজীবন জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

ইন্ডাস্ট্রিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম কাছের মানুষ ছিলেন বুম্বাদা। দু'জনই বাংলার দুই প্রজন্মের সুপারস্টার। অগণিত মানুষের আইকন প্রয়াত অভিনেতা। একসঙ্গে ৩৯টি ছবিটিতে অভিনয় করেছেন দুজনে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চলে যাওয়া যেন একজন অভিভাবক হারানো মতো প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে।

১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি অভিনতার। পিতা মোহিত কুমার চট্টোপাধ্যায়, মা আশালতা চট্টোপাধ্যায়। ছেলেবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ, পাশাপাশি বই পড়ার প্রতি টান ছিল অসীম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রথম সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘অপুর সংসার’ ছবিতে অভিনয় করেন।

পরবর্তীকালে তিনি মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত প্রখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেন। তার অভিনীত চরিত্রগুলোর ভিতর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দর্শক সমাদ্রিত হল ‘ফেলুদা’। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সোনার কেল্লা এবং জয়বাবা ফেলুনাথ ছবিতে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের মনের মণিকোঠায় জয়গা করে নিয়েছেন। 

সিনেমা ছাড়াও তিনি বহু নাটক, যাত্রা এবং টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। আর মঞ্চনাটকেও তাঁর ছিল পদচারণা। অভিনয় ছাড়াও নাটক ও কবিতা লিখেছেন প্রচুর। দুর্দান্ত আবৃত্তিকার ছিলেন। জীবনের প্রায় পুরোটাই বিলিয়ে দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য। গত পাঁচ দশক ধরে নিরন্তর ছবিও এঁকে চলেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সে সব পেন্টিং, স্কেস এর প্রদর্শনী হয়েছে ইন্ডিয়ান কাউনসিল ফর কালচারাল রিলেশনসে। পদ্মভূষণ, সংগীত নাটক একাডেমি, দাদা সাহেব ফালকে সহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। 

 

 

বন্ধ করুন